প্রচ্ছদ


নাখালপাড়ার জঙ্গি আস্তানায় তিন জনের লাশ

12 January 2018, 12:41

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 299 times.

পুরনো এমপি হোস্টেলের পেছনে রুবি ভিলা নামের ওই ছয় তলা বাড়ির পঞ্চম তলা থেকে তিনটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), বিস্ফোরক জেল ও একটি পিস্তল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ। ১২ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল সাতটায় বোম ডিসপোজাল ইউনিট কাজ শুরু করে শেষ করে সাড়ে নয়টায়। এরপর ১০টার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফরেনসিক বিভাগ কাজ শুরু করেছে।

সকাল সাড়ে নয়টায় র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, ভবনের ভেতরে তিনজনের মরদেহ পড়ে আছে। তিনজনই পুরুষ। তাদের বয়স ২০-৩০ এর মধ্যে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, অবিস্ফোরিত গ্রেনেড, সুইসাইডাল বেস্ট (বোমা বাধার যন্ত্র) উদ্ধার করা হয়েছে। তারা পুরো রুমের ভেতর গ্যাস ছড়িয়ে দিয়ে গ্রেনেডটি চুলায় দিয়ে বিস্ফোরণের জন্য চেষ্টা করেছিল কিন্তু ভাগ্যক্রমে গ্রেনেডটি কিস্ফোরিত হয়নি। র‌্যাবের অভিযান সমাপ্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে বোম ডিসপোজাল ইউনিট কাজ শেষ করেছে। এখন ফরেনসিক ইউনিট আসবে। এরপর স্থানীয় থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করবে। আমরা ক্রামইসিনকে ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ করেছি।

র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সকালে ঘটনাস্থলের কাছে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, “আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, যে এরকম জায়গায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে, কোনো নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এর ভিত্তিতে ছয় তলা ভবনটির পঞ্চম তলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে জঙ্গিদের সঙ্গে কিছু গোলাগুলি হয়, কিছু গ্রেনেডও নিক্ষেপ হয়।”

এক প্রশ্নের জবাবে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, রুবি ভিলার ষষ্ঠ তলার দুই ইউনিটে দুটি মেস। আর পঞ্চম তলার দুই ইউনিটের মধ্যে একটিতে মেস, সেখানেই ছিল জঙ্গি আস্তানা। ভবনের বাকি ছয়টি ফ্ল্যাটে ফ্যামিলি বাসা, আর নিচতলায় গ্যারেজ। অভিযানের শুরুতেই বাড়ির গ্যাস লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ভবনের নয়টি ফ্ল্যাট থেকে ৬১ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে দোতলায় বাড়িওয়ালার বাসায় রাখা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে জঙ্গিদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মুফতি মাহমুদ জানান।

র‌্যাব ডিজি আরও বলেন, চলতি মাসের ৪ তারিখে জাহিদ নামে একজনের পরিচয় পত্র দিয়ে বাসাটি ভাড়া নেয়া হয়। তখন একই ব্যক্তির দুটি জাতীয় পরিচয় জমা দেয়া হয়। তখন আসলের মতো দেখতে আইডি কার্ডটিতে জাহিদ এবং জমা দেয়া ফটোকপিতে সজিব নাম লেখা ছিল। আমরা সন্দেহ করছি জাতীয় পরিচয়পত্র দুটিই ফেক হতে পারে। কারণ একই ব্যক্তির ফটো সম্বলিত পরিচয়পত্রে দুটি নাম রয়েছে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, তাদের ক্রাইম সিন ও ফরেনসিক টিমের কাজ শেষে সুরতহাল করে লাশগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে। সব কাজ শেষ না হলে বাইরের কাওকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।


Shares