প্রচ্ছদ


নির্বাচন এলেই দেশের একটি শ্রেণী মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে: প্রধানমন্ত্রী

17 January 2018, 23:46

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফাইল ছবি
This post has been seen 208 times.

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নির্বাচন এলেই দেশের একটি শ্রেণী আছে তারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। দেশে অসাংবিধানিক শাসন বা জরুরি অবস্থা আসলে তাদের গুরুত্ব বাড়ে। এদের মাথায় একটাই জিনিস থাকে যদি অস্বাভাবিক, অসাংবিধানিক, মার্শাল ল’ বা জরুরি অবস্থা কখন আসবে, তাদের গুরুত্ব পাবে। এই শ্রেণীর মানুষরা আঁকাবাঁকা বা অবৈধপথে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। জনগণের ভোট পাবে না বলে তাদের নির্বাচনে আসার সাহস নেই।’ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময়ও তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। আর ২০১৩ সালেও বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া) নির্বাচন বানচাল করে আঁকা-বাঁকা পথে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলেন। তাদের স্বপ্ন পুরণ হয়নি। এই শ্রেণীর মানুষরা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।

ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন হাজার বিশেষণ দিলেও আমার মাথা কখনও খারাপ হবে না। আমি বেতালা হবো না এটা আমি বলে দিতে পারি। ওগুলো আমার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। আমার চিন্তা একটাই দেশের মানুষ ভালো থাকুক। কী পেলাম বা কী পেলাম না তার হিসাব আমি করি না। কাজ করি দেশের মানুষের জন্য, এদেশের প্রয়োজনে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর কেন দেশের উন্নয়ন হয়নি? একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই দেশের মানুষ উন্নয়নের ছোঁয়া পায়। আমি উচ্চবিত্তদের কথা চিন্তা করি না, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তারা দু’বেলা পেটভরে খেয়ে স্বস্তি, শান্তি ও মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলছে কি না, সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে বড়কথা এবং আমার প্রধান লক্ষ্য।’
তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্ত করণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। আমরা নীতিমালার ভিত্তিতেই শিা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে যাচ্ছি। বিষয়টি আমরা নিশ্চয়ই বিবেচনা করবো এবং পরবর্তী বাজেট যখন আসবে তখন সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। স্কুল-কলেজ সরকারিকরণ বা এমপিওভূক্ত নীতিমালার ভিত্তিতেই হবে। অনেকে দাবি নিয়ে আসছেন। কোন স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী কত, শিক্ষার মান কেমন, শিক্ষকদেরও যোগ্যতা কেমন এবং স্কুলটি জাতীয়করণের যোগ্য কি না তা দেখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রত্যেক এলাকায় কোথায় কত স্কুল হবে, কয়টা স্কুল প্রয়োজন- সেগুলো কিন্তু একটা হিসাব করে সেভাবে তৈরি করার নীতিমালা আমরা করে দিয়েছি। সেভাবেই করা হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে একজন এল, মাত্র দেড় শ ছাত্রছাত্রী।  সেটা সরকারীকরণ করার প্রস্তাব নিয়ে আসছে। আমার আত্মীয়। আমি বলে দিয়েছি, যেখানে মাত্র দেড় শ ছাত্রছাত্রী, এটাকে কী করে সরকারীকরণ করব। আত্মীয় হলেই বা আমি ওখানে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলাম বলেই, করতে পারব না। যৌক্তিকতা তো থাকতে হবে। আমার আত্মীয় বলেই আমার কাছে একটা প্রস্তাব নিয়ে এল, আর আমি তা দেখেই সরকারি করে দেব! এত বড় অন্যায় তো আমি করব না।’
প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার যে আত্মীয় এসেছিলেন, তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেই সেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কারণ, এ সময় পীরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সাংসদ স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার এলাকার মাননীয় স্পিকার। এ সময় স্পিকার পাল্টা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার শ্বশুরবাড়ি।’
সরকারি দলের সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের সাথে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ডুয়েলগেজ রেললাইনসহ পৃথক রেল সেতু নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এতে সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এলাকার জনগণের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। এজন্য যমুনা নদীর ওপর বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর সমান্তরালে ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইনের সংস্থানসহ পৃথক রেলসেতু নির্মাণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বরে একনেকে অনুমোদিত হয় এবং ২০১৬ সালের ২৯ জুনে জাইকার সাথে ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসের জন্য (পরামর্শক নিয়োগ) ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটির বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের জন্য গত বছরের ২ মার্চে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গত বছরের ১৫ মার্চ থেকে কাজ শুরু করে। বর্তমানে জিওটেকনিক্যাল ও টপোগ্রাফিক সার্ভেসহ ডিটেইল ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। অচিরেই রেল সেতু নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে।
মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রতিবন্ধী বান্ধব সরকার কোমলমতি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার প্রতি অত্যন্ত যতœশীল। কোমলমতি প্রতিবন্ধী শিশুরা যাতে সাধারণ স্কুলেই শিক্ষা লাভের সুযোগ পায় সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। কারণ সরকার প্রতিবন্ধীদেরকে মূল ধারার জনগণের সাথে সম্পৃক্ত করতে চায়।
সৌজন্যে-ভোরের কাগজ।


Shares