প্রচ্ছদ


আজ বিপ্লবী শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর জন্মদিন

04 December 2017, 15:46

সুমন দে
Share
This post has been seen 310 times.

১৮৮৯ সালের ৩রা ডিসেম্বর জন্ম নিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম বসু । গল্প আছে , মা লক্ষ্মীপ্রিয় দেবী পরপর অনেক কজন সন্তানকে হারানোর পর ক্ষুদিরাম কে হারাবার ভয়ে মাত্র তিন মুঠো ক্ষুদের বিনিময়ে তাকে তার দিদি অপরূপা দেবীর কাছে বিক্রি করে দেন , সেই থেকেই তাকে সবাই ক্ষুদিরাম বলে চেনে। ছোটো বেলায় ক্ষুদিরাম সমাজের তথাকথিত ভালো ছেলেদের মধ্যে ছিলেন না । তিনি মেধাবী হলেও শিক্ষকদের কাছে দুরন্তপনার জন্য প্রয়ই তিরস্কার পেতেন । তৎকালীন কুসংস্কার আচ্ছন্ন ভারতে তিনি তার সহপাঠী দের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ভুত তাড়ানোর ও মাড়ার দল , যেগুলো কে আমরা এখন যুক্তিবাদী সংগঠন বলি । এর জন্য তাকে বড়দের কাছ থেকে অনেক তিরস্কার ও পেতে হয়েছিল । সত্তেন্দ্রনাথ বসুর সশস্ত্র বিপ্লবী দল ” যুগান্তর “এর সদস্য খুদিরাম একসময় উঠে আসে বিপ্লবী স্ফুলিঙ্গ হিসেবে। ১৯০৬ সালে সম্ভবত মেদিনিপুরের মারাঠা কেল্লায় এক শিল্প প্রদর্শনী আয়োজিত হয় । ক্ষুদিরাম গেছিলেন সেখানে ” সোনার বাংলা ” নামক বিপ্লবী পত্রিকা বিক্রির জন্য । সেই সময় এক পুলিস তার হাতের কব্জি ধরে বলে ” কেয়া কার রেহে হো ? ” , ক্ষুদিরাম সজোরে তার নাকে এক ঘুসি বসিয়ে বলে ” কুছ পরোয়া নেহি ” । , বয়েস কম হওয়ায় কিছুদিন আত্ম গোপনে থাকার পর পুলিস মামলা তুলে নেয় । কিন্তু ব্রিটিশ শাসনকে একটা ঘুসি মেরেই এই আগুন তো নেভার ছিল না । তার উদ্দেশ্য যে ছিল দেশ কে স্বাধীন করা , ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভীত কাঁপিয়ে দেওয়া । ১৯০৮ সালের ৩০ শে এপ্রিল, প্রফুল্ল চাকি এবং খুদিরামের উপর নির্দেশ এলো, কিংসফোর্ড কে হত্যা করার। সময়মত অপেক্ষায় ছিলেন দুইজন বোমা হাতে। কিন্তু লক্ষ্যভ্রস্ট হয়ে কিংসফোর্ড বেঁচে যান এবং দুঃখজনকভাবে মারা যান এডভোকেট কেনেডির স্ত্রী এবং কন্যা। ধরা পড়েন দুজনেই কিন্তু প্রফুল্ল নিজের রিভলবারের গুলিতে আত্মত্যাগ করেন এবং খুদিরামের বিচার সম্পন্ন হলে ফাঁসির হুকুম হয়। ফাঁসির মঞ্চে খুদিরাম কে তার শেষ ইচ্ছা জানতে চাইলে বলেছিলেন, ” আমি খুব ভাল বোমা বানাতে পারি, ভারতীয়দের সেই বোমা বানানো শিখিয়ে দিতে চাই”। অনেকেই এখন খুদিরামের এই বিপ্লবের বিপক্ষে কথা বলেন কিন্তু খুদিরাম’রা যদি না বুঝেই বিপ্লব শুরু করে দিতেন তাহলে আজ অবধি আমরা মুক্তির স্বাদ পেতাম না। কাউকে না কাউকে বিপ্লব শুরু করতে হয় তারপরেই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।

তার পিতা ত্রৈলকানাথ বসু ছিলেন নাড়াজোল প্রদেশের শহরে আয় এজেন্ট। তার মা লক্ষীপ্রিয় দেবী। তিন কন্যার পর তিনি তার মায়ের চতুর্থ সন্তান। তার দুই পুত্র আগেই মৃত্যুবরণ করেন। অপর পূত্রের মৃত্যুর আশংকায় তিনি তখনকার সমাজের নিয়ম অনুযায়ী তার পুত্রকে তার বড় বোনের কাছে তিন মুঠি খুদের (শস্যের খুদ) বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। খুদের বিনিময়ে ক্রয়কৃত শিশুটির নাম পরবর্তীতে ক্ষুদিরাম রাখা হয়। ক্ষুদিরাম বসু পরবর্তিতে তার বড় বোনের কাছেই বড় হন। ক্ষুদিরাম বসু তার প্রাপ্তবয়সে পৌঁছানোর অনেক আগেই একজন ডানপিটে, বাউণ্ন্ডুলে, রোমাঞ্চপ্রিয় হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। ১৯০২-০৩ খ্রিস্টাব্দ কালে যখন বিপ্লবী নেতা শ্রী অরবিন্দ এবং সিস্টার-নিবেদিতা মেদিনীপুর ভ্রমণ করে জনসম্মুখে বক্তব্য রাখেন এবং বিপ্লবী দলগুলোর সাথে গোপন পরিকল্পনা করেন, তখন তরুণ ছাত্র ক্ষুদিরাম বিপ্লবে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত হন। ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে ক্ষুদিরাম তার বোন অপরূপার স্বামী অম্রিতার সাথে তমলুক শহর থেকে মেদিনীপুরে চলে আসেন। সেখানে তিনি মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল এ ভর্তি হন। এখানেই তার বিপ্লবী জীবনের অভিষেক। তিনি বিপ্লবীদের একটি নবগঠিত আখড়ায় যোগ দেন। এটি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্রিটিশ বিরোধীদের দ্বারা পরিচালিত হতো। অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই ক্ষুদিরাম তার গুণাবলীর জন্য সবার চোখে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন। ক্ষুদিরাম বসু তার শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ বোস এর নিকট হতে এবং শ্রীমদ্ভগবদগীতা পড়ে ব্রিটিশ উপনিবেশের বিরুদ্ধে বিপ্লব করতে অনুপ্রাণিত হন। তিনি বিপ্লবী রাজনৈতিক দল যুগান্তরে যোগ দেন। ১৬ বছর বয়সে ক্ষুদিরাম পুলিশ স্টেশনের কাছে বোমা পুঁতে রাখেন এবং ইংরেজ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করেন। একের পর এক বোমা হামলার দায়ে ৩ বছর পর তাকে আটক করা হয়।।৩০ এপ্রিল ১৯০৮-এ মুজাফফরপুর, বিহারে রাতে সাড়ে আটটায় ইওরোপিয়ান ক্লাবের সামনে বোমা ছুড়ে তিনজনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ক্ষুদিরামের বিচার শুরু হয় ২১ মে ১৯০৮ তারিখে যা আলিপুর বোমা মামলা নামে পরিচিত হয়। বিচারক ছিলেন জনৈক বৃটিশ মি. কর্নডফ এবং দুইজন ভারতীয়, লাথুনিপ্রসাদ ও জানকিপ্রসাদ। রায় শোনার পরে ক্ষুদিরামের মুখে হাসি দেখা যায়। তার বয়স খুব কম ছিল।

Share


Shares