100 GB Free Backup
This post has been seen 125 times.

যুগপৎ অনলাইন ডেস্কঃ বেড়াতে আমরা সবাই ভালবাসি। নতুন জায়গা, নতুন শহর, নতুন দেশ মানেই মন ভাল হয়ে যাওয়া। নতুন নতুন মানুষ দেখা, তাদের সংস্কৃতি সবই নতুন অভিজ্ঞতা দেয়। আর সেই অভিজ্ঞতাই জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা দূর করে। বেড়াতে পছন্দ করে না এমন মানুষ হয়তো একটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। একটু সচেতন হলেই বেড়ানোকে আরও আনন্দময় করে তোলা যায়। হয়তো আপনি প্ল্যান করে গেছেন পাঁচটা জায়গা ঘুরবেন, একটু সামলে খরচ করলে বেড়াতে পারবেন

ভ্রমণের আগে পরিকল্পনা জরুরি
ভ্রমণের আগে পরিকল্পনা জরুরি

তার চেয়েও বেশি জায়গায়। কিভাবে চলুন দেখি:
প্রয়োজন গন্তব্য সম্পর্কে কিছু পড়াশুনার: শুধু গন্তব্য নির্ধারণ করলেই হবে না, করতে হবে কিছু পড়াশুনাও! ইন্টারনেট ঘাটলেই পাওয়া যাবে যে দেশে বা যেখানে যেতে চাইছেন, সেখানে দেখবার মত কি কি আছে। একটি তালিকা তৈরি করে ফেলুন। এরপর এর মধ্যে থেকে সনাক্ত করুন আপনি কোথায় কোথায় যেতে চান। প্রথম অগ্রাধিকার পাবে যে জায়গাগুলো তার একটি তালিকা তৈরি করুন এবং সময়-সুযোগ হলে ঘুরে আসতে চান এমন জায়গাগুলোর একটি পৃথক তালিকা করুন।
চোখ রাখুন গন্তব্যের ম্যাপটিতেও: গন্তব্যের ম্যাপ ও আপনি ইন্টারনেট এ পেয়ে যাবেন। লাল মার্ক করুন প্রথম তালিকার জায়গাগুলো, আর সবুজ মার্ক করুন দ্বিতীয় তালিকার জায়গাগুলো। এবার দেখুন প্রথম তালিকায় যেতে পথে দ্বিতীয় তালিকার কোন জায়গা পড়ে কিনা। দুই একটা যায়গা পড়েই যাবে মোটামুটি নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। এবার ওই জায়গাগুলো নীল কালি দিয়ে চিহ্নিত করুন।
এবার করুন ট্রাভেল প্ল্যান: এবার আপনার ট্রাভেল প্লানটি তৈরির পালা। একটি কাগজে তারিখ এবং সময় দিয়ে গন্তব্য লিখে রাখুন। খেয়াল করুন ম্যাপটির চিহ্নিত কালিগুলোর দিকে। একি দিকের গন্ত্যব্যগুলো যেন একইদিনে ঘোরার প্ল্যান করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে যাতায়াতের বাড়তি খরচ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
টিকিট করুন অনেক আগে: আপনার ভ্রমণ গন্তব্যে যদি প্লেনে যেতে হয়, তবে চেষ্টা করুন টিকিট আগে কাটতে। আপনি যত আগে টিকিট করবেন টিকিট এর দাম তত কম পড়বে। এক্ষেত্রে, আপনি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সহায়তা নিতে পারেন। অথবা নিজেই অনলাইনেই টিকিট বুকিং দিতে পারেন।
ভিসার খরচ: আপনি ভ্রমণ সম্পৃক্ত খরচ বাঁচাতে আমাদের দেশ থেকে ফ্রী এন্ট্রি যেসব দেশে সেসব দেশ ঘুরে আসতে পারেন। ভুটান হতে পারে এক্ষেত্রে আপনার প্রথম পছন্দ। যদি আপনার পাহাড় পছন্দ হয়ে থাকে। ইন্টারনেটে সার্চ করে আপনি ফ্রী এন্ট্রি দেশগুলো আরও একবার দেখে নিন। আর গন্তব্য যদি দেশের ভেতরে হয় তাহলে তো কথাই নেই!
দল ভারী করুন: ভ্রমণের তারিখ বেশ আগে থেকে নির্ধারণ করুন আর চেষ্টা করুন দল ভারী করতে। মনে রাখবেন, দল যত ভারী হবে খরচ তত কমে আসবে। যেমন ধরুন, আপনি যদি হোটেলের একটি রুম এ একা থাকেন তাহলে নিজেকেই পুরো ভাড়াটি পরিশোধ করতে হবে। সেই জায়গায় যদি দুই কিংবা তিনজন নিয়ে থাকেন, খরচ ভাগাভাগি হয়ে টাকার অঙ্কটা অনেক কমে আসবে। যাতায়াত খরচের বেলায়ও একি ভাবে খরচ কমবে যদি মানুষ বেশি হয়।
হোটেলে বুকিং: হোটেল বুকিংয়ের জন্য ইন্টারনেটের শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে। আজকাল বিভিন্ন রকম ট্রাভেল রিলেটেড ওয়েব সাইট, অ্যাপ আছে। দাম এ তারতম্য হবে। একটু কম্পেয়ার করুন। বেঁছে নিন সর্বোৎকৃষ্ট ডিলটি।
খাবারে সাশ্রয়: বিভিন্ন দেশে খাবার হয় বিভিন্ন রকম। খাবার সম্পর্কেও একটু পড়াশুনা করে নেয়া ভালো। বেশির ভাগ দেশেই স্ট্রিট ফুড পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানসম্মত এবং সাশ্রয়ী। খাবারে বেশি খরচ না করে, কিছু টাকা বাঁচিয়ে ঘুরে দেখতে পারেন নতুন কোন জায়গা।
যাতায়াত খরচে নজর দিন: ঘুরতে গেলে সবচেয়ে খরচ সাপেক্ষ হয়ে যায় যাতায়াত। চেষ্টা করুন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে। এক্ষেত্রে খরচ অনেকটা কমে আসবে। কিংবা হেঁটেই আশেপাশের যায়গা গুলো ঘুরতে পারেন। এতে করে স্বাস্থ্যরক্ষা এবং সাশ্রয় দুইই হবে। একইদিকের স্থানগুলোকে এক সাথে পরিদর্শনের প্ল্যান করুন। সময়ও বাঁচবে, সঞ্চয়ও হবে।
শপিং লিস্ট তৈরি করুন: আপনি কি কি জিনিস কিনতে চান, সেখানে কি ভালো পাওয়া যায় এগুলো সম্পর্কে পূর্ব ধারণা নিয়ে যান। এক্ষেত্রে আগে সেই জায়গায় গিয়েছে, কিংবা ইন্টারনেটও হতে পারে আপনার বন্ধু। এবার লিস্ট করুন কি কি কিনবেন এবং বাজেট তৈরি করুন, এতে খরচে লাগাম দেয়া যাবে।
গিফট কিনুন বুঝে শুনে: ঘুরতে গেলেই কাছের মানুষ উপহার আশা করে। কার কার জন্য উপহার কিনবেন তার লিস্ট এবং বাজেট তৈরি করুন। বিভিন্ন দেশের সুভেন্যির পাওয়া যায় বেশ অল্প দামে। গণগিফট হিসেবে কিনে ফেলতে পারেন অনেকগুলো। পারফিউমের দাম সাধারণত কম হয় আমাদের দেশের তুলনায়। একটু কম্পেয়ার করে কিনে ফেলতে পারেন বিশেষ কারো জন্য এ ধরনের গিফট। তবে খরচের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখুন।
শপিং করুন সবার শেষে: ট্রাভেল প্ল্যানে সবচেয়ে শেষে রাখুন শপিং। এক্ষেত্রে পূর্বের দিনগুলোতে কিছু অর্থ বাঁচাতে পারলে কিনতে পারবেন নিজের জন্য অথবা স্পেশাল কারো জন্য স্পেশাল কিছু।
নিশ্চিত খরচগুলো আলাদা করে রাখুন যাত্রার শুরুতেই: কিছু খরচ আছে যা ভ্রমণের আগেই নিশ্চিত করে বলা যায়। যেমন হোটেলের খরচ। হোটেল খরচটা আগে থেকেই আলাদা খামে ভরে রাখুন। প্রতিবেলা খাবার পেছনে কত খরচ করবেন, প্রতিদিন কত খরচ করবেন তাও হিসেব করে আলাদা করে রাখুন। এই খরচগুলো আপনার অত্যাবশ্যকীয় খরচ। তাই এগুলোকে আগে থেকেই নিরাপদে আলাদা করে রাখুন।
আইডি কার্ডের ব্যবহার: আপনি যদি স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন, তাহলে আইডি কার্ডটি অবশ্যই সেটা সঙ্গে রাখুন। বিভিন্ন দেশে স্টুডেন্টদের জন্য অনেক সময় স্পেশাল ডিসকাউন্ট থাকে। শুধুমাত্র কার্ডটি সাথে রাখলেই হতে পারে কিছু বাড়তি সঞ্চয়!
হ্যাপি আওয়ার: অনেক দেশেই শপিং এর জন্য, খাবার জন্য, দর্শনের জন্য হ্যাপি আওয়ার থাকে। সেই সময়গুলো খেয়াল রেখে বের হলে বাঁচাতে পারবেন কিছু বাড়তি খরচ। বিভিন্ন খাতে একটু একটু করে সেভ করে, দেখবেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমে গেছে। এবার? ঘুরে আসুন যেখানে যাওয়া হয়নি অথবা কিনে ফেলুন পছন্দের ব্যাগ কিংবা সানগ্লাসটি!

সম্পাদনায়-জুনায়েদ,০৬-১১-১৬

http://jugapath.com/wp-content/uploads/2016/11/vcxz.jpghttp://jugapath.com/wp-content/uploads/2016/11/vcxz-150x150.jpgjugapathভ্রমনযুগপৎ অনলাইন ডেস্কঃ বেড়াতে আমরা সবাই ভালবাসি। নতুন জায়গা, নতুন শহর, নতুন দেশ মানেই মন ভাল হয়ে যাওয়া। নতুন নতুন মানুষ দেখা, তাদের সংস্কৃতি সবই নতুন অভিজ্ঞতা দেয়। আর সেই অভিজ্ঞতাই জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা দূর করে। বেড়াতে পছন্দ করে না এমন মানুষ হয়তো একটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। একটু সচেতন...

Comments

comments