100 GB Free Backup
This post has been seen 375 times.

বিজয় দিবসে প্রজন্মের জয়ধ্বনি !- কেয়া চৌধুরী
সমাজকর্মী ও সংসদ সদস্য

লাখ লাখ শহীদের রক্ত মাখা, সবুজ রূপে লাল সূর্য্যআঁকা, এইতো আমাদের জাতীয় পতাকা। এক সাগর রক্তের বিন্দুু বিন্দুু রক্তের রেখা দিয়ে লেখা আমাদের পবিত্র সংবিধান। বাংলার মাঠে-ঘাটে পরতে-পরতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ, গৌরবের কত-না মুক্তা ছাড়ানো এই তো আমাদের বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশ বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন। যে অর্জনের মূলে ছিল দেশপ্রেম। মাতৃভূমির প্রতি প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা। পৃথিবীর বুকে আর কয়টি দেশ আছে? যে দেশের নিরিহ, নিরপরাধ, নিরস্ত্র জনগণ হয়েও শুধুমাত্র দেশমাতৃকাকে মুক্ত করার জন্য, জীবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত হয়েছে। মানুয় হয়ে মানুষ দ্বারা অপমান লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে। নিরস্ত্র থেকে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে। পৃৃথিবীকে জানান দিয়েছে, বাংলাদেশ নামে একটি রাষ্ট্র মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নিতে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালের এই গৌরবের কথা আমাদের সবার জানা। সঠিক ইতিহাসের গর্বকে আরো দৃঢ়ভাবে বুকে ধারণ করার ক্ষমতা অর্জন করতে যাচ্ছি আমরা, অন্ধকারকে বেধ করে আলোর যাত্রী হয়ে। আমরা জেনেছি, আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা আমাদের স্বাধীনতার গর্বকে অর্জন করেছেন মুক্তির সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।

তাই তো প্রাণ ভরে গাইতে পারি…
মুক্তির ও মন্দিরের সুপানোতলে,
কত প্রাণ হল বলি দান,
লেখা আছে অশ্র“জলে…
পাখির কুঞ্জভরা, শীতল ছায়া ঘেরা, একটি নীল আকাশ প্রজন্মকে উপহার দেয়ার জন্য, আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা ভয়ঙ্কর দানবের তাবায় রক্তে রঞ্জিত হয়েছিলো-একাত্তরে। সদ্য ফোঁটা একঝাঁক লাল শাপলা ফুল হাতে তুলে দেবার জন্য, অচেনা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল, সেদিন।
পেটভরে খাব বলে, দুধে-ভাতে থাকব বলে, শিক্ষার আলোয় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে এক অসম যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা। এভাবেই তো নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের হাজারো রঙিন স্বপ্নে ঘেরা প্রিয় বাংলাদেশ। বাংলার ভাষা, কৃষ্টি, আমাদের সংস্কৃতিকে রক্ষার জন্য জীবনটাকে হাতে মুঠোয় তুচ্ছ করে তুলে দিয়েছিলেন তারা। শুধুমাত্র একটি উজ্জল দিনের অপেক্ষায়, যে দিনটি ছিল ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১। আর এই সংগ্রামের, এই অর্জনের ইতিহাস তো একদিনের নয়। পাওয়া না পাওয়ার জীবন তরী এই ইতিহাস-র্দীঘ তেইশ বছরের। মা, মাতৃভাষা, মাতৃভূমির প্রতি আত্মনিবেদিত বাঙালি জাতি, তার আপন সত্ত্বায় বিকাশের ক্ষেত্রে সংগ্রামী হয়েছে কখনও অস্ত্র নিয়ে, কখনও নিরস্ত্র হাতে। প্রতিবাদী হয়েছে, নির্যাতন-লাঞ্ছনা ভোগ করেছে। জীবন দিয়েছে অকাতরে। রক্তের বিনিময়ে স্বাক্ষর রেখেছে, ইতিহাসের পাতায়-পাতায়। আর তাই তো আমরা, ‘বীর-বাঙালি।’
বীর বাঙালির এই ইতিহাস সাধারণ মানুষের মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাস। জীবন ও রক্তের বিনিময়ে লেখা এ ইতিহাস, আজকের প্রজন্মের গৌরবের ধন। যার ক্ষয় নেই। আছে সমৃদ্ধি, আছে সম্মান। যার ব্যাপকতা দু’চোখ মেলে যতটুকো নীল আকাশ দেখা যায়।
স্বাধীনতার ঘোষণা করে, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সৌরভে-গৌরভে যে, লাল-সবুজ পতাকা আকাশে পত পত করে উড়ছে, এতো শুধু একখন্ড কাপড় নয়। এক সাগর রক্তে প্রতীক এটি। আমাদের পতাকার মর্যাদা প্রজন্মকেই রক্ষা করতে হবে। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে, দেশের সম্মান রক্ষায়। রক্ত দিয়ে নয়, সততা-দক্ষতা দেশ প্রেম দিয়ে, দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় দেশ গড়ার কাজে মন দিতে হবে। গভীর প্রাণের অনুভূতিতে জানতে হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তার সোনার বাংলার স্বপ্নকে ছুতে হবে। বুকে ধারণ করতে হবে, ত্রিশ লক্ষ শহীদের দেশের জন্য, জীবন দেবার ইতিকথা। সকল নির্যাতিতা নারী মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নঘরে বাতি জ্বালাতে হবে, আমাদের প্রজন্মকেই।
দেশ স্বাধীন হয়েছে, সে তো অনেক দিন আগের কথা। লাল-সবুজের পতাকার দেশে, আজ নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হচ্ছে। সাকা, মুজাহিদ, কামারুজ্জামানের মতো বিকৃত মানষিকতার নরপশুদের দম্ভ গুড়িয়ে দিতে পেরেছি আমরা। তাদের নির্লজ্জের মতো বিজয় চিহ্নিত আঙ্গুলের হেলনিকে, আমরা পরাজিত করতে পেরেছি। বাংলার আকাশে, আমরা তরুণরাই জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিয়ে সকল অশুভকে উড়িয়ে দিতে পারি। কারণ আমরা বিজয়ীর সন্তান।
একাত্তরে দুঃস্বপ্নের মতো বেঁচে থাকা, আমাদের শহীদ পরিবারগুলোর সদস্যদের চোখে স্বপ্নে জেগে উঠার মতো আবাক করে দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় আমরা কার্যকর করতে পেরেছি। ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। সংকটের কল্পনাতে জাতি মুহ্যমান হয়নি। শক্তিধর দেশের রক্ত চক্ষুকে আমরা ভয় পাইনি। ন্যায্যতার প্রশ্নে বাঙালি জাতি আপোষহীন। একাত্তরের পরে আবারও আমরা তা প্রমাণ করলাম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, হতেই চলবে। কারণ আমরা জানি, স্বর্গ জগত থেকেও সুন্দর আমার দেশ, পবিত্র আমার মাতৃভূমি।
মা তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়ন…
মা, মাতৃভূমির মুখ মলিন হয়, এমন কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকতে পারে না, মুক্তিযোদ্ধাদের অর্জিত বাংলায়। একথা আজ প্রতিষ্ঠিত সত্য।

http://jugapath.com/wp-content/uploads/2016/12/Amatul-Kibria-Keya-Chowdhury-MP-1-941x1024.jpghttp://jugapath.com/wp-content/uploads/2016/12/Amatul-Kibria-Keya-Chowdhury-MP-1-150x150.jpgjugapathকলামমুক্তমতশিল্প-সাহিত্যসম্পাদকীয়সারাদেশবিজয় দিবসে প্রজন্মের জয়ধ্বনি !- কেয়া চৌধুরী সমাজকর্মী ও সংসদ সদস্য লাখ লাখ শহীদের রক্ত মাখা, সবুজ রূপে লাল সূর্য্যআঁকা, এইতো আমাদের জাতীয় পতাকা। এক সাগর রক্তের বিন্দুু বিন্দুু রক্তের রেখা দিয়ে লেখা আমাদের পবিত্র সংবিধান। বাংলার মাঠে-ঘাটে পরতে-পরতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ, গৌরবের কত-না মুক্তা ছাড়ানো এই তো আমাদের বাংলাদেশ। স্বাধীন...

Comments

comments