100 GB Free Backup
This post has been seen 126 times.

ছবি সংগৃহীত

সুমন দেঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে ২০১১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে লেখক অভিজিৎ রায় খুন হন।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাত সোয়া নয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে সন্ত্রাসীরা অভিজিৎ​ রায় ও তাঁর স্ত্রী নাফিজা আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অভিজিৎ​। হাসপাতালের চিকিৎসক রেজা তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিজিৎ​ ও তাঁর স্ত্রী দুজনই আমেরিকাপ্রবাসী। তিনি মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। তাঁর লেখা নয়টির বেশি বই রয়েছে। অভিজিৎ​ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজয় রায়ের ছেলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পিনাক রায় জানান, ধারালো অস্ত্রধারী দু-তিনজন সন্ত্রাসী অভিজিৎ​ ও তাঁর স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর অবস্থায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।  

খুন হওয়ার দুই মাসের বেশি সময় পর ৩ মে ভারতীয় উপমহাদেশের আল কায়েদার প্রধান আসিম উমর দায় স্বীকার করে একটি ভিডিও বার্তা ইন্টারনেটে তোলেন।

বাংলাদেশে ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট খুন হওয়ার ঘটনায় প্রেক্ষিতে বারে বারে আলোচনায় আসছে ২০১৩ সালের সেই ৮৪ জনের লিস্ট। কেন, কীভাবে, কোন প্রেক্ষিতে এই হিট-লিস্ট করা হয়েছে কারা করেছিল? কারা করেছিল সেই লিস্ট? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অনেকের হয়তো জানা নেই।

কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ সাজা ‘ফাঁসি’র দাবীতে ৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে জড়ো হয় অনলাইন এক্টিভিস্ট ও ব্লগার কমিউনিটি। ফাঁসির দাবীতে শাহবাগ যখন তুঙ্গে, মিডিয়ায় কল্যাণে ব্লগার নামটি যখন জনপ্রিয়তা পায় ঠিক তখন খুন হোন রাজীব হায়দার। ১৫ ফেব্রুয়ারি, জঙ্গিদের হাতে খুন হওয়ার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর রাজীবের বাসায় যান। রাজীব হায়দার শাহবাগে জড়ো হওয়ার লক্ষ লক্ষ মানুষের মতন শাহবাগের একজন সমর্থক ও কর্মী ছিলেন। শাহবাগ আন্দোলনের সময় শুধু রাজীব হায়দার নন পরবর্তীতে খুন হোন আরও অনেকে। এর মধ্যে রাজাকার গোলাম আযমের সাক্ষী গীতিকার ও গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ভাই মিরাজ আহমেদ হত্যা অন্যতম। প্রাথমিকভাবে রাজীব হায়দার খুনের ঘটনায় জামাত-শিবিরের সম্পৃক্ততা মনে করা হলেও পরবর্তীতে দেখা গেল তিনি খুন হয়েছেন তার নিজের লেখালেখির কারণে। খুনিরা আনসার বাংলা নামে একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু নিহত রাজীব হায়দারকে দেখতে গিয়েছেন এবং ব্লগার পরিচয়টি যখন মানুষের মনে নতুন জনপ্রিয় শব্দ তখন বিএনপির মুখপত্র ‘আমার দেশ’ পত্রিকাসহ আরও অনেক ডানপন্থী পত্রিকা রাজীবের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ‘নাস্তিক’ পরিচয়টি হাইলাইট করে তার লেখালেখি পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশ করে। এখানে স্মরণ রাখা প্রয়োজন; শাহবাগ সৃষ্টি হওয়ার পরপর-ই জামাতের সাথে বিএনপির সম্পর্ক থাকায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ব্লগারদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন। ব্লগার রাজীব হায়দার খুন, শাহবাগে রাজীবের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর হেফাজত ইসলাম নাস্তিক ও ব্লগ ইস্যুকে সামনে রেখে রাস্তায় নামে। ইসলামপন্থী দল গুলোসহ অন্যরা পেছনে থাকলেও মূল ভূমিকায় থাকে হেফাজতে ইসলাম। ২০১০ সালে নারী নেতৃত্বের প্রতিবাদে হেফাজত ইসলামের সৃষ্টি। ২০১৩ সালে ব্লগার ইস্যুতে তারা মাঠে নামে। হেফাজত অভিযোগ করে শাহবাগের ব্লগাররা ইসলাম ও নবীর বিরুদ্ধে লেখালেখি করে। এক দিকে শাহবাগ অন্যদিকে হাটহাজারির হেফাজতের আন্দোলন সৃষ্টি হওয়ার ফলে ঢাকার রাজাকারের ফাঁসির ইস্যুটি চট্টগ্রামে নাস্তিক ফাঁসির ইস্যুতে রূপ নেয়। জাতির মধ্যেও স্পষ্টভাবে বিভক্তি হাজির হয়।

চলবে…

http://jugapath.com/wp-content/uploads/2017/02/37e0577654aad6001de96eb4ec29aa1a-1.jpghttp://jugapath.com/wp-content/uploads/2017/02/37e0577654aad6001de96eb4ec29aa1a-1-150x150.jpgjugapathশীর্ষ সংবাদসুমন দেঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে ২০১১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে লেখক অভিজিৎ রায় খুন হন।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাত সোয়া নয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে সন্ত্রাসীরা অভিজিৎ​ রায় ও তাঁর স্ত্রী নাফিজা আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল...

Comments

comments