প্রচ্ছদ


অনেক সম্পাদক তার পিতার নাম ও বলতে পারে না

16 November 2017, 00:25

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 759 times.

জান্নাতুল ফেরদৌস

বিভিন্ন নামসর্বস্ব অনলাইন মিডিয়ায় আবার দেখা যাচ্ছে অপসাংবাদিকতা । কোন রকম যাচাই বাছাই ছাড়াই সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে । এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সর্বস্তরের মানুষ । এ ধরণের অনেক অনলাইনে সম্পাদকের নাম পাওয়া যায় না । নাম যদি পাওয়া যায়, ঠিকানা পাওয়া যায় না । অনেক সম্পাদক তার পিতার নাম ও বলতে পারে না । অথচ এদের কারণে কালিমা লিপ্ত হচ্ছে অনলাইন সাংবাদিকতা । গত ১৬ জুলাই তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছিলেন , অনলাইন সাংবাদিকতার নামে মিথ্যাচার, চরিত্রহনন, গুজব ও উসকানি ছড়ালে কঠোর অবস্থান নিতে হবে । তথ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএমএ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশের অনলাইন গণমাধ্যমগুলো অবাধ তথ্যপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং সরকার অনলাইন গণমাধ্যমকে সুরক্ষা দেবে। সদ্যপ্রণীত নীতিমালা এ ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনার কাজ করবে।

গণমাধ্যমের পবিত্রতা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনলাইন সংবাদ পোর্টালগুলোকে যেমন গণমাধ্যমের পবিত্রতা বজায় রাখতে হবে, তেমনি সাংবাদিকতার নামে মিথ্যাচার, চরিত্রহনন, গুজব ও উসকানি ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

সভায় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়নকালে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য ‘বিওএমএ’সহ সব অংশীজনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তথ্যমন্ত্রী। সেই আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন বিওএমএর বর্তমান সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আবদুর রহিম খান , সাধারন সম্পাদক সৌমিত্র দেব , সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসেন, সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম কাজল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. লুৎফুর রহমান, আফরোজা বেগম শিরিন্‌,কামরুজ্জামান হিমু প্রমুখ সেই মতবিনিময়ে অংশ নেন। তারা মন্ত্রীর বক্তব্য যদি সঠিক ভাবে বুঝে থাকেন,তাহলে অবশ্যই তাদের অনলাইনের নামে এই অপসাংবাদিকতাকে রুখে দিতে হবে ।

কিছু কিছু অনলাইনের এ সব অপতৎপরতার কারণে এক সময় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলি ।তিনি রেডটাইমসে লিখেছিলেন ,অনলাইন সাংবাদিকতা ও সামাজিক দায় ।

গত ৭ নভেম্বর বিওএমএ-র এক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থ ও নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত আলতাফ মাহমুদকে অব্যহতি দেয়া হয় । তারপর থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র দেব এর চরিত্র হনন করার জন্য মিথ্যা বানোয়াট সব গল্প তিনি অই সব নাম পরিচয়হীন অনলাইনে প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেন আলতাফ । ভিত্তিহীন এ সব সংবাদে অনেক মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন । কারণ, আমরা জানি্‌ ,সৌমিত্র দেব এ দেশে অনলাইন সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ । তিনি এর আগে কাজ করেছেন মানবজমিন,প্রথম আলোসহ দেশের প্রধান কয়েকটি কাগজে । টেলিভিশনে টকশোতে তিনি সবার নজর কেড়েছেন । এ রকম একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারি ব্যাক্তিত্বকে যদি নাম পরিচয়হীন অনলাইনগুলো অকারণে বাজে কথা বলার দুঃসাহস দেখায়,তাহলে অনলাইন সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ অন্ধকার । সুস্থ, বস্তুনিষ্ঠ অনলাইন মিডিয়াকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে ।

জান্নাতুল ফেরদৌস ,শিশু ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদ্‌ক,বিওএমএ



Shares