প্রচ্ছদ

জন্ম-মৃত্যুর বিষয়টি এ-রকমই

06 October 2016, 21:54

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 632 times.

বুলবুল সরওয়ারr

Farid Kabir -এর গতকালকের লেখা “মানুষের মৃত্যুর চাইতে অনাড়ম্বর কিছু নাই!…” আমাকে গভীরভাবে আলোড়িত করেছে। ফরিদের আর আবু হাসান শাহরিয়ারের লেখার ভক্ত আমি ছাত্র বয়স থেকেই। সাম্প্রতিককালে এদের সাথে যুক্ত হয়েছেন মঈনুল আহসান সাবের ও জাকির তালুকদার–তাদের তীর্যক চিন্তাশীল উপস্থাপনার জন্যে।
সাম্প্রতিককালে এটা প্রায় সর্বাংশে সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে যে কবি বা শিল্পীরা সত্য উচ্চারণের চেয়ে পদলেহনের সহজ-সিঁড়ি বেছে নিয়ে উপরে (মানে স্বীকৃতির) চূড়ায় উঠবেন। কেউ নিজেকেই বিশেষণ দেবেন; কেউ বন্ধুদের দিয়ে দেয়াবেন। কিংবা কেউ পুরস্কার বাগিয়ে নিজেকে অমুক-কবি তমুক-লেখক বলে জাহির করে বেড়াবেন। আমি এক আশ্চর্য সমীক্ষায় স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ১০টি কালোত্তীর্ণ-উপন্যাস বাছতে যেয়ে কোনোরকমে ৭-পর্যন্ত পৌঁছেছিলাম। তাতেই প্রায় দাঙ্গা বাধার উপক্রম (–এখনো সেই লিস্টি নেবার অনুরোধ পেয়েই যাচ্ছি)!
সৈয়দ হকের মৃত্যুর ১-সপ্তাহ আগে আমি তার জন্য “দোয়া” করে একটি লেখা লিখেছিলাম (সৈয়দ হকের জন্য– September 16 at 12:22am)। তার জন্য আমি অনেক গালাগালও শুনলাম। হতে পারে তিনি ভিন্ন-বিশ্বাস লালন করতেন, তাই বলে তার কল্যাণ কামনা করা যাবে না? এ-কোন্ ধরণের মানবিক জিঘাংসা? কোন ধরণের জিহাদ?
ফরিদ লিখেছেন:— “লেখক ও শিক্ষক রতনতনুর লাশ একাডেমিতে ঢুকতে দেয়া হয়নি!
শুনে প্রথমেই যে প্রশ্নটি আমার মাথায় এসেছে, সেটা হচ্ছে, তার লাশ দ্রুত সৎকার করার জন্য না নিয়ে গিয়ে কেন বাংলা একাডেমিতে আনা হলো? মৃত ব্যক্তির কি এমন কোনো নির্দেশনা বা ইচ্ছে ছিলো? তার পক্ষে কে এমন আজগুবি সিদ্ধান্ত নিলেন? আর, বাংলা একাডেমিই বা তার লাশ ঢুকতে দেবে না কেন? এমন তো না, আগে সেখানে কারোর লাশ নেয়া হয়নি! কারটা ঢুকবে, কারটা ঢুকবে না, এ সিদ্ধান্তটা তবে কার?”——–
গুরুতর জিজ্ঞাসা। ফেসবুকে কেউ কারো প্রশ্নের জবাব দেয় না। আগে সরকারের প্রতিটি বিভাগে প্রতিদিন পেপার-কাটিং রাখা হতো। এখন “বিচার” নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না, তাই ওসব হয়তো উঠে গেছে। আর ফেসবুক তো “স্বেচ্ছা-স্বাধীন সম্পাদক-বিহীন “আমি””-র জায়গা। তাই কিছু ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এসেছে (মাত্র)। জাকির তালুকদার দিয়েছেন স্ট্যান্ট-ঘোষণা–যার কোনো গুরুত্বই থাকতো না–যদি না তিনি নিজেই বা/এ পুরস্কারপ্রাপ্ত হতেন (–এক্ষেত্রে “কিছু” হলেও হতে পারে; সাধু সাবধান)!
আমি প্রয়াত (বা/এ-র সভাপতি) কবীর চৌধুরীর শেষ ইচ্ছেটা এ-মুহূর্তে স্মরণ না-করে পারছি না। মনে পড়ছে ১ম বা/এ সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ফররুখ আহমদের শেষ বিদায়ের কথাও–ঢাকার কোনো গোরস্থানেও যার কবরের জায়গা হয়নি–কারণ, তিনি “ভিন্ন” বিশ্বাসী! অথচ নানা সাচী ও সব্যসাচীর চেয়ে তিনি বড় লেখক কিনা, তা সময়ই বলছে। খুব অল্প লিখেই আবুল হাসান এবং রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ আমাদের বুকের মাটিতে শুয়ে আছেন। শহীদ কাদরীকেও এ-দেশ প্রায় তাড়িয়েই মেরেছে; কেন, তা অনেকেই জানেন। আল মাহমুদের কি হবে আমি জানি না। তবে তথাকথিত “শেষ-ভক্ত” আর “বাঙালী-মার্কসিস্টরা” যে একটা ধুন্ধুমার বাধাবেন–সে আশংকা অমূলক নয়।
[[ধন্যবাদ ফরিদ কবীর–মানুষের মৃত্যু নিয়ে বালখিল্যতার বিষয়টি আপনি তুলেছেন। ধন্যবাদ সাবের ভাই আপনার মন্তব্যের (Moinul Ahsan Saber; September 28 at 12:19pm) জন্য। ধন্যবাদ জাকির (Zakir Talukder; Yesterday at 12:11am আপনার সাহসের জন্য।]]
শেষে আমি আমার জীবনের একটা ছোট্ট গল্প বলি:- আমার মেয়ে জন্মালো ৯০-এর মধ্যভাগে। কি-নাম রাখা হবে তাই নিয়ে প্রলয়কান্ড। কিন্ত তার দাদী কোনো ৩-শব্দের ভালো-নাম রাখতে দেবেন না। তার কথা–‘তাজিন মাশরুবা’ (TaZin MasHruba)-ই যথেস্ট; –বাকীটা পরে দেখা যাবে!!… বছর না-যেতেই আমার মা মারা গেলেন। তারপরই আমরা Tazin-এর দাদীর “অসিয়ত” বুঝলাম। তাজিনের নাম রাখা হলো “আয়েশা তাজিন মাশরুবা” (–আমার মায়ের নাম ছিল আয়েশা)।
জন্ম-মৃত্যুর বিষয়টি এ-রকমই– বিদ্বেষের উর্ধে; সব জাগতিকতার চেয়ে সাম্মানিক! আমরা তাকে রাজনীতির ছলা-কলায় জড়িয়ে না নিলেই বুঝি বলতে পারতাম:– “ ঘৃণার বিপক্ষে অামি; প্রতিশোধে অনিরুদ্ধ নই/ যেখানে শান্তির দ্যূতি– সে আলোয় আলোকিত হই।”

Share

Comments

comments

Shares