প্রচ্ছদ


মমতা ঘনিষ্ঠ ভারতী ইস্তফা দিলেন

28 December 2017, 14:18

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 237 times.

গত সোমবার রাতে নবান্ন পাঁচ আইপিএস অফিসারের বদলির নির্দেশ জারি করে৷ সেখানে ভারতীর নাম ছিল৷ তাঁর জায়গায় পুলিশ সুপার পদে পাঠানো হয় অলোক রাজোরিয়াকে৷ তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের এসপি ছিলেন৷ জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতেই তিনি মেদিনীপুর জেলা ছাড়েন৷ বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই ইস্তফাপত্র পাঠান তিনি৷ তিনি যে নতুন জায়গায় কাজে যোগ দেবেন না তা নিশ্চিত করতে ইস্তফাপত্রের পাশাপাশি ৯০ দিনের ছুটিও চেয়েছেন বলে সূত্রের খবর৷ বড়দিনের রাতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপারের পদ থেকে ভারতীকে বদলি করা হয়৷ ব্যারাকপুরে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের তৃতীয় ব্যাটেলিয়নের কম গুরুত্বপূর্ণ পদে কম্যান্ডিং অফিসারের পদে তাঁকে নিযুক্ত করা হয়৷ তবে, নয়া পদে যোগ না দিয়ে না আইপিএস এফিসার ভারতী ঘোষ নিজের পদ থেকে অব্যাহতি চায়ে নবান্নে ইস্তফা পাঠান বলে খবর৷ পাশাপাশি, রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থের কাছে ৯০ দিনের ছুটিরও আবেদন করেন তিনি৷

ভারতী ঘোষকে মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ বলেই জানে রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে পুলিশ ও প্রশাসনিক মহল৷ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন৷ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তাঁকে প্রথমে ঝাড়গ্রাম পুলিশ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ ঝাড়গ্রাম জেলা হয়ে যাওয়ার পরও তিনি সেখানকার এসপি হয়েছিলেন৷ প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীকে জঙ্গলমহলের মা বলেও বিতর্ক তৈরি করেছিলেন ভারতী ঘোষ৷ এ হেন একজন আইপিএস অফিসারকে কেন ইস্তফা দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, সবংয়ের ভোটের ফলের শাস্তি পেলেন ভারতী ঘোষ৷ কারণ, সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী গীতারানি ভুঁইয়া জিতলেও বামেরা দ্বিতীয় হয়েছে৷ পাশাপাশি ভোট বেড়েছে বিজেপির৷ ২০১৬ সালে বিজেপি যেখানে প্রায় ৫ হাজার ভোট পেয়েছিল৷ সেখানে এবার তাদের ঝুলিতে এসেছে প্রায় ৩৭ হাজার ভোট৷ শতকরা হিসেবে ভোটবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশ৷ কীভাবে এই পরিমাণ ভোট বাড়ল, তা চিন্তা বাড়িয়েছে শাসক দলের৷

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, পুলিশ সুপার হলেও রাজনীতির ক্ষেত্রে অবাধ বিচরণ ছিল ভারতীর৷ তাঁর বিরুদ্ধে বারবার শাসক দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে৷ খড়গপুর পুরসভায় বিজেপি জিতলেও মূলত তিনিই সেখানে বিজেপির বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা ভেস্তে দেন বলে অভিযোগ৷ জঙ্গলমহলে শাসক দলের লাভ দেখাই তাঁর মূল কাজ বলেই বারবার অভিযোগ করেছেন বিরোধী নেতারা৷ তার পরও ভারতী ঘোষের অবস্থান বদল হয়নি৷ এই পরিস্থিতিতে বিজেপির ভোট কীভাবে বাড়ল, সেই প্রশ্নই বড় উঠেছে শাসক দলে৷ কেন গোয়েন্দা রিপোর্ট ঠিকভাবে আসেনি, তাও একটা বড় প্রশ্ন৷ আর সেই প্রশ্নের উত্তর না মেলাতেই সম্ভবত শাস্তি পেলেন ভারতী৷



Shares