প্রচ্ছদ


বছরজুড়ে নাট্যাঙ্গন

30 December 2017, 15:23

নিজস্ব প্রতিবেদক
Share
This post has been seen 169 times.

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। কেউ কেউ ফেলে আসা বছরের কাজগুলোও নতুন করে সাজিয়ে নিচ্ছেন। নববর্ষ বরণের আগে এ বছরের থিয়েটারপাড়া কিংবা নাট্যাঙ্গনকে আবারো একটু ফিরে দেখা যাক। বছরজুড়ে নতুন নাটকে সরগরম ছিল নাট্যাঙ্গন। থিয়েটারপাড়ায় সবচেয়ে আলোচিত ছিল সৈয়দ জামিল আহমেদ নির্দেশিত নাটক ‘রিজওয়ান’। এ ছাড়া নাট্যোৎসব, পুরনো নাটকের নিয়মিত মঞ্চায়ন, বিদেশের মঞ্চে বাংলাদেশের নাটকের নিয়মিত প্রদর্শনীতে পুরো বছরই সরব ছিল দেশের নাট্যদলগুলো।

নাট্যাঙ্গনে বেড়েছে দর্শক

এ বছরে নাট্যাঙ্গনে চোখে পড়ার মতো বিষয় হচ্ছে দর্শক। থিয়েটারের টিকেট কেনার জন্য রীতিমতো লবিং করতে হচ্ছে। আগে বুকিং দিয়েও টিকেট না পাওয়ার অভিযোগও দেখা গেছে নাট্যাঙ্গনে। তবে সব নাটকে দর্শক হচ্ছে না। কিছু নাটকের ক্ষেত্রে দর্শকের উপচেপড়া ভিড় চোখে পড়েছে। নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, দর্শক এলে ভালো নাটক দেখতে চাই। এ বছর বেশ কিছু নাটকে দর্শকের উপচেপড়া ভিড় দেখেছি। এটা আমাদের জন্য খুবই আনন্দের সংবাদ। আমরা চাই নাটকের দর্শক আরো বেশি হোক।

প্রাণ ফিরেছে মহিলা সমিতি মঞ্চে

বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের সূতিকাগার বলা হয় মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনকে। এই মঞ্চটিতেই স্বাধীনতার পর প্রথম টিকেটের বিনিময়ে নাট্য প্রদর্শনীর যাত্রা শুরু হয়। শিল্পকলা একাডেমিতে অত্যাধুনিক জাতীয় নাট্যশালা ভবন হওয়ার পর কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে মহিলা সমিতির মঞ্চটি। এ ছাড়া কয়েক বছর আগে পুরনো মহিলা সমিতি ভবনটি ভেঙে নতুন কমপ্লেক্স করা হয়েছে। এ বছর মহিলা সমিতির নবনির্মিত মঞ্চটি বেশ সরব ছিল। বেশ কিছু নাট্যদল সেখানে নিয়মিত নাটকের প্রদর্শনী করছে। দর্শকেরও ভালো সাড়া মিলছে।

ঢাকার বাইরেও জমজমাট নাট্যাঙ্গন

বিগত কয়েক বছর ধরেই শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশের নাট্যচর্চা রাজধানী কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। শুধুমাত্র জাতীয় নাট্যশালা কেন্দ্রিক এখন হচ্ছে থিয়েটারের চর্চা। এই বছর সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে পুরনো ছন্দে ফিরেছে নাট্যাঙ্গন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের বিকাশের পেছনে জেলা শহরের নাট্যদলগুলো বিশাল ভ‚মিকা রয়েছে। এ বছর ঢাকার বাইরে মৌলভীবাজারের মণিপুরি থিয়েটার, বরিশালের শব্দাবলি, চট্টগ্রামের তির্যক, নান্দীমুখ, ফেইম, যশোরের বিবর্তন, জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার, বুনন থিয়েটার, ময়মনসিংহের অন্বেষা নাট্যদলসহ সারা দেশের শতাধিক নাট্যদল বেশ সক্রিয় ছিল নিয়মিত নাট্যচর্চায়।

আলোচিত রিজওয়ান

বছরের সবচেয়ে আলোচিত নাটকের নাম রিজওয়ান। বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে দারুণ আলোচনা তৈরি করেছে ‘নাটবাঙলা’ প্রযোজনা ‘রিজওয়ান’। প্রায় দুই যুগ পর মূলধারার থিয়েটারে নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন সৈয়দ জামিল আহমেদ। এর আগে ‘বিষাদ সিন্ধু’, সঙ ভঙ চঙ’, ‘বেহুলার ভাসান’ নাটক নির্দেশনা দিয়ে জামিল আহমেদ ঢাকার নাট্যমঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এবার ভিন্ন রকম নির্দেশনায় হাজির হয়েছেন ‘রিজওয়ান’ নিয়ে। এ নাটকটি দেখার জন্য শোবিজ পাড়া থেকে শিক্ষার্থীরা ভিড় জমিয়েছে নাট্যশালায়। অনেকে টিকেট না পেয়ে হতাশ হয়েছেন। নাট্যাঙ্গনে তুমুল জনপ্রিয় হয়েছে এ নাটকটি।

এবারই প্রথম ঈদের দিনেও মঞ্চনাটক

নাট্যাঙ্গনে এবারই প্রথম ঈদের দিনেও ছিল মঞ্চনাটকের প্রদর্শনী। নাটবাঙলা প্রযোজিত ‘রিজওয়ান’ নাটকটি গত ১ সেপ্টেম্বর ঈদের আগের দিন থেকে টানা দশদিন প্রদর্শনী হয়। প্রতিদিন দুটো করে টানা ১০ দিনে ১৯টি প্রদর্শনী করে নাট্যাঙ্গনে নতুন রেকর্ড গড়ে এ নাটক। আগা শহীদ আলীর কাব্যগ্রন্থ ‘আ কান্ট্রি উইদাউট আ পোস্ট অফিস’ অবলম্বনে ভারতের অভিষেক মজুমদার লিখেছেন নাটক ‘রিজওয়ান’। ইংরেজি থেকে বাংলায় রূপান্তর করেছেন ঋষিকেশ ভট্টাচার্য্য। নাটকে রিজওয়ান ও ফাতিমা নামের দুই ভাই-বোনের গল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মানবিক আখ্যান।

‘কঞ্জুস’-এর ৭০০তম প্রদর্শনী

এ বছরের ১৫ ডিসেম্বর লোক নাট্যদলের ‘কঞ্জুস’ নাটকটির ৭০০তম প্রদর্শনী হয়। যা বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। এর আগে বাংলাদেশের কোনো মঞ্চনাটক ৭০০তম প্রদর্শনীর মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেনি। ফরাসি নাট্যকার মলিয়েরের দ্য মাইজার অবলম্বনে নাটকটি অনুবাদ করেছেন তারিক আনাম খান। নির্দেশনা দিয়েছেন লিয়াকত আলী লাকী।

বছরজুড়ে নতুন নাটক

এ বছরে নাগরিক নাট্যাঙ্গন মঞ্চে আনে ‘ক্রীতদাসের হাসি’। এথিক নাট্যদল ‘চন্ডীদাস’। দেশ নাটক ‘সুরগাঁও’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ ‘বহ্নি বিসর্জন ব-দ্বীপ’। প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদল ‘দাঁড়াও পথিকবর জন্ম যদি তব বঙ্গে’। বেঙ্গল থিয়েটার ‘জলপুত্র’। ঢাকা থিয়েটার ‘আওয়ার কান্ট্রি ইজ গুড’। কাদামাটি ‘প্রেমলীলা’। নাট্যচক্র ‘মৃত্যুক্ষুধা’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ‘হ্যামলেট। শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র ‘চম্পাবতী’। বাংলাদেশ থিয়েটার ‘আমি’। সময় নাট্যদল ‘যযাতি’। নাটবাঙলা ‘রিজওয়ান’। যশোরের বিবর্তন ‘ব্রাত্য আমি মন্ত্রহীন’। মৌলিক নাট্যদল ‘সুবচন নির্বাসনে’। পদাতিক নাট্য সংসদ ‘গুনজান বিবির পালা’। বটতলা ‘বন্যথেরিয়াম’। স্বপ্নদল ‘হেলেন কেলার’। থিয়েটার তোপখানা ‘তৃতীয় পুরুষ’। বুনন থিয়েটার ‘সিক্রেট অব হিস্ট্রি’। থিয়েটারওয়ালা রেপার্টরি ‘জবর আজব ভালোবাসা’। মেঠোপথ থিয়েটার ‘অতঃপর মাধো’। এ ছাড়া নবরূপে দেশ নাটক মঞ্চে আনে ‘নিত্যপুরাণ’, মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় ‘শিবানী সুন্দরী’। ঢাকার বাইরেও বেশ কিছু নাট্যদল মঞ্চে এনেছে নতুন নাটক।

সৌজন্যে ভোরের কাগজ।

Share


Shares