প্রচ্ছদ


ভ্রমন পিপাষুদের জন্যে ভারতের অমৃতসর

17 December 2016, 04:50

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 552 times.

যুগপৎ অনলাইন ডেস্কঃ ভারতে ভ্রমনে প্রতি বৎসর প্রায় ৮০ লাখ বাংলাদেশি যান। ভারতের অন্যতম ভ্রমনের স্থান অতৃতসর। ভ্রমমন পিপাষুদের জন্যে অমৃতসর বিশেষ আকর্ষণিয় স্থান। এক পাশে ভারত আর অন্য পাশে পাকিস্তান, মাঝে নো ম্যানস ল্যান্ড। ভারতের মানচিত্রেও এর গুরুত্ব আলাদা। সঙ্গে সীমান্ত দর্শন এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। শিখ ধর্ম আর সংস্কৃতির পীঠস্থান পাঞ্জাবের অমৃতসর শহর। এক পাশে ভারত আর অন্য পাশে পাকিস্তান, মাঝে নো ম্যানস ল্যান্ড। ভারত আর পাকিস্তানের একমাত্র সড়ক সংযোগকারী পথও গেছে অমৃতসর হয়ে। আর তাই ভারতের মানচিত্রে অমৃতসরের গুরুত্বই আলাদা। শহর থেকে ২৫ কিমি দূরে ওয়াগা বর্ডার। সীমান্ত দর্শন এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। প্রতিদিন সন্ধে ৬টা ৪৫-এ ওয়াঘা বর্ডারে উভয় রাষ্ট্রের গেট খোলে, ফৌজি কুচকাওয়াজ হয়। ‘গার্ড সেরিমনি’ দেখতে দেশি-বিদেশি প্রচুর লোকের ভিড় হয়।

শহরের ঠিক মাঝখানে শিখ ধর্মস্থান স্বর্ণমন্দির। ঢোকার মুখে গ্রন্থসাহিবের তত্বকথা গুরমুখি ভাষায় লেখা আছে। কাচখচিত দেওয়াল লোনা ও রংবেরঙের ফুলে সাজানো। মাথায় উল্টোনো পদ্ম আকারের গম্বুজ। রণজিত্‌ সিংহ দরজা ও গম্বুজটি সোনার পাতে মুড়ে দেন। সেই থেকেই নাম স্বর্ণমন্দির। অনেকে আবার দরবারা সাহিব নামেও চেনেন। সরোবরের মাঝে অবস্থিত, হিন্দু আর মুসলিম স্থাপত্যের ধাঁচে তৈরি মন্দিরের চারটি দুয়ার আভিজাত্যের নিদর্শন বহন করছে। মন্দিরের দেওয়াল, অন্দর কারুকার্যময়। শিখ ধর্মস্থান হলেও, প্রতিদিন হাজার হাজার বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী দর্শনার্থী ভিড় করেন দর্শনের জন্যে। এখানে শিখ ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থ হাতে লেখা গ্রন্থসাহিব দেবজ্ঞানে পূজিত হচ্ছে। অখণ্ড পাঠও চলে গ্রন্থসাহিব থেকে মন্দিরে। ভক্তরা করসেবার মাধ্যমে গুরুদ্বার পরিসর নিজ হাতে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেন। দেওয়ালিতে পুরো অমৃতসর শহর আলোয় সাজে অপরূপ হয়ে ওঠে। মন্দিরের দীপসজ্জা দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে পর্যটক আসেন। স্বর্ণমন্দির লাগোয়া সরোবরের ধারে স্বর্ণগম্বুজ শিরে সুউচ্চ অকাল তখতের অবস্থান। সেটাও দেখবার মতো।

স্বর্নমন্দির থেকে মিনিট পেনরোর দূরত্বে, অলিহলি পেরিয়ে ১৬ শতকের হিন্দু মন্দির দূর্গিয়ানা। শ্বেত পাথরে দেবী দূর্গার আরাধনা হয় এখানে। স্বর্ণমন্দিরের আদলে জলাশয়ের মাঝে আছে লক্ষ্মী ও নারায়নের মন্দির। পাশেই বহু পুরনো শীতলাদেবীর মন্দির। পিছনেই হনুমান মন্দির। এখানকার ক্যান্টিনে দেশি ঘিয়ের তৈরি মিষ্টি, লুচি-তরকারি আর জিলিপি খুবই উপাদেয়।

স্বর্নমন্দির থেকে অল্প দূরেই ঐতিহাসিক জালিয়ানওয়লাবাগ। চারপাশে বড়িধর, উণচু দেওয়ালে ঘেরা, তারই মাঝে ময়দান। ময়দানের প্রবেশ পথটি খুবই সরু। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল বৈশাখীর দিন কয়েক হাজার ভারতীয় জমায়েত হয়েছিলেন ব্রিটিশ সামরিক আইন রাওল্যাট অ্যাক্টের প্রতিবাদ জানাতে। কুখ্যাত ব্রিটিশ জেনারেল ডায়ার কোনওরকম ওয়ার্নিং ছাড়াই নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। সহস্রাধিক ভারতীয়র মৃত্যু হয়। আত্মরক্ষার খাচিরে তিনশর অধিক মানুষ ঝাঁপ দেন কূপের জলে। আজও যেন সেই অভিশপ্ত দিনের কলঙ্ক গায়ে মেখে দাঁড়িয়ে আছে দেওয়ালগুলো। স্মৃতি বহন করে চলেছে শহিদদের কূপটিও। ডায়ারের অবিচারের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে শুরু হয় অসহোযোগ আন্দোলন। ইতিহাসের জলন্ত কাহিনীর প্রতীক জালিয়ানওয়ালাবাগ এখন প্রত্যেক ভারতীয়র কাছে পবিত্র তীর্থস্থান। শহীদদের সম্মানার্থে ছহি ও চিঠির প্রদর্শশালা তৈরি হয়েছে এখানে।

এ ছাড়া শিখস্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন খালসা বিশ্ববিদ্যালয়, বৈষ্ণোদেবীর আদলে তৈরি মাতা মন্দিরও দর্শন করা যেতে পারে। নতুন শহরে রামবাগ উদ্যান দেখার মতো। আধুনিকতার সঙ্গে আভিজাত্যের ছাপ মেলে রামবাগে। অমৃতসরের সরষে শাক, মকাইয়ের রুটি আর মশালা লস্যির স্বাদ এক কথায় অনবদ্য। ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্মের মেলবন্ধনে অমৃকসর সত্যি লা-জবাব!

কীভাবে যাবেন

কলকাতার হাওড়া এবং শিয়ালদহ থেকে অমৃতসর যাওয়ার ট্রেন আছে। হাওড়া-অমৃতসর মেলে সময় লাগে প্রায় পৌনে দু’দিন। এ ছাড়া দিল্লি, চণ্ডীগড়, সিমলা ও জম্মু থেকে অমৃতসরের সড়ক যোগাযোগও খুব ভাল। অমৃতসর থেকে দিল্লি এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তের প্লেনেরও যোগাযোগ আছে।

কোথায় থাকবেন

(সকল ভারতীয় মুদ্রা, ফোন নাম্বার ও ওয়েব সাইড) অমৃতসর শহর এবং আশেপাশে প্রচুর বাজেট এবং স্টার হোটেল রয়েছে। বেছে নিতে পারেন হোটেল গোল্ডেন টিউলিপ, ভাড়া ৩১৫০ টাকা থেকে শুরু। যোগাযোগ:+৯১১৮৩৫০৬৯৯৯১, www.goldentulipamritsar.com হোটেল হংকং ইন, ভাড়া ১৯৯৫টাকা থেকে শুরু, যোগাযোগ: +৯১৯২১৬৯৬৮৮৭৮, www.hotelhongkonginn.com। স্বর্ণমন্দিরের গুরুদ্বারা পরিচালিত শ্রী গুরু রাম দাস নিবাস ও শ্রী গুরু নানক নিবাসেও থাকতে পারেন।

 

তথ্য সুত্র: সানন্দা.ইন


Shares