প্রচ্ছদ

“বসন্তের দুপুর”

09 February 2018, 19:18

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 38 times.

মালবিকা সরকারঃ ফেব্রুয়ারির দুপুর আজ থেকে অনেক অনেক বছর আগে। আধা সোয়া হয়ে বই পড়ছি। জানালা দিয়ে খেলার সঙ্গীরা ডাকছে।”
“সাথী আয়, খেলবি না? দূর কি পড়িস রাখ তো।” আমি খুব মন তখন পড়ছি “বত্রিশ সিংহাসন। ” একদিকে বইএর টান আর একদিকে খেলার টান। বইটা রেখেই দিলাম, যাই খেলতে। পরে পড়ব । সবাই মিলে হৈ চৈ , কি খেলব আজ?
সেই ছেলে বেলার কথা মনে পরছে আজ। কতো খেলাই খেলতাম দাড়িয়া বাঁধা, কানামাছি, গোল্লাছুট, ডাংগুলি লুকোচুরি , মারবেল , ঘুড়ি উড়ানো আরো কতো কি!
ভোরে কোন অন্ধকার থাকতে জেগে যেতাম, 
দিদাকে বলতাম, “দিদা উঠি ” দিদা বলতো, “না এখন কালি সন্ধ্যা সব ভুত প্রেত বের হয়েছে। একটু পর ফরসা হক তখন উঠিস। ” একটু দিনের আলো হতেই উঠে আগে বাগানে বকুল ফুলের সময় বকুল ফুল, শিউলিফুলের সময় শিউলিফুল কুড়াতাম। আর আম, বড়ুইয়ের সময় আম বড়ুই কুড়ানো। তারপর চা খেয়ে পড়তে বসা সাড়ে আট টা বাজলেই। পড়া শেষ করে যমুনা নদীতে স্নান করতে যাওয়া। বড়দিদা পাহারা দিতেন নদীর পাড়ে বসে আর আমি, আমার চার মামাতো ভাই স্নান করতাম। সাঁতার শিখতাম। খুব মজা করে জলে” চুল না ছুল “খেলতাম। একসময় চোখ লাল হয়ে যেত আর সব ঘোলা দেখাতো। দশটা বাজলে উঠতাম জল থেকে। নদী থেকে দূরে শ্মশান দেখা যেতো। মাঝে মাঝে যখন কোন কোন দিন কোন মৃতদেহ দাহ করতে আসতো। সেদিন আমাদের খেলা বা সাঁতার কেন জানি জমতো না । উঠে পরতাম তাড়াতাড়ি।

বাড়িতে এসে ভাত খেয়ে স্কুলে দৌড়। টিফিনে এক টাকা দুইটা যা নিয়ে আসতাম তাই দিয়ে চালতার, বড়ইয়ের আচার, শনপাপড়ি, তিলাখাজা, ৫০ পয়সা ১টাকা দামের বরফ আইসক্রিম, গুড়ের কি যেন একটা পাওয়া যেত আমরা বলতাম চেংটা এই সব খাওয়া। কি অমৃতের স্বাদ আহা।
ছুটির পর বাড়িতে এসে নাকে মুখে খেয়ে খেলতে যাওয়া। বড়দিদার বাড়িটা ছিল খেলার আসর, সবাই একত্রিত হইতাম সেখানে তারপর খেলা। তার সাথে ঝগড়া মারামারি আবার মিল হয়ে খেলা। এর মাঝে কার গাছের পেয়ারা কার গাছের বড়ই পেকেছে তা খাওয়া, কই তেঁতুল কই ডেউয়া পেকেছে এইগুলির খোঁজ করে খাওয়া। যেই সন্ধ্যার আজান পরতো তাড়াতাড়ি বাড়ি এসে কোনরকমে হাতমুখ ধুয়ে দুধ-মুড়ি খেয়ে পড়তে বসা। নয়টায় পড়া শেষ। তখন টিভি দেখা। এক বিটিভি ছিল তখন। দূরদর্শন কলকাতা দেখা যেতো অবশ্য। ১০ টা পর্যন্ত টিভি দেখে পরের দিন কি করব ভাবতে ভাবতে ঘুম।
এর ফাকেই গান শেখা, সাইকেল চালানো । মেলায় যাওয়া, সবাই মিলে পিকনিক করা। মাঝে মধ্যে সার্কাস দেখতে যাওয়া, যাত্রাগান শোনা ( তখন যাত্রা গানের পরিবেশ ভালোছিল), জ্যোৎস্না রাতে নৌকায় করে যমুনা নদীতে ঘোরা। সোনামামার কাছে আকাশের তারাদের চেনা। অবাক লাগে অনেক তারা চিনতাম, নাম জানতাম তারাদের। আর তারাদের সম্ভন্ধে মিথগুলিও জানতাম। সব সোনামামার কাছে শোনা আর শেখা। আবার মামাবাড়িতে কাজ করতেন তম্বলদাদু, দেবিদাদু ওনাদের কাছে ওনাদের স্বচোখে দেখা ভুতের কথাও শুনতাম।
ঈস ছেলেবেলা! এইগুলি কি এজন্মে না অন্যকোন জন্মের কথা ভাবছি?
আর ফিরবে না সেই মধুর দিনগুলি শুধু সুখস্মৃতি হয়ে থাকবে মনে।

মালবিকা সরকারের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

Share

Comments

comments

Shares