প্রচ্ছদ


রায়ের পর কারাদণ্ড, শর্তে সাপেক্ষে জামিন পেলেন নিয়াজ রহিম

29 December 2017, 15:50

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 259 times.

ভেজাল ঘি বিক্রির মামলায় সুপারশপ আগোরার চেয়ারম্যান নিয়াজ রহিমকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে । বৃহস্পতিবার একই অভিযোগের দুটি মামলায় এই রায় দেন ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক বিশেষ মহানগর হাকিম মো. মাহবুব সোবহানী । দুই মামলার প্রত্যেকটিতে নিয়াজ রহিমকে এক বছর করে কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ না দিলে তাকে আরও এক মাস কারাগারে থাকতে হবে। রায় ঘোষণার পরপরই নিয়াজ রহিমকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হচ্ছে জানিয়ে সোবহানী বলেন, ‘ভেজাল খাদ্য বিক্রির অভিযোগে মামলা দুটি হয়েছিল ২০০৮ সালে। দুটি মামলাই হয়েছে ঘিয়ে ভেজাল পাওয়ার অভিযোগে। বিচার শেষে আজ আমি রায় দিয়েছি।’

২৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিবাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক মেহেদী পাভেল সুইট শর্ত সাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেন। আপিল করার শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে ভেজাল ঘি বিক্রির দুটি মামলায় কারাবাস ও আর্থিক দণ্ড পাওয়া আগোরা সুপারশপের চেয়ারম্যান নিয়াজ রহিমকে।

বিবাদীপক্ষের আইনজীবী মো. সালাহউদ্দিন কবীর বলেন, ‘রায়ের পরপরই আমরা বিচারকের কাছে জামিনের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তিনি খারিজ করে দেন। পরে একই আদালতের অপর বিচারক আমাদের মক্কেলের অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে জজ কোর্টে আপিল করার শর্তে জামিন দিয়েছেন। আমরা যত দ্রুত সম্ভব আপিল করব।’

২০০৮ সালে আগোরার মগবাজার বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ‘কুষ্টিয়ার স্পেশাল গাওয়া ঘি’ জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে নমুনা পরীক্ষায় তাতে ভেজাল পাওয়া যায়। এ কারণে আগোরার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়াজ রহিমের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার সেই ঘিয়ের উৎপাদক আবদুল কুদ্দুসকেও আসামি করা হয়। একই বছরে সুপারশপটিতে বিক্রি হওয়া অনিল ঘোষের ‘স্পেশাল বাঘাবাড়ির ঘি’তে ভেজাল পাওয়া গেছে অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়।প্রথম মামলার আসামি আবদুল কুদ্দুস দোষ স্বীকার করে নেন। কিন্তু নিয়াজ রহিম মামলাটির বিরুদ্ধে আপিল বিভাগ পর্যন্ত গেলেও ব্যর্থ হন। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে এ মামলার বিচার শুরু হয়। দ্বিতীয় মামলায় অনিল ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দিলেও নিয়াজ রহিমকে সাজা দেয় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে একই আদলতের বিচারক মো. মাহবুব সোবহানী দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেন। এতে প্রত্যেকটিতে এক বছর করে কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে নিয়াজ রহিমকে এক মাস করে অতিরিক্ত কারাগারে থাকতে হবে বলেও রায়ে বলা হয়।



Shares