প্রচ্ছদ

একটি_খুব_প্রিয়_পৌরাণিক_গল্প

21 December 2017, 16:07

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 50 times.

মালবিকা সরকারঃ ‌ নক্ষত্র রাজ্যের রাজকন্যা “তারা”। বৃহস্পতির স্ত্রী । অপরূপ রুপবতী। আজ তার বিবাহবার্ষিকী। অনেকক্ষন ধরে সাজলো তারা। মাটির পাত্রে রাখা স্বচ্ছ জলে দেখলো তার প্রতিচ্ছবি। কি সুন্দর লাগছে তাকে। অপেক্ষা করতে থাকে কখন আসবে স্বামী । অনেক রাতে আসলেন বৃহস্পতি। দেখলেন তার পরিষ্কার পোষাক, আসন আর বিভিন্ন রকমের খাবার একেবারে পরিপাটি করে সাজানো। তারা নিখুঁত ভাবে সব গুছিয়ে রাখে তার সব প্রয়োজনীয় সব কিছু সব সময় । বৃহস্পতি খাবার খেলেন। তারাকে দেখতে পেলেন না। পাশের ঘরে তারা চুড়ির শব্দ করছেন । আকর্ষণ করার করার চেষ্টা করছে বৃহস্পতিকে । আর বৃহস্পতি শুনেও না শুনার ভান করে চলে গেলেন শিষ্যদের কাছে, তাদের শিক্ষা দান করতে। তারা ঘর থেকে বের হলেন, খুব খারাপ লাগছে তার স্বামী আজো তার সাথে একটু কথাও বলতে আসলেন না। চাঁদের আলোয় বসে আছে তারা। পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো সোম। সোম দেখলো কি অপরুপ সুন্দরী তারা। সোম তন্ময় হয়ে তাকিয়ে থাকলো। হঠাৎ মনে হলো তারা গুরু পত্নী মাতৃসমো এভাবে দেখা ঠিক না। চলে গেলো সোম। কিন্তু কিছুতেই কোন কাজে মন বসাতে পারচ্ছেন না। না পারছেন ঘুমাতে তার সমস্ত মন জুড়ে তারা। অনেক ভেবে কয়েক দিন পর সোম একটা বড় চিঠি লিখলেন তারাকে। তারা চিঠি পেয়ে ছিঃ বলে ফেলে দিলো আর এইদিকে সোম কিছুতেই কোন কাজে মন বসাতে পাচ্ছেন না। সে দিন ছিল জ্যোৎস্না রাত তারার বাড়ির পাশে পুকুর আর পুকুর ভর্তি পদ্মফুল। বৃহস্পতি তখনো বাড়িতে আসে নাই। তারা পুকুর পারে বসে আছে। আর দূর থেকে সোম দেখছে তারাকে কি অপুর্ব লাগছে তারাকে। সে চলে আসে তারার সামনে বলে, “আমি তোমাকে ভালোবাসি চলো আমার সাথে। ” তারা বলে, “এতো সাহস তোমার আমি তোমার গুরুপত্নী। গুরু তোমাকে অভিশাপ দিবেন। ভয় পাও না তুমি ?” সোম বলল, “না। তুমি আমার সাথে না গেলে তোমাকে আমি হরণ করে নিয়ে যাব।” আর তারাকে হরন করে নিয়েও গেলো সোম তার প্রাসাদে। সোমের শরীর জুরে কামনা, তারা ধর্ষিত হতে থাকে কিছু দিন। তারা বার বার বলে, “আমার স্বামী তোমার গুরু উনি কিছুতেই তোমাকে ছাড়বে না। ” কিন্তু হায় তার স্বামী আর আসে না তাকে নিতে। মনে আর শরীরে দুইদিকে ভেঙে পরে তারা। অসুস্থ হয়ে যায় সে। এবার সোমের মায়া হয়। এতোদিন ছিল কামনা এবার হয় প্রেম। মনে হয় আহা আমার জন্য আজ তারা অসুস্থ। সে নিজে হাতে যত্ন করতে থাকে। তারা অবাক হয়ে যায়। এতো ভালোবাসা যত্ন সে কখনো পায় নাই সেও ভালোবেসে ফেলে সোমকে। দুজনের এবার হয় ভালো বাসাবাসি। ভুলে যায় আর সবকিছু।

আর বৃহস্পতি তারা না থাকাতে বুঝতে পারে তারার অভাব। ভাবেন আহা তারা কতো ভাবে আমাকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছে। আমি মন দেই নাই তার দিকে কতো পরিপাটি করে সাজিয়ে রেখেছিল আমার বাড়ি এখন সব এলোমেলো। উনি সোমের কাছে তারাকে ফেরত দিতে বলে। সোম বলে না দিব না আমি তারাকে। এবার উনি মহান মহান ব্যাক্তিদের নিয়ে যায়। সোমকে বুঝানোর জন্য যেন তারাকে ফেরত দেয়। ভয়ে সোম তারাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। সে আশ্রয় পায় শুক্রাচার্যের কাছে। বৃহস্পতি শুক্রাচার্যের কাছে বলেন সোম আর তারাকে দিতে। শুক্রাচার্য বলেন আমি যাকে আশ্রয় দিয়েছি তাকে ধরিয়ে দিব না। দরকার হলে যুদ্ধ করব। বৃহস্পতি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন। বিশাল যুদ্ধ হবার সম্ভবনা। সৃষ্টি ধ্বংস হবার সম্ভাবনা এবার হস্তক্ষেপ করলেন সব বড় বড় দেবতারা। তাঁরা বৃহস্পতি, সোম আর তারা কে ডাকলেন । সোমকে বললেন তারাকে ফেরত দিতে। আর বৃহস্পতিকে বললেন তারাকে গ্রহন করতে। সোম বলল তারায় ইচ্ছা তারা ইচ্ছা করলে যেতে পারে আমি আটকাবো না। আর বৃহস্পতি বলল, ” তারা গর্ভবতী এ আমার সন্তান না। সন্তান প্রসব করার পর আমি তারাকে গ্রহন করব। “তারা অবাক হয়ে দুই পুরুষের দিকে তাকালো। এক তার স্বামী আর এক তার প্রেমিক। কেউই তাকে সেই ভাবে চায় না। তারা বলল, ” আমি কারো কাছে যাব না। ” কান্না করতে থাকে তারা। সবাই অবাক হয়ে যায় কেন কান্না তোমার স্বামী তোমাকে গ্রহন করতে চায় তাও কেন কান্না। শুক্রাচার্যের স্ত্রী আসেন হাত রাখেন তারার কাঁধে বলেন মা তোমার অপমান কোন জায়গায় কোন পুরুষ বুঝবেন না। তুমি দেব কন্যা তোমার নিজের ইচ্ছার কথা বলার পূর্ণ অধিকার আছে। বলো তুমি কি বলতে চাও। তারা বলে, “আমার স্বামী আমাকে রক্ষা করতে পারেন নাই এখনও আমাকে পরিপুর্ণ গ্রহন করছেন না। আমার সন্তান যে সোমের সন্তান হবার পাশাপাশি আমারো সন্তান তাকে আমার স্বামী গ্রহন করচ্ছেন না। মানে আমাকে উনি পরিপুর্ন ভাবে গ্রহন করচ্ছেন না। আর সোম যে কি না আমার প্রেমিক সে কি বলছে সে বলছে তোমার ইচ্ছা। মানে আমার যা ইচ্ছা। সে কি বলতে পারতো না আমি তোমাকে যেতে দিব না তারা কিছুতেই না। তাই আমি আর কোন পুরুষের কাছেই যাব না আমি নক্ষত্রলোকে যেতে চাই। আমি নিজের মতো করে বাঁচব। দুই পুরুষ মাথা নিচু করে ফেলে। ” এতো উত্তেজনার মাঝে তারার প্রসব বেদনা ওঠে। তারার প্রসব করে অপুর্ব রুপবান পুত্র বুধকে। সন্তান হাতে তারা এগিয়ে আসে। তেজদিপ্ত বুধকে দেখে বৃহস্পতি আর সোম দুজনেই এগিয়ে আসে। তারা সোমের কোলে বুধকে দেয়। বৃহস্পতি আর সোম দুজনেই তারাকে কিছু বলার চেষ্টা করে। তারা শোনে না কারো কথা দুই পুরুষের কারো দিকে না তাকিয়ে চলে যায় নক্ষত্রলোকে নিজের মতো করে বাঁচবে তার আর কোন পুরুষের ভালোবাসার দরকার নাই তার। এগিয়ে যেতে থাকে ব্যাক্তিত্বসম্পুর্ন তেজস্বিনী তারা ।

Share

Comments

comments

Shares