প্রচ্ছদ


তথ্যপ্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ ২০১৮

01 January 2018, 15:15

নিজস্ব প্রতিবেদক
Share
This post has been seen 179 times.

এই সময়ে প্রায় আঠারো মাস হলো দেশের সফটওয়্যার ও সেবা খাতের একমাত্র বাণিজ্য সংগঠন বেসিসের সভাপতির দায়িত্ব নিলাম। আমার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট কোনো বাণিজ্য সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব নেয়া একদমই নতুন নয়। সেই ৯২ সালে প্রথম বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হই। প্রথমে সাধারণ নির্বাহী সদস্য ও পরে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর ১৯৯৬ সালে প্রথম সেই সমিতির সভাপতি হই। এরপর ২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২ ধারাবাহিকভাবে ও এক বছর বিরতির পর ১৪ সালে আবার সেই সমিতির সভাপতি ছিলাম। বেসিসের সভাপতি হওয়ার পর অনুভব করলাম যে, সময়টি আগের মতো নেই। বিসিএসের কাজ ছিল কম দামে দেশে কম্পিউটার আনা ও জনগণকে কম্পিউটারের বিষয়ে সচেতন করা। বেসিসের পরিধিটা একেবারেই ভিন্ন। এমনকি জন্মের সময় আমরা যে বেসিসকে যে কাজের জন্য গড়ে তুলব বলে মনে করেছিলাম এখন আর সেই অবস্থাটি বিরাজ করে না।

বেসিসের জন্মের সময় ১৯৯৮-৯৯ সালে সহসভাপতি এবং ২০০৩-০৪ সালে পরিচালক থাকার পর এবার ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই থেকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি নতুন চিত্র দেখতে পাচ্ছি। ১৪ জুলাই ২০১৭ পর্যন্ত এই কমিটির মেয়াদ থাকার কথা ছিল। তবে ডিটিওর নির্দেশনা অনুসারে নির্বাহী কমিটির মেয়াদ দুই বছর করার ফলে এই মেয়াদ ১৪ জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত বেড়েছে। হিসাব করলে তথ্যপ্রযুক্তির বাণিজ্য সংগঠনের এই পথচলা ছোট বা সংক্ষিপ্ত নয়। নিজেকে যদি এই কথাটি বলে বোঝাতে চাই যে কেমন মনে হচ্ছে নতুন দায়িত্ব পেয়ে তবে এটি মনে হতেই পারে যে, চ্যালেঞ্জটি মোটেই কম নয়। সেই ১৯৮৭ সালে এই জগতে প্রবেশ করে কেবল স্রোতের বিপক্ষেই চলতে থেকেছি। মানুষ যখন কম্পিউটারকে বাইনারি যন্ত্র হিসেবে আমার সামনে তুলে ধরেছে আমি তখন সেটাকে প্রকাশনার যন্ত্র বানিয়েছি। বহু বছর আমি কম্পিউটার বিক্রেতার সম্মানও পাইনি। সফটওয়্যার বানিয়েছি কিন্তু সফটওয়্যার নির্মাতার মর্যাদা এখনো পাইনি। এখনো এমন ধারণা বিরাজ করে যে, সফটওয়্যার বিক্রি করা একটি মহাঅপরাধ। মেধাজাত সম্পদ তৈরি করাও যেন বিশাল অপরাধ। আমি আমার কপিরাইট ও প্যাটেন্ট করা সফটওয়্যার নিজের দাবি করলে আমাকে কাগু-ছাগু, স্টিভ জব্বারসহ কুৎসিৎ গালি দেয়া হয়। আর আমার কিবোর্ড ছাড়া চুরি করে তারা নায়কে পরিণত হয়। তবুও দেশের প্রথম কম্পিউটার মেলা, প্রথম রপ্তানি টাস্কফোর্স, শুল্ক ও ভ্যাটমুক্ত আন্দোলন, তথ্যপ্রযুক্তিসহ সম্প্রচার-অনলাইন নীতিমালাগুলো ও কপিরাইট, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সম্প্রচার আইনসহ নানা আইন প্রণয়নসহ এমন কোনো মুহূর্ত যায়নি যাতে নিজে সরাসরি যুক্ত হইনি। আমি লক্ষ করেছি, এক সময়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা যখন এটাকে প্রোগ্রামিংয়ের যন্ত্র বানাতে চেয়েছে আমি তখন সেটিকে ছবি আঁকার-ভিডিও সম্পাদনার যন্ত্র বানিয়েছি। এরপর বাণিজ্য সংগঠনের হাত ধরে আমরা যত পারলাম সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করে আসছিলাম। বিসিএস ও বেসিস এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফরম হিসেবে কাজে লেগেছে। যদি এসব সংগঠন না জন্মাত তবে কম্পিউটার এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবেই আবদ্ধ থাকত। এখন সেটি দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্পর্শ করছে। এমন একটি অবস্থায় মোট ৯ জন পরিচালককে নির্বাচিত করে বেসিস সদস্যরা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম প্রধান এই সংগঠনটির মাধ্যমে কেবল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথাই ভাবছে না, ভাবছে ১৯৪১ সালের জ্ঞানভিত্তিক সমাজের কথাও। যেভাবে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত সামনের দিকে পা বাড়াচ্ছে তাতে এখনই মূল্যায়ন করার সময় যে, এই খাতের চ্যালেঞ্জগুলো কি কি? বিষয়গুলো এত ব্যাপক যে, প্রতিটি প্রসঙ্গ নিয়ে অনেক বড় করে একটি থিসিস লেখা যায়। কিন্তু আমি বিষয়গুলোকে একটি ছোট পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাপসুল আকারে পরিবেশন করছি।

সবাই জানেন যে, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সংস্থাটি ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স। এর সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটির পূর্বপুরুষকে তিনি তার প্রথম শাসনকালে গড়ে তুলেছিলেন। এই আমলে তার নাম বদলেছে। এই টাস্কফোর্সের একটি সহায়ক কমিটি আছে, সেটির নাম ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স নির্বাহী কমিটি। এটিও উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। কারণ এর সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশে বিশেষত আন্তঃ মন্ত্রণালয় বিষয়ক জটলা ছাড়াতে এর চাইতে শক্তিশালী সংস্থা আর হতে পারে না। আমরা এই টাস্কফোর্সের সভা চাই। খুব সঙ্গত কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ টাস্কফোর্সের সভায় আমরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আন্তঃ মন্ত্রণালয়ের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে চাই।

আমাদের সবারই মনে থাকার কথা যে, গত ৬ আগস্ট ২০১৫ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে গত ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে এবং ২৭ মার্চ ২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত দুটি সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। ওই তিনটি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের পরবর্তী সভা আহ্বান করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। উল্লিখিত বিষয়গুলো একাধিক বা ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত বিধায় ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের মূল কমিটির সভায় এই বিষয়গুলো আলোচিত হতে পারে।
যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হতে পারে সেগুলো নিম্নরূপ :

ক. মেধাস্বত্ব : ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে মেধাস্বত্ব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মেধাস্বত্ব বিষয়ক আইনগুলো আপডেট করা নেই। কপিরাইট আইন ২০০০ সালের। এতে ডিজিটাল সম্পদের সুরক্ষার সঠিক উপায় নেই। প্যাটেন্ট আইন ২০১১ সালের। সেটি সফটওয়্যারের চাহিদা মেটাতে পারে না। এ জন্য আইন প্রণয়ন ও তার প্রয়োগ জরুরি একটি বিষয়। কিন্তু বিষয়গুলো সেভাবে এগোচ্ছে না। এই বিষয়ে সংস্কৃতি ও শিল্প মন্ত্রণালয় ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আমরা মেধাস্বত্বে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছি- ১. কপিরাইট আইন সংশোধন ২. প্যাটেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন আইন প্রণয়ন। ডিজিটাল রাইটস বিষয়ক আইন প্রণয়ন বা কপিরাইট আইনে তার অন্তর্ভুক্তিকরণ। ২৭ মার্চের সভায় প্রসঙ্গটি আলোচিত হলেও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ৬ ডিসেম্বর ১৭ ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমি বিষয়টির প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কিন্তু তবুও মেধাস্বত্ত¡ রক্ষায় আমরা নতুন বছরে যথাযথ উদ্যোগ পাব কিনা জানি না।

খ. নীতিমালা : আমরা মনে করি কিছু নীতিমালা বিষয়ক আলোচনা হওয়া জরুরি। বিদ্যমান তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালাকে হালনাগাদ করা ছাড়াও কিছু নতুন নীতিমালা প্রণীত হতে পারে। আমরা তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা আপডেট করার দাবি জানিয়ে আসছিলাম। ২৭ মার্চের সভায় এটি আলোচিত হওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করি এটি অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে। এই বিষয়ক একটি সেমিনার আমাদের আশান্বিত করেছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির আরো একটি সভা হয়েছে যেখানে একটি খসড়া তৈরি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা আশা করি আইসিটি বিভাগ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে। এ ছাড়াও ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা প্রণয়ন এবং ডিজিটাল কমার্স বিষয়ক সব ধরনের জটিলতা নিরসন, ডিজিটাল সার্ভিসেস নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাংলা ভাষার প্রমিতকরণ বিষয়ক মানগুলো প্রণয়ন ও প্রয়োগ করার বিষয়টি খুবই জরুরি। এই খাতে আলোচ্য বিষয় হতে পারে- ১. তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা অবিলম্বে নবায়ন ২. ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা প্রণয়ন ও ডিজিটাল কমার্স সংক্রান্ত অন্যান্য জটিলতা নিরসন। ৩. ডিজিটাল সার্ভিসেস (ভ্যালু এডেড সার্ভিসেস বা VAS) নীতিমালা প্রণয়ন ৪. ডিজিটাল রূপান্তরের সব পর্যায়ে প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও এই বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়ন।

গ. ইন্টারনেট বিষয়ক : ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল অবকাঠামো ইন্টারনেট। কিন্তু ইন্টারনেট যেমনি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় নেই তেমনি ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইদথ নেই। এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের সমাপনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ইন্টারনেটের ওপর থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করার আশ্বাস দিয়েছেন। এটি একটি বড় অর্জন।

ঘ. শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর : ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর। এ জন্য যেমন ক্লাসরুমগুলো ডিজিটাল করা প্রয়োজন তেমনি শিক্ষার্থীদের হাতে ডিজিটাল যন্ত্র দেয়া প্রয়োজন। এর চাইতেও বড় কাজ শিক্ষার কাগজের উপাত্তকে ইন্টার‌্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া বা ডিজিটাল কনটেন্টে রূপান্তর করা। এর জন্য একটি পথ নকশা থাকতে হবে এবং কাজগুলো সমন্বিত করতে হবে। নির্বাহী কমিটির সভায় সেই নির্দেশনা দেয়া হলেও এখনো তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ডিজিটাল ক্লাসরুম গড়ে তোলা, ছাত্রছাত্রীদের হাতে ডিজিটাল যন্ত্র প্রদান ও ডিজিটাল উপাত্ত উন্নয়ন করতে হবে এবং এ জন্য পথ নকশা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

ঙ. দেশীয় হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার শিল্পের বিকাশ : ২০১৫ সালের সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশে ডিজিটাল যন্ত্র বানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাকিটুকু কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সেটি নির্ণীত হতে হবে। অন্যদিকে দেশের সফটওয়্যার ও সেবা খাতের কাজ কেমন করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো করতে পারে তার ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। দেশে ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন ও দেশীয় সফটওয়্যার ও সেবা খাতকে বিকশিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া। সুখের বিষয় যে, চলতি বাজেটে এই বিষয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেগুলো নেয়া হয়েছে। আমরা সামনের পাঁচ বছরে হার্ডওয়্যার সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবায় বিপ্লব দেখব। এবার যন্ত্রাংশের শুল্ক শতকরা ১ ভাগে নামিয়ে আনার ফলে এরই মাঝে দেশে ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন শুরু হয়েছে। সামনে এটি বিপ্লব ঘটাবে। তবে সরকারি কেনাকাটায় দেশীয় পণ্য না কেনার মানসকিতা থেকে সরকারকে বের হয়ে আসতে হবে।

দেশের অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার ও সেবার বাজারে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখাটি ২০১৮ সালের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ২৮১৮ সালকে আমরা চিহ্নিত করতে পারি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের সফটওয়্যার ও সেবা কেনার জন্য কখনো কখনো টেন্ডারেও অংশ নিতে পারে না।

চ. ডিজিটাল সরকার : সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর ২০১৮ সালের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। ২০০৯ সালে সরকারের ডিজিটাল রূপান্তরের যে শুভ সূচনা হয় তা এখনো সেই গতি পায়নি যা তার পাওয়া উচিত।

জ. তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ : দেশে ব্যাপক হারে বিনামূল্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো নতুন একেকজন একেক রকম প্রশিক্ষণ দিলে তার সুফল জাতি পাবে না। তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ সমন্বিত করা প্রয়োজন।

রপ্তানি সহায়তা : ২০১৭-১৮ সালে একটি মাইলফলক কাজ করা হয়েছে। সেটি হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানিতে শতকরা ১০ ভাগ রপ্তানি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এর ফলে আমরা ১ বিলিয়ন বা ৫ বিলিয়নের যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছি সেটি সময়ের আগেই অতিক্রম করে যাবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে তথা ২০২১ সাল নাগাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে উপরোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক বলে মনে করি।

ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর ১৭
মোস্তাফা জব্বার : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ,  কলামিস্ট।

সুত্র: ভোরের কাগজ।

Share


Shares