100 GB Free Backup
This post has been seen 140 times.

সুমন দেঃ  পর্দা জুড়ে তাঁর অপরূপ মুখশ্রীর স্বর্গীয় দ্যুতি। তাঁর প্রবল ব্যক্তিত্ব, স্বকীয়তা, সম্ভ্রম আর আভিজাত্যের বিস্ফারে সম্মোহিত দর্শক। বিশাল পর্দায় ভেসে থাকা তাঁর চাহনি— কথা বলছে শুধু তাঁর চোখ— দীর্ঘ, উজ্জ্বল আর ভীষণ বাঙ্ময় দুই চোখই বলে দেয় কে তিনি? সুচিত্রা সেন (৬ এপ্রিল, ১৯৩১ – ১৭ জানুয়ারি, ২০১৪) একজন ভারতীয় অভিনেত্রী ছিলেন। তাঁর জন্মগত নাম ছিল রমা দাশগুপ্ত। তিনি মূলত বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বাংলা চলচ্চিত্রে উত্তম কুমারের বিপরীতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

১৯৬৩ সালে সাত পাকে বাঁধা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে সুচিত্রা সেন “সিলভার প্রাইজ ফর বেস্ট অ্যাকট্রেস” জয় করেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান করে।শোনা যায়, ২০০৫ সালে তাঁকে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল; কিন্তু সুচিত্রা সেন জনসমক্ষে আসতে চান না বলে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন নি। ২০১২ সালে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ সম্মাননা বঙ্গবিভূষণ প্রদান করা হয়।

সুচিত্রা সেন। মহানায়িকা, কিংবদন্তি নায়িকা সুচিত্রা সেন। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক সময়ের একচ্ছত্র অধীশ্বরী সুচিত্রা সেন। আবার সেই বিশাল খ্যাতি, বৈভব, পাদপ্রদীপের আলো থেকে চিরতরে নিজেকে সরিয়ে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অন্তরালবর্তিনী হয়েছেন সুচিত্রা সেন। হয়েছেন শ্রীরামকৃষ্ণ-সারদা অনুরাগিনী। একটা সময় তো বহুবার গিয়েছেন বেলুড়ের মঠে। বহু উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়নে চুটিয়ে অভিনয় করেছেন মহানায়িকা। তাঁর নিজের জীবন সে-ও এক উপন্যাস বটে। গত ১৭ জানুয়ারি মহানায়িকার প্রয়াণের এক বছর পূর্ণ হল। তাঁকে নিয়ে স্মৃতিকথনে কলম ধরেছি আজ। ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল তাঁর জন্ম অধুনা বাংলাদেশের পাবনায়। ভারত ভাগের সময় এ পার বাংলায় সপরিবার চলে আসেন সে দিনের কিশোর মেয়েটি রমা দাশগুপ্ত। হ্যাঁ, তখন তিনি এই নামেই পরিচিত ছিলেন। তার পর ১৯৪৭ সালে বিবাহ তৎকালীন ধনী শিল্পপতি আদিনাথ সেনের পুত্র দিবানাথ সেনের সঙ্গে। বিবাহের কয়েক বছর পর স্বামী দিবানাথ সেনের আগ্রহেই সিনেমার নায়িকা হওয়া এবং সুচিত্রা সেন হয়ে ওঠা। সুচিত্রা সেনের প্রথম সিনেমা ১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’, যেটি মুক্তি পায়নি। ১৯৫৩ সালে ‘সাত নম্ব কয়েদি’ সিনেমার তাঁর প্রথম আত্মপ্রকাশ। সেই বছরই বিশাল হিট ছবি ‘সাড়ে চুয়াত্তর’, যে ছায়াছবিতে সুচিত্রা-উত্তম জুটির দেখা পায় দর্শক। ১৯৫৩ সালে যাত্রা শুরু এবং ১৯৭৮ সালে শেষ চলচ্চিত্র ‘প্রণয় পাশা’। পঁচিশ বছরের অভিনয় জীবনে তিনি অভিনয় করেছেন বাংলা হিন্দি মিলিয়ে ষাটটি ছবিতে যার মধ্যে তিরিশটি সিনেমায় তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন উত্তমকুমার। বাস্তবিক সুচিত্রা-উত্তমের জুটি বাংলা সিনেমার সর্বকালের সেরা জুটি। যেন একে অপরের জন্যই তৈরি হয়েছিলেন। সুচিত্রা-উত্তমের এই রোমান্টিক জুটির বিকল্প আর পাইনি আমরা। অগ্নিপরীক্ষা, হারানো সুর, সপ্তপদী, পথে হল দেরি, কমললতা, ইন্দ্রাণী, সবার উপরে, জীবন তৃষ্ণা, সদানন্দের মেলা, সূর্যতোরণ, শাপমোচন, চাওয়া পাওয়া, একটি রাত, ত্রিযামা, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত, বিপাশা, হার মানা হার, আলো আমার আলো প্রভৃতি সিনেমা সুচিত্রা-উত্তমের সার্থক জুটির ফসল। পঞ্চাশ ও ষাটের দশক এবং সত্তরের দশকের গোড়ার দিকের এই সব সিনেমা আজও জনপ্রিয়তা হারায়নি।
সত্যি কথা বলতে কি আমাদের কিশোরীবেলায় আশির দশকের শেষের দিকে যখন সুচিত্রা অভিনীত ছবিগুলি দেখতে আরম্ভ করি, তখনও তা আমাদের মনে এক গভীর মাদকতা এনে দিত। বেশ মনে আছে, ক্লাস সেভেন বা এইটে দেখেছিলাম সুচিত্রা-উত্তমের ‘সাগরিকা’। সাগরিকা দেখে আমারই এক সহপাঠিনী রবিঠাকুরের সাগরিকা কবিতাটি খুলে উন্মনা হয়ে আবৃত্তি করেছিল ‘সাগরজলে সিনান করি সজল এলো চুলে বসিয়াছিল উপল উপকূলে…’ আর সুচিত্রার ভাসা ভাসা চোখ দুটির স্টাইলে দূর আকাশে দৃষ্টি হেনে গেয়েছিল ‘এই মধুরাত শুধু ফুলপাপিয়ার, এই মায়ারাত শুধু তোমার আমার…’। তখন সবে প্রেমের মুগ্ধতাকে অনুভব করার বয়সে পা দিয়েছি। না, সে সময়ের প্রেমে তীব্র প্যাশন ছিল না, ছিল এক মায়াবী রোম্যান্টিকতা, অদ্ভুত স্বপ্নময়তা। তাই ১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সাগরিকার রোম্যান্টিক গান আশির দশকের শেষের দিকেও আমাদের কিশোর মনগুলোকে অভিভূত করেছিল। ‘দুটি হিয়া চুপিচুপি এল কাছাকাছি,/প্রেম বলে দুজনার মাঝে আমি আছি/হৃদয়ের এই চাওয়া/নিবিড় করিয়া পাওয়া/এ জীবনে কোনও দিন নহে ভুলিবার’…! নাঃ কারও সঙ্গেই শেষমেশ সেই রোম্যান্টিকতা ধাক্কাটা লাগেনি আর গল্পের অরুণ দেশে ফিরে এলে বাস্তবের অরুণ হয়তো সেই সাগরপাড়েই রয়ে গিয়েছিল। কোনও সাগরিকা তার জন্য অপেক্ষা করে ছিল কি না সে খবর সে রাখেনি।

যখন কোনও শিল্পী মানুষের মনের গভীরতম জায়গাটা স্পর্শ করতে পারেন, তখনই তিনি সার্থক। সুচিত্রা সেন এমনই শিল্পী ছিলেন, আমরা সাধারণ মানুষ মুগ্ধ দর্শক তাঁর মায়াবী জাদুর ছোঁয়ায় বিমোহিত হই বারবার। গ্ল্যামারে ধুয়ে যেত তাঁর গোটা শরীর, ব্যক্তিত্ব। ‘এই রাত তোমার আমার’ শুধু রোম্যান্টিক নায়িকার ভূমিকায় নয়, ১৯৫৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ছবিতে সুচিত্রা সেনের অভিনয় যে কি মর্মস্পর্শী যে শেষ দৃশ্যে আমরা আমাদের চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। ‘আমি অভিনয় করিনি, আমি অভিনয় করতে পারি না’ নার্স রাধা মিত্র ভেঙে পড়ে কান্নায়। পর্দা জুড়ে কেবল সুচিত্রার অস্থির আকুল দুটি চোখ। মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত রোগীকে সুস্থ করে তোলার দায়িত্বে নার্স রাধা মিত্র। সে রোগী পুরুষ আর রাধাকে ভালবাসা দিয়ে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে হবে তাকে। এই রোগের এটিই চিকিৎসা। কিন্তু ভালবাসার অভিনয় করতে করতে অভিনয়টাই যে সত্যি হয়ে ওঠে সেটা কেউ বোঝে না। রাধা তো যন্ত্র নয়, সে রক্তমাংসে গড়া মানূুষ। তারও মন আছে— সে মন অজান্তেই জড়িয়ে যায় রোগীর সঙ্গে। জোর করে নিজেকে সরিয়ে রাখতে গিয়ে এ সময় সে মানসিক ভারসাম্য হারায়। নার্স রাধা মিত্রের ভূমিকায় সুচিত্রা সেনের অভিনয়ই বলে দেয় উনি কত বড় মাপের অভিনেত্রী ছিলেন। আর একটি ছবির নামও না করলে নয়, তা হল ‘উত্তর ফাল্গুনী’। এখানেও সুচিত্রা রোম্যান্টিক নায়িকা নন। এই সিনেমায় দ্বৈত চরিত্রে তাঁর অভিনয় মা ও মেয়ের ভূমিকায়। দেবযানী জীবনের পাকচক্রে হয়ে ওঠে পান্না বাঈ। তারই মেয়ে সুপর্ণা। সুপর্ণাকে দেবযানী তার দুর্ভাগ্যের শরিক করতে চায়নি। তাই সে পালিত হয় দেবযানীর প্রথম জীবনের সব থেকে ভালবাসার মানুষটির কাছে, যে মানুষটির সঙ্গে বিয়ে হলে তাকে পান্নাবাঈ হয়ে উঠতে হত না। সারা জীবন নিজের দুশ্চরিত্র, লম্পট স্বামীর কাছে আপমানিত হতে হতে এক সময়ে সেই স্বামীর কাছ থেকে দূরে রাখার জন্য স্বামীকে হত্যা করে সে। আর সেই হত্যার বিচারে পান্নাবাঈ জীবনের সমস্ত লাঞ্ছনা, অপমান আর অত্যাচার তুলে ধরে সকলের সামনে। সুপর্ণা আদালতে দাঁড়িয়ে মাথা উঁচু করে ঘোষণা করে, সমাজের চোখে পতিতা এই পান্নাবাঈ তার মা— তার গর্ভধারিণী, মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়েই পান্নাবাঈ দিনের পর দিন মুখ বুজে সয়েছে এই লাঞ্ছনা, শুধু মেয়েকে মানুষের মত মানুষ করে তোলার জন্য। ‘দীপ জ্বেলে যাই’ এবং ‘উত্তর ফাল্গুনী’ দুটি সিনেমারই পরিচালক অসিত সেন। উত্তর ফাল্গুনী হিন্দিতেও অভিনীত হয় ‘মমতা’ নামে। সুচিত্রা সেনের আন্তর্জাতিক খ্যাতি অবশ্য এসেছিল ‘সাত পাকে বাঁধা’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে। ১৯৬৩ সালে এই সিনেমার জন্য তিনি মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বেস্ট অ্যাকট্রেস পুরস্কার লাভ করেন। ভারতীয় অভিনেত্রীদের মধ্যে সুচিত্রা সেনই প্রথম আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন। সুচিত্রা সেন আমাদের চিরকালের নায়িকা। নায়িকার ভূমিকাতেই আমরা তাঁকে দেখেছি। ১৯৭৮ সালে প্রণয় পাশায় অভিনয়ের পর ১৯৭৯ সাল থেকে তিনি নিজেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে সরিয়ে নিয়ে যান। এর পর আর কখনও তিনি স্বেচ্ছায় জনসমক্ষে আসেননি। এ যেন এক রকম সন্ন্যাসীর জীবন যাপন করা। একই জীবনে বিপুল খ্যাতি এবং সে খ্যাতি হেলায় ত্যাগ করে নির্জনবাস এমন মানুষ বিরল। তাই সুচিত্রা সেন অসাধারণ কী নায়িকার ভূমিকায়, কী জীবন দর্শনে। কার সঙ্গে তাঁর তুলনা করব? গ্রেটা গার্বো? মনরো? নাহ, তাঁর তুলনা একমাত্র তিনিই। সুচিত্রার কোনও রকম বিকল্প হয় না। তাই উত্তম-সৌমিত্র-বসন্ত চৌধুরী থেকে ধর্মেন্দ্র-দেব আনন্দ-সঞ্জীব কুমার! সবার প্রিয় নায়িকা তিনিই। প্রয়াত মহানায়িকার উদ্দেশ্যে জানাই আমাদের সশ্রদ্ধ প্রণাম ও ভালবাসা। এ প্রসঙ্গে আপনাদের জানিয়ে দিই, মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ‘আনন্দম’ সংস্থা ১ ফেব্রুয়ারি বান্দ্রার সেন্ট অ্যান্ড্রুস অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ‘কথায় গানে সুচিত্রা সেন’। ‘আনন্দম’এর কর্ণধার লাকি মুখোপাধ্যায় জানালেন, এই অনুষ্ঠানে সুচিত্রা সেনের ব্যক্তিগত ও চলচ্চিত্র জীবনের ওপর আলোকপাত করা হবে। মুম্বইয়ের খ্যাতনামা শিল্পীদের গলায় শোনা যাবে সুচিত্রা অভিনীত ছবিগুলির বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি মিলিয়ে মোট আঠেরোটি গান এবং অবশ্যই সেই সব গান যেগুলির দৃশ্যগ্রহণে সুচিত্রা সেন লিপ দিয়েছিলেন। সত্যিই সুচিত্রার লিপে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় কিংবা গীতা দত্তের কণ্ঠে অসাধারণ সব গান— আজও যার কোনও বিকল্প নেই। সঙ্গীতেরও সে ছিল এক স্বর্ণযুগ। এই অনুষ্ঠানে প্রাপ্ত অর্থ দান করা হবে ক্যানসার রোগীদের সাহাযার্থে। অনুষ্ঠানটির পর থাকছে একটি নাটক ‘বিবাহ বিভ্রাট’ লাকি মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায়। মহানায়িকা স্মরণের পরে এ বার আপনাদের জানাই ভিন্ন স্বাদের এক অনুষ্ঠান সম্পর্কে। ‘লাল মাটি উৎসব ও গান মেলা’। নবী মুম্বইয়ের সিবিডি বেলাপুরের আরবান হাটে ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার ভাইবোনেরা আসছেন তাঁদের লোকসংস্কৃতির সম্ভার নিয়ে। আমার পূবর্ প্রকাশিত লেখায় এ সম্পর্কে উল্লেখ করেছিলাম। এ বার অনুষ্ঠানের খুঁটিনাটি বিষয়ে আপনাদের জানিয়ে দিই। রঞ্জিত ঝর্না কাঁসাই ইকো ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে এবং নীলকণ্ঠ উডস ইকো ভিলেজ-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হবে এই অনুষ্ঠান। ফাউন্ডেশনের কর্ণধার রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায় বিশদ জানালেন অনুষ্ঠান সম্পর্কে। পুরুলিয়ার প্রতি তাঁর অসীম টান। রুখু মাটির দেশ থেকে বহু দূরে মুম্বইয়ে বহু বছর। ব্যস্ত, প্রতিষ্ঠিত জীবন। পুরুলিয়ার প্রতি রাজর্ষির ভালবাসটা কিন্তু কমেনি, বেড়েছে। প্রথমেই পুরুলিয়ার মাটির গান ও নৃত্য বিষয়ে বলে নিই। পুরুলিয়ার জাহাজপুরের শিরান গ্রাম থেকে ধামসা মাদল সহযোগে সাঁওতালি নৃত্য পরিবেশন করতে আসছেন নরেন হাঁসদা ও সম্প্রদায়। ছৌ নৃত্য পরিবেশন হরিজন ছৌ সমিতি। ছৌ নাচের শিল্পীরা রঞ্জিত ঝর্না কাঁসাই ইকো ফাউন্ডেশন-এর ছৌ অ্যাকাডেমির শিল্পী। প্রখ্যাত লোকসঙ্গীত ও ঝুমুর গানের শিল্পী অংশুমান রায়ের সুযোগ্য পুত্র ভাস্কর রায়ের কণ্ঠে শোনা যাবে লোকগান। প্রয়াত শিল্পী অংশুমান রায় বহু জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত ছাড়াও গেয়েছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গান। লোকসঙ্গীত গাইবেন আরও এক শিল্পী নীলরতন কাঞ্জিলাল, যিনি উত্তরবঙ্গের লোকসঙ্গীত নিয়ে প্রচুর পড়াশোনাও করেছেন। আর এক শিল্পী কানাইলাল কারফর্মা গাইবেন মানভূমের লোকগান। শুনতে পাওয়া যাবে বাউল সুজন বিশ্বাসের বাউল গান। ইনি বাংলা সিনেমা ‘চোখের বালি’ ও ‘মনের মানুষ’-এর শিল্পী। এই অনুষ্ঠানের ডালি সাজানো হয়েছে লোকসঙ্গীত ছাড়াও ধ্রুপদী ও অন্যান্য গানের সম্ভার দিয়ে। সকালবেলা ধ্রুপদী আসরে রাজেন্দ্র কুলকার্নির বাঁশি, গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠ রাগসঙ্গীতের মাধুর্যে মুগ্ধ করবে শ্রোতাদের। থাকবে গ্র্যামি পুরস্কারপ্রাপ্ত পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভাটের মোহন বীণা বাদন। সেতারবাদনে প্রখ্যাত সেতার বাদক অমিতা দালাল এবং রামপুর সিমিয়া ঘরানার সাহানা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করবেন শান্তিনিকেতনের সরস্বতী সোরেন। এই অনুষ্ঠানের আর একটি আকর্ষণ শান্তিনিকেতন আশ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন-এর সদস্যবৃন্দের ‘বসন্তোৎসব’।

এ বারে আসি মুম্বইয়ের কয়েক জন খ্যাতনামা শিল্পীদের গানে। সূর্য ভট্টাচার্য মুম্বইয়ে অতি পরিচিত সঙ্গীতশিল্পী। তিনি গানের তালিম নিয়েছেন কিংবদন্তী শিল্পী স্বর্গত মান্না দে এবং পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর কাছে। সলিল চৌধুরী, আর ডি বর্মন এবং এ আর হরমানের সুরে গান গেয়েছেন সূর্য ভট্টাচার্য। দেশে বিদেশে গানের বহু অনুষ্ঠান করেছেন। বিদেশে নানা অনুষ্ঠান করতে তাঁকে সহায়তা করেছেন কবিতা কৃষ্ণমূর্তি। সূর্য ভট্টাচার্য গীতিকার, সুরকার এবং একটি নাটকও রচনা করেছেন। সঙ্গীতশিল্পী যিনি শিরোমণি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, গান শিখেছেন অনুপ জলোটা, রবীন্দ্র জৈনের কাছে। এ ছাড়া স্বস্তিকা ও সুদীপ্তা চক্রবর্তী বলিউডের সঙ্গীত জগতের সঙ্গে যুক্ত। এই শিল্পীরা সবাই একটি আলেখ্য করবেন যার নাম ‘চল ফকিরা মন বাউলের দেশে’।
কলকাতা থেকে আসছেন প্রতিভাসম্পন্ন নবীন শিল্পীরাও। তিস্তা আচার্য ও সুপ্তি বর্ধন। তিস্তা ও সুপ্তি দু’দিন গাইবেন লোকগান ও আধুনিক। এ ছাড়া রয়েছে ভায়োলিন বাদন এবং শ্রুতিছন্দম-এর শিল্পীদের গান ও নিবেদিতা ডান্স ট্রুপের অনুষ্ঠান। এই লাল মাটি উৎসবের আরও আকর্ষণ হল প্রখ্যাত পরিচালক রাজা সেনের মুভি যেটি উত্তরবঙ্গের আলকাপ লোকনৃত্য সম্পর্কে নির্মিত।
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আড্ডায় উপস্থিত থাকবেন লেখিকা জয়া মিত্র, রাজা সেন ও অভিনেত্রী মলি দত্ত। অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি নৃত্য সহযোগে ‘ধিতাং ধিতাং বোলে’ গানের সঙ্গে। সুধীজন, আপনারা এই উৎসবের জন্য প্রস্তুত তো? আশা করি ‘লাল মাটি উৎসব’ আপনাদের সেই ফেলে আসা বঙ্গভূমিতেই নিয়ে যাবে মরমী মনপাখির ডানায় ভর করে। রাজর্ষি আরও জানিয়েছেন, দাদার শিবাজি পার্কের বেঙ্গল ক্লাব তাঁদের অনুষ্ঠানের জন্য ৫০ হাজার টাকা সাহায্য করেছে। লাল-মাটি উৎসব: পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের টেকনো ইন্ডিয়া এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আড্ডায় উপস্থিত থাকবেন সাহিত্যিক জয়া মিত্র, চিত্র পরিচালক রাজা সেন, চিত্রশিল্পী সমীর মণ্ডল, নাট্যকার লাকি মুখোপাধ্যায়, সাহিত্যপ্রেমী উদয়ন ভট্টাচার্য, অমিত গঙ্গোপাধ্যায় এবং কবিতা পাঠে মলি দত্ত। দু’দিনের এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন তাপস মাইতি। এস বি আই সুপার মাইন্ড—২০১৫ মেগা ইন্টারস্কুল ক্যুইজ কম্পিটিশন: থানে নিউ বেঙ্গল ক্লাব এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল বিশিষ্ট ক্যুইজ মাস্টার সিদ্ধার্থ বসুর ট্রি অফ নলেজ-এর সহযোগিতায়। প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয় ২৫ জানুয়ারি থানে ওয়েস্ট হীরানন্দানি মিডোস-এর কাশীনাথ ঘানেকর প্রেক্ষাগৃহে। এই প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতার ক্যুইজ মাস্টার ছিলেন জয় ভট্টাচার্য। জয় বর্তমানে ইউ সেভেন্টিন ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১৭-এর প্রোজেক্ট ডাইরেক্টর। এখানে মোট ৮৮টি দল ছিল। প্রতিটি দলে ছিল তিন জন করে। মুম্বই, নভি মুম্বই ও থানের মোট ২২টি স্কুলের ছাত্ররা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। থানের নিউ বেঙ্গল ক্লাব-এর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। থানের নিউ বেঙ্গল ক্লাবের তরফে অতনু ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এমন ধরনের অনুষ্ঠান তাঁরা আবার করবেন, এবং তা ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থেই।

http://jugapath.com/wp-content/uploads/2017/01/1459943550514.jpghttp://jugapath.com/wp-content/uploads/2017/01/1459943550514-150x150.jpgjugapathবিনোদনমিডিয়ালাইফ ষ্টাইলসংস্কৃতিসুমন দেঃ  পর্দা জুড়ে তাঁর অপরূপ মুখশ্রীর স্বর্গীয় দ্যুতি। তাঁর প্রবল ব্যক্তিত্ব, স্বকীয়তা, সম্ভ্রম আর আভিজাত্যের বিস্ফারে সম্মোহিত দর্শক। বিশাল পর্দায় ভেসে থাকা তাঁর চাহনি— কথা বলছে শুধু তাঁর চোখ— দীর্ঘ, উজ্জ্বল আর ভীষণ বাঙ্ময় দুই চোখই বলে দেয় কে তিনি? সুচিত্রা সেন (৬ এপ্রিল, ১৯৩১ - ১৭ জানুয়ারি, ২০১৪)...

Comments

comments