প্রচ্ছদ


ঢাকা উত্তরের ভোট ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি

04 January 2018, 03:50

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 368 times.

ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভোটে প্রস্তুত ইসি : ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং দুই সিটির নতুন ৩৬ ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণের জন্য ভোটার তালিকার সিটিও প্রস্তুত করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং দুই সিটির ৩৬ ওয়ার্ডে ভোট হবে। তিনি বলেছেন, জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। এ জন্য আগামী ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারির এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ভোটের তারিখ নির্ধারণের জন্য ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি এসএসসির নির্ধারিত পরীক্ষা পেছাতে অনুরোধ করা হয়েছিল। ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা তাতে সম্মতি দিয়েছেন। বোর্ডের চেয়ারম্যানরা বলেছেন, পরীক্ষা পেছাতে কোনো সমস্যা নেই। তফসিল ঘোষণার পর মার্চে পরীক্ষার নতুন তারিখ দেওয়া হবে। আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইসির। ইসি কর্মকর্তারা জানান, কমিশনের সভায় ১১ জানুয়ারির মধ্যে তফসিল ঘোষণা করার প্রস্তাব রাখা হবে। ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা যেহেতু পিছিয়ে যাচ্ছে, তাই ভোটকেন্দ্র ঠিকঠাক করতে দু-এক দিন সময় লাগবে। সে জন্য ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারিকে নির্বাচনের উপযুক্ত সময় বিবেচনা করা যেতে পারে। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মনোনয়ন দাখিল শেষ করার চিন্তা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে সম্প্রসারিত সীমানায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবগঠিত ৩৬টি সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদেও একই দিন ভোট করতে চায় ইসি।

উপনির্বাচনের জন্য মেয়র পদে হালনাগাদ তথ্য : সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮; ভোটকেন্দ্র ১৩৪৯, ভোটকক্ষ ৭৫০০, ভোটার ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮৬ জন (পুরুষ ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩১ ও নারী ১৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪৫৫ জন)। ২০১৫ সালে উত্তরে ভোটার ছিল ২৩ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি, কেন্দ্র ১০৯৩, সাধারণ ওয়ার্ড ৩৬ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১২। ঢাকা উত্তর-দক্ষিণে ৩৬ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৪, সম্ভাব্য কেন্দ্র ৪৮৭। ইসির কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা উত্তরের ১৮ ওয়ার্ডে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ২৫৬; ভোটকক্ষ ১৬৪৮; ভোটার ৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৬২ জন (পুরুষ ২ লাখ ৯২ হাজার ৪৮৫ ও নারী ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬৭৭ জন)। ঢাকা দক্ষিণে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ২৩১; ভোটকক্ষ ১২৩১, ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮৩২ জন (পুরুষ ২ লাখ ৪৪, হাজার ৩৪৮ ও নারী ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৮৪ জন)। ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং দুই (উত্তর-দক্ষিণ) সিটির নতুন ৩৬ ওয়ার্ডের ভোটের তারিখ নির্ধারণে আজ বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বেলা ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আগামী ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভোট করার ঘোষণা দিলেও আজকের বৈঠকে ভোটের তারিখ নির্ধারিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, আপাতত ভোট গ্রহণের দিন হিসেবে ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারিকে চিন্তায় রেখেছে ইসি।

এ জন্য ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষাও পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে ভোটের তারিখ হিসেবে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে বেশি উপযুক্ত মনে করছেন কর্মকর্তারা। কেননা ২৩ তারিখ হচ্ছে শুক্রবার, আর পরীক্ষার সময় ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করতে দুই-এক দিন সময় লাগবে। তাই ২৩ তারিখ ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করে, ২৪ তারিখ কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছানোর কাজ করতে পারবেন কর্মকর্তারা। সেই হিসাবে ২৫ তারিখ ভোট করলে কোনো সমস্যাই হবে না। কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে উত্তরের মেয়র পদের শূন্যতা পূরণ করতে হবে, এ জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোট করলে সব দিকই রক্ষা হবে। তবে নির্বাচন কমিশন এ তারিখের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

এদিকে তফসিলের আগে ৬ জানুয়ারির মধ্যে ঢাকার দুই সিটির সব প্রচার সামগ্রী অপসারণে নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। গতকাল থেকেই সিটির বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন বিভাগীয় কমিশনার। অন্যদিকে সদ্য শূন্য হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ ও গাইবান্ধা-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন নিয়েও আজু আলোচনা হবে ইসির বৈঠকে। এ দুই আসন শূন্য হলেও নির্বাচনের ব্যাপারে প্রস্তুত নেবে ইসি। এ ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ বা মার্চের শুরুতে উপনির্বাচন করতে হবে ইসিকে। মত্স্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক ১৬ ডিসেম্বর মারা যান। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এরপর ১৯ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা মারা যান। ফলে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এ দুই আসনের উপনির্বাচন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

কিন্তু ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার যে সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে ২৪ ও ২৫ তারিখ পরীক্ষা থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বোর্ড কর্মকর্তাদের নিয়ে এ বৈঠক ডাকে কমিশন। সূচি অনুযায়ী ২৪ ফেব্রুয়ারি ভূগোল ও পরিবেশ এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি সংগীত বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, যা পিছিয়ে যাবে। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে হয়। শিক্ষকরা থাকেন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার দায়িত্বে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করবে কমিশন। এর আগে ইসির ভারপ্রাপ্ত হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সব ধরনের জটিলতা পেরিয়ে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর সুবিধাজনক দিনে ভোটের তারিখ ঠিক করে এ তফসিল হবে।

 

সুত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।


Shares