প্রচ্ছদ

বর্তমান সরকারের সময় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা গুরুতর চাপে-অ্যামনেস্টি

22 December 2017, 13:09

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 53 times.

আওয়ামী লীগের শাসনামলে স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সরকারের দ্বারা গুরুতর চাপের আওতায় আসে বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট ২০১৬-১৭ তে প্রকাশ করা হয়েছে। সরকার পরবর্তীতে ক্রমবর্ধমান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার জন্য দমনমূলক বিভিন্ন আইনপ্রণয়নের ব্যবহার অব্যাহত রাখে উল্লেখ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ব্যবহার করা হয়, যা অবাধে অনলাইনে অভিব্যক্তি প্রকাশের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে।

প্রতিবেদনের বিষয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, এই প্রতিবেদন মনগড়া। দেশ-স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি অ্যামনেস্টির সঙ্গে মিলে এই রিপোর্ট করেছে। এ সরকারের আমলে সরকার অনেক স্বাধীনতা ভোগ করেছে। মালিকের নীতিগত কারণে লেখা প্রকাশে বাধার সম্মুখীন হন সাংবাদিক। এটা তো মালিকের বিষয়।

এদিকে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের অপর একাংশের সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেছেন, বাস্তবতার ভিত্তিতেই অ্যামনেস্টি এ কথা বলেছে। এটা সঠিক। এ সরকারের আমলে সাংবাদিকরা লিখতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছেন, মামলা দেয়া হচ্ছে, গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়াও হচ্ছে। এটা বাস্তব। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা দিয়ে মামলায় জড়ানোর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।

বেশ কয়েকজন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা, তার পরিবার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করায় অবাধ অভিযোগের আওতানাধীন হন। সাংবাদিকদের রিপোর্ট অনুযায়ী- বিগত সময়ে সরকারি কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা সংস্থার কাছ থেকে হুমকির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টটিতে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ৪০টিরও বেশি রাষ্ট্রদ্রোহ এবং মানহানির মামলা করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অনুযায়ী- তিনি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার চাপের মুখে ১৯৯০ সালের সামরিক শাসনের সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অস্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ করেন। দায়ের করা মামলাগুলো হাইকোর্ট দ্বারা স্থগিত ছিল। কিন্তু ভবিষ্যতে মামলাগুলো সক্রিয় করা হতে পারে।মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের বরাত দিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, অধিকারের অনুসন্ধান অনুযায়ী সাংবাদিক, সংবাদকর্মীসহ ২০১৫ সালে ৩৩টি এবং ২০১৪ সালে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত এপ্রিলে ৮২ বছর বয়সী সাংবাদিক ও বিরোধী সমর্থক শফিক রেহমানকে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয় ওয়াজেদকে ‘হত্যা ও অপহরণ’ করার অভিযোগে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে আগস্ট মাসে চার মাসেরও বেশি সময় ধরে জামিনে নির্জন কারাবাসের পর মুক্তি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, দেশে রাজনৈতিক বিরোধী দল প্রকাশ্যে কর্মসূচি করতে পারছে না। যদি পারত, সরকার তাদের দমন বা নিয়ন্ত্রণ করতে কিছু না কিছু করত। সরকার সম্পর্কে নানা সমালোচনা আসছে সাংবাদিকদের কাছ থেকেই। এখানে সাংবাদিকরা বিরোধী দল হয়ে গেছে। এই বিরোধীতা নিয়ন্ত্রণ করতে যাওয়ায় সাংবাদিক নির্যাতিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নির্যাতনের বিভিন্ন প্রকার আছে। সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ সাংবাদিক নির্যাতন-হত্যার বিচার না হওয়ায়। আরেকটি উদ্বেগের কারণ- মামলা দিয়ে নির্যাতন। তথ্য প্রযুক্তি আইন প্রয়োগে মামলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, যেসব সাংবাদিক হলুদ সাংবাদিকতা করে বিশেষ গোষ্ঠী এবং নিজস্ব অদৃশ্য স্বার্থ হাসিল করতে গিয়েছে, তারাই ঝামেলায় পড়েছে। তবে সরকার দলের কারও কারও মাধ্যমে প্রকৃত সাংবাদিকরা কিছু কিছু সময় প্রতিকূলতার কবলে পড়েছেন। যেটা আমাদের হস্তক্ষেপে নিবারণও হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার কুফল সাংবাদিক সমাজে প্রতিফলিত হবার পর আমরা এর প্রতিবাদ জানানোর ফলে সে ধারা বাতিলের কথা সরকার ভাবতে শুরু করেছে।

 

Share

Comments

comments

Shares