প্রচ্ছদ


বাংলাদেশে আসছে নো-ম্যানস ল্যান্ডে হতে ভারতীয় উৎকৃষ্ট মানের গাঁজা

18 January 2018, 08:18

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতীকী ছবি
This post has been seen 204 times.

প্রয়োজন নেই ভিসা-পাসপোর্টের৷ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাটাতার পেরতেও হবে না ৷ ভয় নেই পুলিশ কিংবা বিএসএফের হাতে গ্রেফতার হওয়ার ৷ শুধু বাহুবলই যথেষ্ট ৷ কাজ শুধুমাত্র গায়ে যত জোর আছে তা কাজে লাগিয়ে তিন-চার কিলো ওজনের প্যাকেট নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ছুড়ে দেওয়া ৷ তাহলেই মোটা টাকা রোজগারের সুযোগ ৷ আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে সীমান্ত পারের চোরা কারবারিরা ৷ সীমান্তে বিএসএফের কড়া নজরদারিতে গরু পাচার কমায় এখন বিকল্প পথে রোজগার করছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকার চোরা কারবারিরা ৷-সংবাদটি প্রকাশ করেছে ভারতের বাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টাল কলকাতা 24×7।

কী করছে তারা ?

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, যে চোরা কারবারিরা এতদিন গরু পাচার করত, তাদের বাজার এখন মন্দা যাচ্ছে ৷ সেজন্যে পুলিশ এবং বিএসএফের কড়াকড়ি ৷ তবে একেবারে গরু পাচার হচ্ছে না তা বললে যে ভুল হবে সেকথা মানছেন প্রশাসনের একাংশ ৷ এখনও তাদের নজর এড়িয়ে অন্য রুটে পাচার হচ্ছে গরু ৷ সংখ্যায় আগের তুলনায় অনেক কম ৷ কিন্তু সেই আয়ে সংসার চলছে না চোরা কারবারিদের ৷ সেজন্য তারা এখন বেছে নিয়ে গাঁজা পাচারের রাস্তা ৷ সীমান্ত পারে উৎকৃষ্ট মানের গাঁজার ভাল চাহিদা রয়েছে ৷ সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে এরা ৷ একবার গাঁজা পাচার করতে পারলে গরু পাচারের সম পরিমাণ আয় হচ্ছে পাচারকারিদের ৷ আর এতে ঝুঁকিও কম ৷ তাই এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে পুরোদমে ময়দানে নেমে পড়েছে পাচারকারিরা ৷

কীভাবে পাচার হচ্ছে ?

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, মূলত মণিপুরের গাঁজার চাহিদা বেশি বাংলাদেশে ৷ মণিপুর থেকে অাসাম হয়ে বাংলাদেশ লাগোয়া জেলাগুলিতে ঢুকছে উৎকৃষ্ট মানের সেই গাঁজা ৷ তারপর ওপারে যত পরিমাণ গাঁজার অর্ডার থাকে, সেই পরিমাণ গাঁজা বিভিন্ন এজেন্ট মারফত চলে আসে চোরা কারবারিদের কাছে ৷ চার-পাঁচ কেজি ওজনের প্যাকেটে ভরা থাকে সেগুলি ৷ কাজ শুধুমাত্র রাতের অন্ধকারে সুযোগ বুঝে কাঁটাতারের কাছে গিয়ে সেই প্যাকেটগুলি বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছুড়ে দেওয়া ৷ এমনভাবে ছুঁড়তে হবে যাতে প্যাকেটগুলি গিয়ে পড়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডে ৷ তবে এই কাজে হাতে জোর না থাকলে বিপদ হতে পারে ৷ এরপর বাকি কাজটা ওপারের এজেন্টের ৷ সে তার সুযোগ মতো প্যাকেটগুলি নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে কুড়িয়ে নিয়ে যায় ৷ তারপর জায়গামতো পৌঁছে দেয় ৷ আর এভাবেই ঝুঁকি এড়িয়ে সীমান্তে চলে গাঁজা পাচার ৷

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত গরু পাচার ঠেকানোই এতদিন চিন্তার কারণ ছিল বিএসএফ কিংবা পুলিশের কাছে ৷ কিন্তু এখন সীমান্তের চোরাপথ দিয়ে এভাবে গাঁজা পাচার শুরু হওয়ায় ভারতের উদ্বেগে প্রশাসনের কর্তাদের ৷ প্রায়শই প্রচুর পরিমানে গাঁজা পাচার হচ্ছে জানতে পারলেও, চোরা কারবারিরা এই অভিনব কায়দায় নিজেদের কাজ সেরে ফেলছে বলে অধিকাংশ সময়ই অধরা থাকছে তারা ৷ তবে সম্প্রতি ভারতীয় নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) গাঁজা পাচার চক্রের অন্যতম পান্ডাকে গ্রেফতার করে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে ৷ জানা গেছে, কীভাবে সীমান্ত দিয়ে চলছে গাঁজা পাচারের কারবার ৷

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত ৮ জানুয়ারি বনগাঁ সীমান্ত থেকে গাঁজা পাচারের অভিযোগে জুবের আলি তরফদার নামে একজনকে গ্রেফতার করে এনসিবি ৷  তার বাড়ি থেকেই ৩০ কেজি উৎকৃষ্ট মানের গাঁজা উদ্ধার হয় যেগুলি বাংলাদেশে পাচারের জন্য আনা হয়েছিল ৷ জুবেরই ভারতীয় গোয়েন্দাদের জানিয়েছে কোথা থেকে কীভাবে গাঁজা আসে এবং কীভাবে তা বাংলাদেশে পাচার করা হয় ৷

গাঁজা পাচারকারিদের থেকে তাদের কারবার সম্পর্কে জেনে উদ্বেগে গোয়েন্দারাও ৷ এনসিবি’র এক কর্তা বলেন, ‘‘সীমান্ত দিয়ে যে কোনও মূল্যে গাঁজা পাচার বন্ধ করা হবে ৷ প্রয়োজনে আমরা বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা করব ৷’’

সুত্র: কলকাতা 24×7। 


Shares