প্রচ্ছদ


ভারতে আদালতের রায়ের পরেও বন্ধ হয়নি তিন তালাক

28 December 2017, 22:04

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 243 times.

বৃহস্পতিবার সংসদে পেশ করা হয় বহু প্রতিক্ষীত মুসলিম মহিলা সুরক্ষা বিল ২০১৭৷ শর্তসাপেক্ষে বিলটিকে সমর্থন করে কংগ্রেস৷ তবে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমেনের সভাপতি তথা সাংসদ ওসাদুদ্দিন ওয়েসি বিলটির বিরোধীতায় সংসদে নোটিশ দেন৷ শুরু থেকেই বিলটির বিরোধীতায় সুর চড়িয়েছেন তিনি৷ ওয়েসির দাবি, বিলটি মুসলিম মহিলাদের স্বার্থের পরিপন্থী৷ ওয়েসি ছাড়াও বেশ কিছু কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠন বিলটির বিরোধীতা করেছে৷ সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাককে সংবিধানবিরোধী বলে রায় দিয়েছিল৷ তারপরেও এই প্রথার বলি হয়েছেন অনেক মুসলিম মহিলা৷ কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, শীর্ষ আদালতের রায়ের পরেও অনেক মুসলিম মহিলাকে অসাংবিধানবিকভাবে তিন তালাক দেওয়া হয়েছে৷ সেই সঙ্গে বুঝিয়ে দেন তিন তালাকের প্রাসঙ্গিকতা৷ এই বিল আইনে পরিণত হলে মুসলিম মহিলাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে৷

এবারের শীতকালীন অধিবেশনে তিন তালাক নিয়ে বিল পেশ করার কথা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের৷ গত সপ্তাহে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ তেজ প্রতাপ সিং সংসদে প্রশ্ন করেন, শীর্ষ আদালতের রায়ের পর ঠিক কতগুলি তিন তালাকের ঘটনা ঘটেছে৷ এদিন সংসদে বিল পেশের আগে সেই প্রশ্নের উত্তর দেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদ৷ বলেন, অগষ্ট মাসে রায়ের পর এপর্যন্ত ৬৬টি কেস সামনে এসেছে৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মুসলিম নারীকে তুচ্ছ কারণে অথবা সোশ্যাল মিডিয়া মারফত এক নিঃশ্বাসে তিন তালাক দেওয়া হয়েছে৷

প্রস্তাবিত বিলের খসড়ায় মৌখিকভাবে, লিখিত অথবা কোন বৈদ্যুতিন সামগ্রীর সাহায্যে অথবা সোশ্যাল নেটওর্য়াকিং সাইটে মুসলিম মহিলাকে তাৎক্ষণিক তিন তালাক দিলে তা সংবিধানবিরোধী বলে গণ্য করা হবে৷ নয়া বিলের শাস্তির প্রতিবিধানও রাখা হয়েছে৷ বলা হয়েছে কোন মুসলিম পুরুষ তার স্ত্রীকে এক নিঃশ্বাসে তিন তালাক দিলে তার জেল ও জরিমানা হতে পারে৷ সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল হবে৷ এমনকী স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে৷ বিলটি আইনে পরিণত হলে জম্মু কাশ্মীর ছাড়া সর্বত্র এই আইন কার্যকর হবে৷



Shares