প্রচ্ছদ

পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগেই প্রশ্নফাঁস

11 February 2018, 16:37

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 42 times.

রোববার দুপুর সোয়া ১২টায় ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয় বলে জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন । এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ডিবির ডিসি শেখ নাজমুল আলম, এডিসি মোহাম্মদ শাহজাহান সাজু, এডিসি গোলাম সাকলাইন সিথিল ও ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকা ও শেরপুরে দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করে ডিবি।

আটককৃতরা হলেন- রাহাত ইসলাম, সালাউদ্দিন, সুজন, জাহিদ হোসেন, সুফল রায় ওরফে শাওন, আল আমিন, সাইদুল ইসলাম, আবির ইসলাম নোমান, আমান উল্লাহ, বরকত উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, শাহাদাত হোসেন স্বপন, ফাহিম ইসলাম ও তাহসিব রহমান।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে কেন্দ্রের পিয়ন থেকে কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জড়িত থাকতে পারে সন্দেহে বাতেন জানান, একটি প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে যাওয়ার পর বাক্স খোলার পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যেই প্রশ্ন ফাঁস করা হয়। নির্ধারিত বিষয়ের পরীক্ষার দিনে উক্ত বিষয়ের প্রশ্ন, পরীক্ষা শুরুর ঠিক ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আগে প্রকাশ করা হয় বলে জানান তিনি।

আটককৃত সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রুপ খুলে প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন উল্লেখ করে বাতেন বলেন, ‘আটককৃত চক্রের সদস্যরাই চলমান এসএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজারের অধিক মোবাইল নম্বর ব্লক করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আটককৃতরা এসএসসি পরীক্ষার আগে ঘোষণা করেছিল তারা যে করেই হোক প্রশ্নপত্র ফাঁস করবেন এবং তাদের কেউ আটক করতে পারবে না। কিন্তু তাদের আমরা আটক করতে সক্ষম হয়েছি।’

আটককৃতদের মধ্যে তিন ভাইও আছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের ছাত্র আহসান উল্লাহ। অপর দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন স্থাপত্যবিদ্যায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলায় এবং তারা রাজধানীর ইন্দিরা রোডের একটি বাসায় থাকতেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলেই বোঝা যাবে এর পেছনে শিক্ষা বোর্ড নাকি মন্ত্রণালয়ের কেউ জড়িত।’

হাজার হাত ঘুরে এই চক্রের হাতে প্রশ্নপত্র আসে মন্তব্য করে বাতেন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে মুল হোতাকে ধরার জন্য।’

Share

Comments

comments

Shares