প্রচ্ছদ


মিঠুন চাকমা হত্যার দায় কার ?

05 January 2018, 18:27

সুমন দে
Share
This post has been seen 349 times.

ব্লগারঃ মিঠুন চাকমা । সর্বমোট মন্তব্য করেছেনঃ ১৬৯ টি । সর্বমোট মন্তব্য পেয়েছেনঃ ২৫৭ টি । নিবন্ধিত হয়েছেনঃ রবিবার ১২ফেব্রুয়ারী ২০১২ ব্লগিং করছেনঃ ৬ বছর। তার রাজনৈতিক আদর্শ আমরা জানিনা। তবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে এভাবে খুন মেনে নেয়া যাচ্ছেনা। মিঠুন চাকমার  রাঙামাটির সাজেকে খাদ্য সংকট ।  আলুটিলা ট্রাজেডি: চিং ক্য হ্লা কি পেতে পারে না একটুকু সহানুভূতি?  ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম ।  ’ভিন্নখাতে প্রবাহিত’ ও আপন অন্তর্জালীয় মতামত ।  ‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন’ বইয়ে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম বিষয়ে পর্যালোচনা ।  মিঠুন চাকমাকে গ্রেপ্তারের খবরে ’শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তকমা ব্যবহারের প্রতিবাদ ।   ইত্যাদি নানা রকমের ব্লগে লেখা দিয়েছেন তিনি।

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চাকমাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। এক বিবৃতিতে গণসংহতির প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, পাহাড়ে একদিকে আদিবাসী-বাঙালি বিভাজন ও একই সাথে আদিবাসী-আদিবাসী বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে কয়েক দশক ধরে যে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে মিঠুন চাকমা হত্যা তারই অংশ।

এসব ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড পাহাড়ে আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত না করতে পারার ফল বলেও মন্তব্য করেন গণসংহতির নেতারা। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। বুধবার (০৩ জানুয়ারি) সকালে খাগড়াছড়ি সদরের অপর্ণা চৌধুরী পাড়ার বাসা থেকে মিঠুন চাকমাকে তুলে নিয়ে যায় মুখোশধারীরা। এরপর বেলা ১২টার দিকে তাকে স্লুইস গেট এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।মিঠুন চাকমা ইউপিডিএফের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) সভাপতি ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

মিঠুন চাকমা হত্যার তদন্ত দাবি করেছে এ্যমনেস্টি ইন্টারন্যাশন্যাল ঃ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এ্যমনেস্টি ইন্টারন্যাশন্যাল ইউপিডিএফ সংগঠক ও পিসিপি’র সাবেক সভাপতি মিঠুন চাকমা হত্যার তদন্ত দাবি করেছে।এক বিবৃতিতে সংগঠনটির আদিবাসী অধিকার গবেষক ক্রিস চ্যাপম্যান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে এই দাবি জানান। উল্লেখ্য, এ্যমনেন্টি ইন্টারন্যাশন্যালের ‘কট্ বিটুইন ফিয়ার এন্ড রিপ্রেসন: এটাক্স অন ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন ইন (Caught Between Fear and Repression: Attacks on Freedom of Expression in Bangladesh) শিরোনামে গত বছর প্রকাশিত রিপোর্টে মিঠুন চাকমার আটকের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে স্থান পেয়েছিল। (https://www.amnesty.org/en/documents/asa13/6114/2017/en/)

খাগড়াছড়িতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর সংগঠক মিঠুন চাকমাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাজা দেবাশীষ রায়। গতকাল ৩ জানুয়ারি ২০১৮ রাতে নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই নিন্দা জানান।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “খাগড়াছড়ি শহরে দিবালোকে আজ দুপুর বেলায় মিঠুন চাকমার কাপুরুষোচিত হত্যার তীব্র নিন্দা জানাই। এতে আবারও প্রমাণিত হয় যে পার্বত্যাঞ্চলে মোতায়েনকৃত নিরাপত্তা বাহিনীরা অঞ্চলের নাগরিকগণের – বিশেষ করে পাহাড়িদের – জীবনের যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানে অনাগ্রহী বা অপারগ (লংগদুর জুন ২০১৭ এর আক্রমণও তাই সাক্ষ্য দিয়েছিল)।”

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি আরো বলেন,  “বছর দুয়েক ধরে পাহাড়ে যে আন্ত-আঞ্চলিক দলের দ্বন্ধে হানাহানির বিরাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা মনে হয় কোন ক্ষমতাশীল পক্ষের সহ্য হচ্ছে না।”  তিনি  এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সজাগ হতে হবে বলে মন্তব্য করেন এবং মিঠুনের ঘনিষ্ঠজনদের প্রতি সমবেদনা জানান।

Share


Shares