100 GB Free Backup
This post has been seen 515 times.

আব্দুল করিম কিম

সুমন দেঃ  সাইবার অপরাধে অভিযোগ পাওয়ামাত্র ডিজিটাল বাংলাদেশে বাস্তবায়নে শতভাগ কি প্রস্তুত ? অভিযোগ সত্যি না মিথ্যা তা মনিটরিং সেল ডিজিটালরূপ কতটা সক্রিয় তা প্রশ্নের সম্মুখিন ! কেন না; “সিলেটের পরিবেশ কর্মী আব্দুল করিম কিমের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননকার বক্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ১৫ ডিসেম্বর বুধবার রাতে তাকে বাসা থেকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তবে ফেসবুকের ওই লেখার সাথে কিমের কোনো সম্পৃক্ততা না পেয়ে প্রায় ১৫ ঘন্টা পর  বিকেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।” শুধু তাই নয়, এরকম আজো নাসির নগরের, নিরোপরাধ সাইবার ক্রাইমের শিকার রসরাজ দাশ কারাগারে ! 

শুধু সাইবার ক্রাইম আইন করে নয়, বরং প্রয়োজন জননিরাপত্তা বিধানে প্রযুক্তিগত অপরাধ দমনের প্রয়োগ।  (১৫ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট মহানগরীর বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও সুরমা রিভার ওয়াটার কিপার আব্দুল করিম কিম। আজ ২০ দিন চলছে অপরাধীদের সনাক্ত করতে না পরার কারন কি প্রযুক্তিগত ভাবে আমাদের দুর্বলতা ! আইনি ভাবে এরকম সাইবার ক্রাইমের হোতাদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু কেন এখনো এদের সনাক্ত করে প্রকাশ হচ্ছে না, প্রশ্ন থেকে যায় পরিবেশ কর্মী কিমের মনে ও সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের মনে। তাই, গত সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের সর্বস্তরের নাগরিকদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা আবদুল করিমের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এসব কথা বলেন। সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ফেসবুকে আপত্তিকর স্ক্রিনশট, থানায় ১৫ ঘন্টা, অতঃপর কিমের মামলাঃ পরিবেশ কর্মী আব্দুল করিম কিমের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননকার বক্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ১৫ ডিসেম্বর বুধবার রাতে তাকে বাসা থেকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তবে ফেসবুকের ওই লেখার সাথে কিমের কোনো সম্পৃক্ততা না পেয়ে প্রায় ১৫ ঘন্টা পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় পুলিশের পরামর্শে বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট মহানগরীর বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও সুরমা রিভার ওয়াটার কিপার আব্দুল করিম কিম।

বুধবার রাত একটার দিকে নগরীর হাউজিং এস্টেটের বাসা থেকে কিমকে নিয়ে আসেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, “ফেসবুকে আব্দুল করিম কিমের নামে অবমাননকর বক্তব্য লেখা হয়েছে, পুলিশ সদরদপ্তর থেকে আসা এমন একটি অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাকে আনা হয়েছিলো। রাতে তাকে কতোয়ালি থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় পুলিশ বুঝতে পারে, তাকে ফাঁসানোর জন্য অন্য কেউ এমন কাজ করতে পারে।”

এ ঘটনায় কিম বাদী হয়ে অজ্ঞতানামাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন জানিয়ে মোশররফ বলেন, পুলিশ দোষিকে খোঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
আব্দুল করিম কিম জানান, বুধবার রাত ১টার দিকে এক পুলিশ সদস্য মোবাইল ফোনে তাকে বাসা থেকে বের হতে বলেন। নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসা থেকে বের হতেই তাকে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা কতোয়ালি থানায় নিয়ে আসেন। থানায় আসার পর পুলিশ কর্মকর্তা একটি প্রিন্টেট কাগজ তার হাতে ধরিয়ে দেন, যাতে তার ফেসবুকের আইডি নাম ও প্রোফাইল ছবি যুক্ত এবং ধর্মীয় অবমাননাকর বক্তব্য সম্বলিত একটি স্ক্রিনশট রয়েছে।

এই স্ক্রিনশট ফেসবুকে বিভিন্ন উগ্রবাদী পেজে ব্যাপক প্রচার হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা এবিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চান। এসময় ফেসবুকে এমন কিছু লিখেননি বলে পুলিশকে জানান কিম। পরে পুলিশ সদস্যরা পাসওয়ার্ড নিয়ে তাঁর ফেসবুক আইডি খোঁজেও ধর্মীয় অবমাননকার কিছু খোঁজে পাননি।

এরপর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিনভর এনিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন মহানগর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা।  পুলিশ সদর দপ্তরের সাথেও এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেন তাঁরা। কিমকে ছাড়া- না ছাড়া নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যেই মতপার্থক্য দেখা দেয়। পরে বিকাল ৪ টার দিকে থানা চত্বর থেকে বেরিয়ে আসেন কিম।

এরপর রাতে বিমানবন্দর থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করেন কিম। মামলার এজাহারে কিম অভিযোগ করেন, ‘ফেসবুকে আমার প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করে অজ্ঞতানামা কে বা কারা ধর্ম অবমাননকার বক্তব্য প্রচার করে আমাকে ফাঁসানোর গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে।’
এ ব্যাপারে কতোয়ালি থানার সহকারী কমিশনার নুরুল হুদা আশরাফী বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কিমকে ডেকে আনা হয়েছিলো। তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেলে তিনি চলে গেছেন।
আব্দুল করিম কিম বলেন, আমি পরিবেশ রক্ষাসহ বিভিন্ন নাগরিক আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত। আমার কর্মকান্ডে সংক্ষুব্দ কেউ আমাকে ফাঁসানোর জন্য এমন কাজ করতে পারে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)র সিলেটের সেক্রেটারী আব্দুল করিম কিমকে গত রাতে কোতোয়ালী থানা পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। আব্দুল করিম কিম-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমি এখনো থানায় আছি। আমি আমার ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছি দেখেন। যে অভিযোগে আমাকে পুলিশ নিয়ে এসেছে আমি তার সাথে কোন ভাবেই সম্পৃক্ত নই।’

পাঠকদের জন্য বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)র সিলেটের সেক্রেটারী আব্দুল করিম কিম-এর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো….

রাত প্রায় দেড়টা বাজে তখন। মোবাইলে রিং হতে বিরক্তি নিয়ে ফোন ধরি। ওপাশ থেকে পুর্ব পরিচিত এক পুলিশ কর্মকর্তা বললেন, কিম ভাই, আপনি বাসায়। অবাক হয়ে বললাম জ্বি বাসায়।
আমাদের স্যার একটু কথা বলবেন নিচে আসুন।
আমি লুঙি ও স্পঞ্জের স্যান্ডেল পরে নিচে নামলাম। বাইরের গেইট খুলতেই আমাকে এক দল পুলিশ ঘিরে ধরে বলে আপনাকে আমাদের সাথে একটু থানায় যেতে হবে। জিজ্ঞেস করলাম, কেন? কি বিষয়? জবাব না দিয়ে গাড়ির দিকে এগুতে বললেন। বাসার বাইরে দেখলাম পুলিশের ছয়টি গাড়ি দাঁড়ানো।
আমি কাপড় বদলে আসতে চাইলাম। উনারা বললেন, কাউকে ফোন দিয়ে বলেন শীতের কাপড় ও ঔষধ কোতোয়ালী থানায় নিয়ে আসতে। ভাগ্যিস মোবাইলটা সংগে এনেছিলাম।
গাড়িতে বসে আমার স্ত্রীকে ফোন দিলাম। বেচারী মাত্র ঘুমিয়েছে। ফোন না ধরায় পরিচিত দুই বড় পুলিশ কর্মকর্তাকে চেষ্টা করলাম। উনাদেরকেও ফোনে ধরতে পারলাম না। ফোন দিলাম ঘনিষ্ট একজন সাংবাদিককে। তিনি বললেন, কিম ভাই এক্ষুনি থানায় আসছি।
থানায় নিয়ে এসে উপ কমিশনারের রুমে বসানো হল। উনারা জানতে চাইলেন, আমি ব্লগে লিখি কি না ? জানালাম ব্লগে লিখিনা।
এতোক্ষন ভাবছিলাম সুন্দরবন আন্দোলন নিয়ে হয়তো কোন জিজ্ঞাসাবাদ। যদিও আমি এই আন্দোলনে সামান্য একজন কর্মী । উনারা ব্লগ সংক্রান্ত প্রশ্ন করায় বুঝলাম বিষয় অন্য কিছু।
আমি বললাম, আমাকে বিষয়টা ক্লিয়ার করে বলেন আপনারা আমার কাছে কী জানতে চাইছেন ?
তখন আমার সামনে একটি প্রিন্ট কাগজ দেয়া হল। যা দেখে বোঝা গেল এটা একটা ফেইসবুক ম্যাসেজ কনভার্সেশন। যেখানে আমার বর্তমান প্রোফাইল ছবি যুক্ত করা আছে। সেখানে আমার ছবির পাশে চরম আপত্তিকর ধর্ম অবমাননাকর কথা লেখা। যা দেখে আমার সারা শরীর কেঁপে উঠে। আমি ‘নাউজুবিল্লাহ’ বলে চোখ ফিরিয়ে নেই। এটা পড়া বা উচ্চারণ করা একজন মুসলমানের জন্য গর্হীত অপরাধ ।
আমি উনাদের কাছে ফেইসবুক পাসওয়ার্ড দিলাম। উনারা আমার ম্যাসেজগুলো দেখতে থাকলেন। আমি আবারো সেই প্রিন্ট কপি দেখে কিছু অসংগতি দেখালাম। উনারা জানতে চাইলেন, আমার কারো সাথে কোন শত্রুতা আছে কি না? ধর্ম নিয়ে ফেইসবুকে কখনো কটাক্ষ করেছি কি না ?

আমি জানালাম, আমি ধর্মপ্রাণ একজন মুসলিম। জীবনে কখনো ধর্মকে অবমাননা করে কিছু লেখার প্রশ্নই আসে না। আমার কাজ পরিবেশ আন্দোলন । এর বাইরে নাগরিক অধিকার নিয়ে কথা বলি। আমি গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের একজন সংগঠক ছিলাম। আমি মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত রাজাকারদের সর্বচ্চো বিচার চেয়েছি।

উনারা জানালেন আমার নাম দিয়ে তৈরিকৃত সেই ম্যাসেজ বাঁশেরকেল্লা টাইপের বিভিন্ন গ্রুপে কাল থেকে শেয়ার করা হয়েছে। আমার উপর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উস্কানী দেয়া হচ্ছে। তাই আমার নিরাপত্তা ও বিষয়টির আড়ালে কারা আছে তাদের খুঁজে বের করার জন্য উনারা আমাকে থানায় নিয়ে এসেছেন ।
আমি পরিচিত আত্মিয় বন্ধু স্বজন ও শুভান্যুধায়ীদের কাছে দোয়া চাইছি, যেন আল্লাহ্‌ তালা আমাকে এই ষড়যন্ত্র থেকে ইজ্জতের সাথে মুক্ত করেন । আর যে বা যারা আমাকে ফাসানোর জন্য এমন কাজ করেছে তারা যেন তওবা করে নিজেদের শোধরে নেয়।

সাইবার ক্রাইমের শিকার সিলেটের বাপা নেতা কিমঃ  বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম সাইবার ক্রাইমের শিকার ও তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছে। বাপার নেতাদের অভিযোগ, দেশে সুন্দরবন রক্ষাসহ পরিবেশবাদী আন্দোলন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সক্রিয় থাকায় তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে। সরকার ও প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখলে কিমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রকৃত অপরাধীদেরকে জনসম্মুখে আনা সম্ভব হবে। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর ডিআরইউ সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাপার নেতারা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘গত ১৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে আমাকে পুলিশ সিলেটের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। প্রথমে মনে করেছি, সুন্দরবন আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকায় তারা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু থানায় যাওয়ার পর পুলিশ একটি ফেসবুক ইনবক্সের স্ক্রিনশটের প্রিন্ট দেখিয়ে জানতে চায় ওই মেসেজ আমার লেখা কিনা।’

কিম বলেন, ‘ওই কাগজে যা ছিল তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। প্রিন্ট করা ওই কাগজে আমার ইনবক্সের মতোই দেখতে ছবি ছিল। তাতে হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নামে বিকৃত মেসেজ লেখা। কিন্তু ওই মেসেজ আমার লেখা না। পুলিশ তখন আমার ফেসবুকেও এমন কিছুই পায়নি। আমি নির্দোষ দেখে চৌদ্দ ঘণ্টা পর পুলিশ আমাকে ছেড়ে দেয় এবং এই ঘটনার বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দেয়। আমি পরে মামলা করেছি।’ পুলিশ স্ক্রিনশট কোথায় পেয়েছে জানতে চাইলে কিম বলেন, ‘ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে গ্রুপে এই স্ক্রিশটটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে পুলিশ সেখানে আমার নাম দেখতে পেয়ে আমাকে ধরে নিয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনার পর থেকে আমি জীবনের শঙ্কায় আছি। বহু লোক আমাকে ফেসবুকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমাকে হত্যার জন্য চার লাখ টাকা পুরষ্কারও ঘোষনা করা হয়েছে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে।’

বাপার সহ-সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, ‘বাপার মূল কাজ পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলন করা। কিন্তু আজ বাপা সংবাদ সম্মেলন করছে সাইবার ক্রাইম নিয়ে, আমাদেরকে হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে তার প্রতিবাদে। আমরা পরিবেশ নিয়ে আন্দোলন করি বলেই আজ আমাদের ওপর হুমকি আসছে। আমাদের পরিবেশ আন্দোলনের নেতা কিম মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষ। আজ তাকেই হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই যদি অবস্থা হয় তাহলে আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাব, কার কাছে যাব?’ সরকার ও প্রশাসন চাইলেই এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও বাপার সহ-সভাপতি ড. রাশেদা কে চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা প্রায়ই শুনি, সাধারন মানুষ প্রতিনিয়ত সাইবার ক্রাইমের শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের অপরাধ এখনও দেশে ওপেন, সিকিউরড নয়। যে কেউ চাইলেই যে কাউকে ফাঁসিয়ে দিতে পারে। ফলে এ বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।’  বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন সংবাদ সম্মেলনে কিমকে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে চার দফা দাবি তুলে ধরেন।

বাপা সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিমকে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে হবিগঞ্জে নাগরিকবন্ধনঃ  সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিমকে নিস্ক্রিয় ও প্রাণনাশের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে হবিগঞ্জে নাগরিকবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা হবিগঞ্জ শাখা ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার গত ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় এর সামনে এই নাগরিকবন্ধনের আয়োজন করে। বাপা হবিগঞ্জ শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোঃ ইকরামুল ওয়াদুদ-এর সভাপতিত্বে মানববন্ধন চলাকালীন সময়ে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন বাপা হবিগঞ্জ শাখার সহ-সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনি, খোয়ার রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল, তেল-গ্যাস-খনিজ ও বন্দর রক্ষা জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব এডভোকেট কামরুল ইসলাম, নদী ও জলাশয় রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব আহসানুল হক সুজন, জেলা উদীচীর সদস্য মোঃ মুজিবুর রহমান, রোটারেক্ট ক্লাব অব হবিগঞ্জ খোয়াই-এর প্রেসিডেন্ট সৈয়দ জাদিল উদ্দিন আহমেদ, খোয়াই থিয়েটারের কর্মী মোঃ মুক্তাদির হোসেন, নাট্য ভাস্কর পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা ববি, নাট্যকর্মী শেখ ওসমান গনি রুমী, তারুণ্য সোসাইটির সেক্রেটারী আবিদুর রহমান রাকিব, ব্যাঞ্জনবর্ণের সাধারণ সম্পাদক অংশু ভট্টাচার্য্য, যশেরআব্দা যুব সংঘের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জীবন, সংস্কৃতিকর্মী মাশুকুর রহমান, আমরা ক’জন এর শাহ্ আলম হৃদয় প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে আব্দুল করিম কিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নামে সিলেট কতোয়ালী থানায় নেয়া হয় এবং ফেইসবুকে একটি ভুয়া আইডি থেকে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শুরু করে। এ বিষয়ে কিমের কোন সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে ১৪ ঘন্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আব্দুল করিম কিম সিলেটের পরিচিত একজন নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক। সিলেটের পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে তার অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। শুধু সিলেট নয়, হবিগঞ্জের পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি সিলেটের নদী, জলাশয়, পাহাড়, টিলা, বনভূমি ও জীববৈচিত্র ধ্বংসের প্রতিবাদে দীর্ঘদিন যাবৎ সামাজিক আন্দোলন পরিচালনা করে আসছেন। বক্তারা এই ঘটনার নৈপথ্যে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, আব্দুল করিম কিম কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে তার ছবি ও নাম ব্যবহার করে এ ধরণের উদ্দেশ্যমুলক প্রচারের উৎস উন্মোচিত না হওয়ায় সিলেট বিমানবন্দর থানায় আইসিটি এ্যাক্টের ৫৭(২) ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। নাগরিকবন্ধন চলাকালীন সভা পরিচালনা করেন বাপা হবিগঞ্জ শাখার যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকী হারুন।

পরিবেশবাদীরা কিমের মতো সাইবার ক্রাইমের শিকার হতে পারেন — সুলতানা কামালঃ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে গত ২৪ ডিসেম্বর, শনিবার সকাল ১১ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘সাইবার ক্রাইম বিষয়ক নাগরিক উদ্বেগ’’  বাপা সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিমকে নিষ্ক্রিয় ও হত্যা করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে’ এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বাপার সহসভাপতি ও টিআইবির সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মুল বক্তব্য তুলে ধরেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন। এতে সংবাদ সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বাপার সহসভাপতি তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, পুলিশের সাবেক এআইজি সৈয়দ বজলুল করিম বিপিএম, নদী কমিশনের সদস্য শারমীন মুরশিদ, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তবারক হোসেন, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল ও সাইবার ক্রাইমের ভুক্তভোগী বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম ।
টিআইবির সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, “কিমের উপর যে কাজটি করা হয়েছে, এ ধরেনর ঘটনার শিকার যে কোনো নাগরিকই হতে পারেন। কিম একজন সমাজ সচেতন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ব্যক্তি। কিমের সাহসী ভূমিকায় যারা আজ ক্ষতিগ্রস্ত সেই মহলই কিমকে হেনস্তা করার এই অভিনব ষড়যন্ত্র করেছে। নাসিরনগর, হোমনা, ভূঞাপুরে সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমেই নিরীহ মানুষদের উপর হামলার উস্কানি দেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ব্যক্তি, যারা দেশের পরিবেশ ও মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে সোচ্চার, তাদেরকে এভাবে সাইবার ক্রাইমের শিকার করা হতে পারে। অতীতে দেখেছি অনেক নিরপরাধ ব্যক্তি সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাই এই ধরনের অপরাধ ঠেকাতে প্রযুক্তিকে আরোও আধুনিকীকরণ করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কিমের মতো নিরপরাধ কেউ এ ধরণের হয়রানির শিকার না হয়।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “আইসিটি ব্যবহার করে যেভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে তা শুভবোধ সম্পন্ন মানুষের জন্য দুশ্চিন্তার। আজকে এদেশে কেউই নিরাপদ নয়; সম্মান নিয়ে, নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কিমকে যেভাবে দ্রুত থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ বা হয়রানি করা হয়েছে, আমরা চাই সেই গতিতেই যেন মূল অপরাধীদের খুঁজে বের করা হয় ।”
মূল বক্তব্যে ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, “আমাদের দেশে পরিবেশ আন্দোলন ক্রমান্বয়ে কঠিন হয়ে যাচ্ছে। মনে হয়, আন্দোলনের আন্তরিক সংগঠকদের চাপে রেখে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাপা সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক ‘আব্দুল করিম কিম’ ভয়াবহ এক সাইবার অপরাধের শিকার হয়েছেন। যাতে তাঁর নিজের ও পরিবারের জীবননাশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”
তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, “গত ১৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে কয়েক গাড়ি সশস্ত্র পুলিশ আব্দুল করিম কিমকে অগ্রহণযোগ্যভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার নামে সিলেট কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয় এবং ফেইসবুকে ধর্ম অবমাননাকর একটি মন্তব্য নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তাঁকে নিয়ে যাওয়ার ১৪ ঘন্টা পর এ বিষয়ে তাঁর সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ কারণে আমরা বাংলাদেশের পুলিশ বিভাগকে আমাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

ঘটনার ভুক্তভোগী আব্দুল করিম কিম বলেন, “আমি সাইবার ক্রাইমের শিকার। যে ঘটনাটিকে নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে, সেটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। এই হীন প্রচেষ্টা করা হয়েছে আমাকে সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করার জন্য। আমাকে প্রতিনিয়ত ফেইসবুক ইনবক্সে অচেনা বিভিন্ন আইডি থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন বলেন, “কিমকে আমি শৈশব থেকে চিনি। সিলেটের দলমতনির্বিষেশে সকল মহলের প্রিয় ও আস্থার সমাজকর্মী সে। তার বিরুদ্ধে করা এই ঘৃণ্য সাইবার ক্রাইম ও ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি উদ্বেগজনক ।”
অপরাধমূলক ফেসবুক অপপ্রচার তথা সাইবার অপরাধ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের নাম পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। এই ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের জরুরি বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সাইবার ক্রাইম দমনে আরও ত্বরিত ও সংবেদনশীল সরকারি ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

কিমের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেপ্তারে স্মারকলিপি: সিলেটের সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট শাখার সাধারন সম্পাদক আব্দুল করিম কিমের বিরুদ্ধে হওয়া সাইবার ক্রাইমের মূল অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

সিলেটের বিভিন্ন অঙ্গনের প্রতিনিধিত্বশীল শত নাগরিকের এই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন। স্মরকলিপি মামলার ১৮ দিন পরও এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা শনাক্ত না হওয়ায় ২৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয় সিলেট মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত এসএম রোকন উদ্দিনের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। স্বারকলিপি প্রদানকালে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি তোফায়েল সামীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। “স্বারকলিপিতে নাগরিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্প্রতি আব্দুল করিম কিমের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে আপত্তিকর বক্তব্য ছড়িয়ে এক ঘোলাটে পরিস্থিতির অবতারণা করা হয়। যা আব্দুল করিম কিম-এর জীবন বিপন্ন করার গভীর চক্রান্ত।” স্বাক্ষরলিপি এই ষড়যেন্ত্রর সােথ জিড়তেদর সনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, “এভাবে নিয়ন্ত্রণহীন সাইবার ক্রাইম ঘটতে থাকলে সমাজে অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এজন্য সাইবার ক্রাইম বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। প্রযুক্তি সহায়তা নিয়ে করা ফটোশপ জালিয়াতি সম্পর্কে সাধারন মানুষকে ধারনা দিতে হবে। সচেতনতা বা ধারণা না থাকলে অন্যের ষড়যন্ত্রে কিমের মত নিরাপরাধ ব্যাক্তি বিপদগ্রস্থ হতে পারে।”

স্বারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন প্রবীণ শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো আব্দুল আজিজ, সিলেট মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো সালেহ উদ্দিন, বাংলাদেশ আওয়ামীলিগ সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, রাজনীতিবিদ লোকমান আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মুজিবুর ররহমান, ওয়ার্কাস পার্টি সিলেট জেলা সভাপতি মো আবুল হোসেন, রোটারী ইন্টারন্যাশনাল জেলা-৩২৮২ গভর্নর শহিদ আহমেদ চৌধুরী ও প্রাক্তন গভর্নর ড. মঞ্জুরুল হক চৌধুরী, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট জেলা সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ কে এম শামিউল আলম, সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আজিজ আহমেদ সেলিম, প্রবাসী লেখক ও গবেষক শামসাদ হুসাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ রেনু, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম এর কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক সারাওয়ার আহমেদ আব্দাল চৌধুরী, শিক্ষাবিদ এম আতাউর রহমান পীর, ব্লূ বার্ড স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষা রাবেয়া খান আহমেদ ও বেগম সুলতানা, এফবিসিসিআই এর পরিচালক শামীম আহমেদ, শাবি শিক্ষক মাওলানা এমদাদুল হক, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমেদ মিশু, সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম খান, বারাকাত উল্লাহ পাওয়ার লিমিটেড এর চেয়ারম্যান ফয়সল আহমেদ চৌধুরী, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর পরিচালক এনামুল কুদ্দুস চৌধুরী, সিলেট জেলা আয়কর আইনজীবি সমিতির সাধারন সম্পাদক আবুল ফজল, আদিবাসী নেতা গৌরাঙ্গ পাত্র, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) -এর এডভোকেট শাহ শাহেদা, দৈনিক কাজির বাজার পত্রিকার প্রকাশক আফছর আহমেদ, ব্যাবসায়ী শমসের জামাল, তাহমিন আহমেদ, তথ্যচিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু, নাট্য সংগঠক শামসুল বাসিত শেরো ও খোয়াজ রহিম সবুজ, প্রবাসী সমাজকর্মী আলমগীর কুমকুম, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর কোহিনুর ইসলাম ঝর্ণা, সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুব কাদির শাহী, সারী নদী বাঁচাও আন্দোলনের আব্দুল হাই আলআল হাদি, ভুমিসন্তান বাংলাদেশ এর আশরাফুল ইসলাম, ক্ষ্যাপা তারুণ্য-এর মহসীন আহমেদ মুহিন, নিনাই সভাপতি তায়েফ আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

সিলেটে বাপা নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিঃ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে এক দশক ধরে পরিবেশ আন্দোলন চলছে। মূলত পরিবেশ আন্দোলন থামাতেই ফেসবুকে মিথ্যা অভিযোগ রটিয়ে আবদুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করলে পরিবেশ শত্রুও নির্মূল হবে। গত সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের সর্বস্তরের নাগরিকদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা আবদুল করিমের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এসব কথা বলেন। সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে ফেসবুকে ‘আবদুল করিম কিম’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে অপপ্রচার দেখে পুলিশের একটি দল আবদুল করিম চৌধুরীকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়। ঘটনাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় পরদিন মহানগরের বিমানবন্দর থানায় আবদুল করিম চৌধুরী বাদী হয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মামলা করেন। মামলার ১৮ দিন পরও এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা শনাক্ত না হওয়ায় ২৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

তথ্যসুত্র : বিভিন্ন পোর্টাল ও আব্দুল করিম কিম ফেসবুক পেজ এবং ইনবক্সে লিংক সমুহ।

http://jugapath.com/wp-content/uploads/2017/01/35463.jpeghttp://jugapath.com/wp-content/uploads/2017/01/35463-150x150.jpegjugapathআইন ও অপরাধকলামতথ্য প্রযুক্তিমুক্তমতসম্পাদকীয়সিলেটসুমন দেঃ  সাইবার অপরাধে অভিযোগ পাওয়ামাত্র ডিজিটাল বাংলাদেশে বাস্তবায়নে শতভাগ কি প্রস্তুত ? অভিযোগ সত্যি না মিথ্যা তা মনিটরিং সেল ডিজিটালরূপ কতটা সক্রিয় তা প্রশ্নের সম্মুখিন ! কেন না; “সিলেটের পরিবেশ কর্মী আব্দুল করিম কিমের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননকার বক্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ১৫ ডিসেম্বর...

Comments

comments