প্রচ্ছদ

উন্মুক্ত স্থানে নয়, চার দেয়ালের ভেতর, এবার থার্টি ফার্স্ট নাইটের নিরাপত্তায় সোয়াট

30 December 2017, 15:31

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 55 times.

নগর পুলিশের কমিশনার বলেন, কেউ চার দেয়ালের মধ্যে নববর্ষ উদযাপন করতে চাইলে তাতে কোনো বাধা নেই। তবে অনুষ্ঠানের আগে পুলিশকে জানাতে হবে। রাস্তায় কেউ অপ্রীতিকর কাজ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। ৩১ তারিখ সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ঢাকা শহরের সব বার বন্ধ থাকবে। কেউ এই নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া এদিন রাতে কেউ আগ্নেয়াস্ত্র দেখাতে পারবে না বলেও জানান তিনি। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে উন্মুক্ত স্থানে থার্টি ফাস্ট পালনের কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। কেউ যদি ইনডোরে বা চার দেয়ালের মাঝে অনুষ্ঠান করতে চান তবে অবশ্যই পুলিশের অনুমতি নিতে হবে।’ ৩০ ডিসেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ সব কথা বলেন তিনি। ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে সকল প্রকার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহন না করার জন্যও অনুরোধ জানান ডিএমপি কমিশনার।

নতুন বছরের প্রথম প্রহর (থার্টি ফার্স্ট) উদযাপনের নিরাপত্তায় এবার নামানো হচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশের সর্বাধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিম স্পেশাল হুইপন্স অ্যান্ড ট্যাক্টিকসকে (সোয়াট)। বিশেষায়িত এই বাহিনীটি মূলত জঙ্গি দমনসহ পুলিশের বিশেষ অপারেশনে অংশ নেয়। শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। থার্টি ফার্স্ট নাইটের নিরাপত্তা সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়্

ডিএমপি কমিশনার বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তায় শহরের বিভিন্ন স্থানে সোয়াট থাকবে। যেসব স্থানে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হবে সেখানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে আগেই সুইপিং করা হবে। প্রস্তুত থাকবে বোমা ডিস্পোজাল ইউনিট।

আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে কোনো উন্মুক্ত স্থানে বা বাড়ির ছাদে কোনো সমাবেশ, গান-বাজনা, আতশবাড়ি ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ছাদে অনুষ্ঠান করে প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীকে বিরক্ত করা যাবে না বলেও জানান তিনি।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘থার্টি ফাস্ট নাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ইউনিফর্মধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্য শহরের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের ডিস্পোজাল ইউনিট ও সোয়াট টিমের সদস্যদের মোতায়েন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানস্থলে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলশান ও বনানীএলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফায়ার টেন্ডার ও এ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রাখা হবে। এদিন রাত ৮টার মধ্যেই রাজধানীর গুলশান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ত্যাগ করতে বহিরাগতদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার ব্যাতীত কোনো গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করবে না।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় বসবাসরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাড়ি পরিচয় প্রদান সাপেক্ষে নীলক্ষেত এবং শাহবাগ ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। হেঁটে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির যে কোনো ধরনের আশঙ্কা রোধকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অত্যন্ত বদ্ধপরিকর।’

তিনি বলেন, ‘রাত ৮টার পরে হাতিরঝিল এলাকায় কাউকে অবস্থান করতে দেয়া হবে না। গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বসবাসরতদের রাত ৮টার মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় প্রবেশ করতে হবে। গুলশান এলাকায় প্রবেশের জন্য কাকলী ক্রসিং এবং আমতলী ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে। তবে নির্ধারিত সময়ের পর পরিচয় প্রদান সাপেক্ষে এ দু’টি ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।’

আছাদুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, ‘৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত রাজধানীর সব বার বন্ধ থাকবে। পটকা-বাজি, আতশবাজি, অশোভন আচরণ, বেপরোয়া গাড়ি ও মোটর সাইকেল চালানোর মাধ্যমে রাস্তায় কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ৩১ ডিসেম্বর রাত আটটার মধ্যে গুলশান এলাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থানরত বাইরের লোক এলাকা ছেড়ে চলে যাবে। আর স্থানীয়রা রাত আটটার মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় প্রবেশ করবেন। গুলশান এলাকায় প্রবেশের জন্য কাকলী ও মহাখালী আমতলী ক্রসিং দিয়ে যেতে হবে। রাত আটটার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টিকার ছাড়া কোনো গাড়ি ঢুকতে দেয়া হবে না। পায়ে হেঁটে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। নববর্ষ উদযাপনে কোনো হামলার হুমকি আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই, তবে বৈশ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

Share

Comments

comments

Shares