প্রচ্ছদ

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে জিতে নিন ১০লক্ষ টাকা!

17 December 2017, 18:12

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 22 times.

দীর্ঘ ৯ মাসের ক্ষত-বিক্ষত ইতিহাস পেরিয়ে মুক্তি মিলল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। একটি নতুন পতাকা, নতুন ভূখণ্ড। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হিংস্রতার বাঁক বদলে বিশ্বমানচিত্রে তার স্থান হলো ‘বাংলাদেশ’ নামে।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর থেকেই এ ভূখণ্ডটি পরিচিত ছিলো ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নামে। যা সম্পূর্ণ পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্বাধীন। কিন্তু বছর কয়েক যেতে না যেতেই শুরু হলো ‘বাংলা ভাষা’র দাবিতে সংগ্রাম। দাবি আদায় হওয়ার পর নানাদিক থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের হাতে বঞ্চনার শিকার পূর্ব পাকিস্তানের গণমানুষ জেগে উঠতে শুরু করলো। যার অনিবার্য ফল ‘মুক্তিযুদ্ধ’।

মুক্তির এ সংগ্রাম ‘স্বাধীনতা’ দিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ‘বাংলাদেশের শরীরে’ রেখে গেছে অসংখ্য ক্ষত। একই সঙ্গে রেখে গেছে সীমাহীন আত্মত্যাগ, ধৈর্য এবং বহু বীরত্ব গাঁথাও। ‘বাংলাদেশে’র জন্মলগ্নের এ ইতিহাসগুলো বিক্ষিপ্তভাবে উঠে এসেছে দেশি-বিদেশের সংবাদপত্রে, সংগীতে, মুক্তিযোদ্ধাদের চিঠিপত্রে, সাহিত্যিকদের রচিত গ্রন্থসহ নানা মাধ্যমে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন বহনকরা নানা স্থান চিহ্নিত হওয়ার পরও বহু কিছু এখনও রয়ে গেছে অজানা এবং পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অভাবে পড়ে আছে অগোছালো অবস্থায়। সহজলভ্য না হওয়ার কারণে বর্তমান প্রজন্মের কাছে ‘মুক্তিযুদ্ধে’র সময়কার ভয়াবহতার চিত্র একপ্রকার অজানা রয়ে যাচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধে’র এ ইতিহাসকে ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ এবং আগ্রহীদের কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের জন্য দৃষ্টান্তমূলক একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যম প্রিয়.কম। ‘মুক্তিপিন গাঁথো, যুদ্ধকে জানো’ শ্লোগানকে ধারণ করে উদ্যোগটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রিয় মুক্তিপিন’। এখানে পিন করেই সংরক্ষণ করা যাবে ‘মুক্তিযুদ্ধে’র ইতিহাস। উদ্যোক্তারা আশা করছেন ‘প্রিয় মুক্তিপিন’ হবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ‘বৃহত্তর ডিজিটাল আর্কাইভ’।

‘প্রিয় মুক্তিপিনে’ ইতিহাস যারা লিপিবদ্ধ করবেন তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক সঠিক পিনকারী ১০০জন পাবেন প্রিয়.কম এর পক্ষ থেকে ১০লক্ষ টাকা নগদ পুরস্কার। নগদ অর্থের পাশাপাশি থাকবে দৃষ্টিনন্দন ক্রেস্ট, সার্টিফিকেটসহ বেশ কিছু আকর্ষণীয় পুরস্কার। একই সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণকারীদের মধ্যে একজন হওয়ার সম্মান তো থাকছেই!

প্রিয় মুক্তিপিনে ‘পিন’ করার মাধ্যমে আপনিও পেতে পারেন আকর্ষণীয় সব পুরস্কার। ইতিমধ্যে ডিজিটাল এ আর্কাইভে প্রায় ২০০০ হাজারের কাছাকাছি পিন করা হয়েছে। ‘পিন’ করার শেষ সময় ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপর একই বছরের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হবে।

যেভাবে ‘পিন’ করবেন প্রিয় মুক্তিপিনে

১. আপনার স্মার্টফোনটিতে প্রিয় অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিন। বিকল্প হিসেবে কম্পিউটারের যেকোনো ব্রাউজার থেকে ভিজিট করুন ওয়েবপেইজটি

২. ওয়েবপেইজ বা অ্যাপটি লোড হওয়ার পর আপনার সামনে উন্মুক্ত হওয়া স্ক্রীনে ‘পিন করুন’ একটি অপশন আসবে। অপশনটিতে ক্লিক করুন।

৩. ক্লিক করার পর একটি উইন্ডো প্রদর্শিত হবে। সেখানে আপনার প্রাথমিক তথ্য (নাম, ফোন নাম্বার এবং ইমেইল) দেয়ার পর, আপনার পিন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য দিন।

৪. মুক্তিপিনের টাইটেল, ওই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ছবি (এক বা একাধিক ছবি ব্যবহার করা যাবে), ঘটনার বিবরণ, সময়কাল (বাধ্যতামূলক নয়) লিখে সঠিক স্থানটি মানচিত্রে সংযুক্ত করে পোস্ট বাটনে ক্লিক করুন।

৫. ঘটনা সংশ্লিষ্ট সঠিক জায়গাটি মানচিত্রে পিন করার সুবিধার্থে সংযুক্ত সার্চ অপশনে জায়গাটির নাম লিখে ‘এন্টার’ ক্লিক করুন। এরপর সঠিক জায়গাটি মানচিত্রের মধ্য থেকে খুঁজে বের করে পিন করুন।

৬. পোস্ট করার পর আপনার পিনটি প্রাথমিক ভাবে মানচিত্রে সংরক্ষিত হবে। কিছু সময় পর যাচাই-বাছাই ( ভেরিফিকেশন) প্রক্রিয়া শেষে আপনার পিনটি মুক্তি পিন মানচিত্রে স্থায়িভাবে প্রকাশ করা হবে।

‘পিন’ করার সময় যা খেয়াল রাখবেন

১. পিন প্রদানের জন্য আপনার দেয়া তথ্যগুলো অবশ্যই বাংলায় হতে হবে। এক্ষেত্রে ইউনিকোড কিংবা অভ্র, অংকুর ইত্যাদি ফন্ট ব্যবহার করা যাবে।

২. ঐতিহাসিক জায়গাটির যুদ্ধের সময়কার তৎকালীন ছবি দেয়া বাধ্যতামূলক নয়। বর্তমানে ওই স্থানটি যেমন অবস্থায় আছে সেই ছবিটিও প্রদান করা যাবে।

৩. মুক্তিযুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোন অবান্তর ঘটনা পিন করা হলে কিংবা পিনকৃত ঘটনাটির সত্যতা না পাওয়া গেলে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাপ থেকে মুছে ফেলা হবে।

সৌজন্যে: প্রিয় ডট কম

Share

Comments

comments

Shares