প্রচ্ছদ


ফোর-জি কার্যক্রমে কোন আইনি বাধা নেই

14 January 2018, 16:34

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 194 times.

১১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতো হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছিলেন চেম্বার জজ আদালত। আজ আবার চেম্বারের একই আদেশ আপিল বিভাগে বহাল রইলো। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ফোরজি/এলটিই সেলুলার মোবাইল ফোন সার্ভিসের লাইসেন্সের জন্য প্রস্তাব আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি দেয় বিটিআরসি, যার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলা লায়ন কমিউনিকেশনস লিমিটেড ১০ জানুয়ারি রিট আবেদন করে। পরেরর দিন ১১ জানুয়ারি এই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে পরদিন হাইকোর্ট রুল দিয়ে ওই বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত করে। সেদিন বিকেলে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে বিটিআরসি। শুনানি নিয়ে ১১ জানুয়ারি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের চেম্বারজজ আদালত হাইকোর্টের আদেশ রোববার পর্যন্ত স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূণাঙ্গ বেঞ্চে আবেদনটি ১৪ জানুয়ারি শুনানির জন্য পাঠান। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন আদালত।

রিটকারীপক্ষের আইনজীবী রমজান আলী শিকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিটিআরসি ব্রডব্যান্ড নীতিমালার ওই দুই নীতি উপেক্ষা করে ২০১৭ সালে আরেকটি নীতিমালা প্রণয়ন করে এবং তার ভিত্তিতে ফোরজি লাইসেন্সের জন্য দরপত্র আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি দেয়। ফলে ২০১৭ সালের ওই নীতিমালা এবং গত ৪ ডিসেম্বর দেয়া বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে এই রিট করা হয়। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট (ফোরজি) এলটিই সেলুলার মোবাইল ফোন সার্ভিসের লাইসেন্স এবং তরঙ্গ নিলামের জন্য প্রস্তাব আহ্বান করে দেয়া বিজ্ঞপ্তি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এর আগে ওই আদেশ স্থগিত করেছিলেন চেম্বার জজ আদালত। আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে বিটিআরসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রমে আইনগত কোনো বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আজ প্রস্তাব জমা দেয়ার নির্ধারিত শেষ দিন।

ওই বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে রোববার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে বিটিআরসির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও সঙ্গে ছিলেন রমজান আলী শিকদার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর টেলিযোগাযোগের ফোরজি সেবার লাইসেন্স ও তরঙ্গ নিলামের নীতিমালা গত ২৯ নভেম্বর হাতে পায় টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এরপর ৪ ডিসেম্বর ফোরজি লাইসেন্সের আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তরঙ্গ নিলামের জন্য সেখানে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিন রেখে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে আগ্রহীদের আবেদন জমা দিতে বলা হয়। সে অনুযায়াী বিটিআরসির বিজ্ঞপ্তিতে ফোরজি লাইসেন্স এবং তরঙ্গ নিলামে অংশ নিতে আগ্রহীদের আবেদনের সময় শেষ হচ্ছে আজ-ই ।

অনুমোদিত নীতিমালায় বলা হয়, ফোরজি লাইসেন্সের জন্য নিলাম হবে না। আবেদন করে নির্দিষ্ট অর্থ জমা দিয়ে লাইসেন্স নেয়া যাবে। আর ফোরজি তরঙ্গ বরাদ্দ পেতে অংশ নিতে হবে নিলামে। বিটিআরসির ওই বিজ্ঞপ্তি ২০০৮ সালের ব্রডব্যান্ড গাইডলাইন্সের সঙ্গে সাংঘর্ষিক- এমন যুক্তি দিয়ে বাংলা লায়ন কমিউনিকেশন্স লিমিটেড বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের হাই কোর্ট বেঞ্চ দুপুরে বিটিআরসির ওই বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করে দেন। সেই সঙ্গে বিটিআরসির ওই বিজ্ঞপ্তি কেন ২০০৮ সালের ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নীতিমালার ৪.০২, ৪.০৬(৩) দফা এবং ২০১৭ সালের ফোরজি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ও যুগ্ম সচিব, বিটিআরসি, বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং ডিভিশনের মহা পরিচালক, পরিচালক ও বিটিআরসির স্পেক্ট্রাম ডিভিশনের পারিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়। ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নীতিমালার ৪.০২ নীতিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি তিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি এক প্রতিষ্ঠানকে ফোরজি লাইসেন্স দেয়া যাবে। আবার ৪.৬ (৩) নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো মোবাইল অপারেটর এ লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হবে না।



Shares