প্রচ্ছদ


আমরা সাহিত্যকে বলি মিরর অব লাইফ : অধ্যাপক মো. আব্দুল আজিজ

19 January 2018, 15:21

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 229 times.

সিলেটটুডে-উৎস প্রকাশন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান
শেকড়ের টান উপেক্ষা করা যায় না: ওয়াসি আহমেদ

এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রদান করা হলো সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম-উৎস প্রকাশন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮।

বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর একটি হলরুমে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ওয়াসি আহমেদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

ভাষাসৈনিক এমিরেটাস অধ্যাপক মো. আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকসংগীত শিল্পী সুষমা দাস।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম’র সম্পাদক আব্দুল আলিম শাহ ও উৎস প্রকাশনের প্রধান নির্বাহী মোস্তফা সেলিম। পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকের জীবনী পাঠ করেন কবি সুমনকুমার দাশ।

আবৃত্তিকার নাজমা পারভীনের সঞ্চালনায় ওয়াসি আহমদের সাহিত্যকর্মের ওপর বক্তব্য দেন কবি মোস্তাক আহমদ দীন, কবি শুভেন্দু ইমাম ও নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতফুল হাই শিবলী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম’র প্রধান সম্পাদক কবির য়াহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখককে উত্তরীয় পরিয়ে দেন সভাপতি সহ অতিথিরা। এসময় তাঁরা সম্মাননা স্মারক এবং উপহারসামগ্রীও তুলে দেন।

পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় কথাসাহিত্যিক ওয়াসি আহমেদ বলেন, এখানে পুরস্কার নিতে এসে আমি কিছুটা অপ্রস্তুত। প্রতিষ্ঠিত তরুণ লেখককে এ ধরণের পুরষ্কার দিলে তারা আরও উৎসাহিত হতো।

তিনি বলেন, সিলেটে আমার জন্ম ও বেড়ে উঠা হলেও সিলেটে যারা সাহিত্য চর্চা করেন তাদের সাথে আমার খুব একটা যোগাযোগ নেই। তবু শেকড়ের টান উপেক্ষা করা যায় না। শেকড়ের টানেই এখানে আসা।

তিনি বলেন, আমার লেখা গল্পে আমি আমার সময়কে ধরার চেষ্টা করেছি। আমরা যে সময় যাপন করছি তা দুঃসময়। এর উপশম কি আদৌ সম্ভব? লেখক যখন কিছু লেখেন তার ভাবনা থাকে তা পাঠকের মনে সঞ্চারিত করা। এর বেশি লেখকের করার কিছু নেই।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নিজের লেখা থেকে পাঠ করে শোনান ওয়াসি আহমেদ।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. আব্দুল আজিজ পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখককে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমরা সাহিত্যকে বলি মিরর অব লাইফ। জীবনের প্রতিচ্ছবি আমরা লেখার মধ্যে দেখতে পাই। সিলেটটুডে ও উৎস প্রকাশনের ধন্যবাদ প্রাপ্য। ওয়াসি আহমেদ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু আমরা সিলেটবাসী তাকে পুরস্কৃত করতে পেরে ধন্য। আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো তার পাণ্ডুলিপি পড়ে দেখার আমি তখনই বুঝেছিলাম তাঁর লেখা আলোচিত হবে।

নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতফুল হাই শিবলী বলেন, ওয়াসি আহমেদের নাম আমি প্রথম শুনি হাসান আজিজুল হকের কাছে। এরপর অনেকবার তাঁর নাম শুনেছি। একজন সুসাহিত্যিক হিসেবে তিনি বাংলা সাহিত্যে নিজের অবস্থান পোক্ত করে নিয়েছেন।

কবি শুভেন্দু ইমাম বলেন, ওয়াসি আহমেদ সৎ সাহিত্যিক। তিনি জনপ্রিয়তার জন্য লেখেন না। বাংলা সাহিত্যে তিনি অনন্য।

কবি মোস্তাক আহমাদ দীন বলেন, ওয়াসি আহমেদ যে মানের লেখক তাকে দেওয়া এই পুরস্কার তাকে খুব উঁচু জায়গায় নিয়ে যাবে এমন নয়। আমি দেশে তাঁর প্রথম লেখা পড়েছি ছাত্রাবস্থায়। এরপর তার লেখা পড়েছি কলকাতার পত্রিকায়। আখতারুজ্জামান ও হাসান আজিজুল হকের পরে ওয়াসি আহমদের ছাড়া আর কাউকে এমন ধরণের গল্প লিখতে দেখা যায়নি। ওয়াসি আহমেদ পাঠকের মনোজগৎ নিয়ে খেলা করেন। তাঁর লেখার সিদ্ধান্ত তিনি পাঠকের উপর ছেড়ে দেন। যারা এই পুরষ্কারটি দিয়েছেন তাদের শ্রদ্ধা জানাই।
এসময় তিনি ওয়াসি আহমেদের বিভিন্ন গল্প নিয়ে আলোচনা করেন।

স্বাগত বক্তব্যে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক আলিম শাহ বলেন, সিলেটটুডে ও উৎস প্রকাশন যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার প্রদান করছে। আমরা এটি অব্যাহত রাখতে চাই। একই সঙ্গে লেখক ওয়াসি আহমেদকে কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের প্রদত্ত পুরস্কারটি গ্রহণে সম্মতি প্রদানের জন্য।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে উৎস প্রকাশনের কর্ণধার মোস্তফা সেলিম বলেন, পুরস্কার যেমন কাউকে সম্মানিত করে, তেমনি যিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন, তিনিও পুরস্কারকে সম্মানিত করেন। সিলেটের লেখক হিসাবে পুরস্কারটি করলে সিলেটের পাঠকদের সাথে লেখকের একটি মেলবন্ধন তৈরি হবে বলে আমি মনে করি। আর লেখক ওয়াসি আহমেদ ইতিমধ্যেই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। আজ ওয়াসি আহমেদকে সম্মানিত করতে পেরে আমরা গর্বিত।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতিবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ, প্রবীণ রাজনীতিবিদ বেদানন্দ ভট্টাচার্য, জাসদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি লোকমান আহমদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, বাসদ সিলেটের সমন্বয়ক আবু জাফর।

কবি সাহিত্যিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কবি নন্দলাল শর্মা, কবি একে শেরাম, কবি বিধুভূষণ ভট্টাচার্য, গল্পকার সেলিম আওয়াল, কবি অধ্যাপক অভীক সোবহান, লেখক বদরুন নাহার, অধ্যাপক ফারজানা সিদ্দিকা, কবি পুলিন রায়, কবি জফির সেতু, ছড়াকার পরিতোষ বাবলু, লেখক অপূর্ব শর্মা, কবি আবিদ ফায়সাল, কবি প্রণবকান্তি দেব, কবি সজল ছত্রী, কবি রাজীব চৌধুরী, কবি সুফিয়ান,

পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে- কর অঞ্চল সিলেটের কমিশনার আবু দাউদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন সেলিম, ব্লাস্টের সমন্বয়ক ইরফানুজ্জামান, সিলেট কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্টার বদরুল ইসলাম শোয়েব, সিলেট চেম্বারের পরিচালক মুকির হোসেন চৌধুরী, লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের প্রধান মো. শওকত জাহান চৌধুরী, স্থপতি রাজন দাশ, নর্থ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. তোফায়েল আহমেদ, শাবির সহকারী অধ্যাপক একেএম জাকারিয়া, ডা. এনামুল হক এনাম, সংগঠক কাসমির রেজা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিৎ পাল, কর আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমর বিজয় শী শেখর।

সংস্কৃতি কর্মী ও সংগঠকদের মধ্যে- নাট্যপরিষদের প্রধান পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অম্বরীষ দত্ত, আবৃত্তিশিল্পী মোকাদ্দেস বাবুল, অঙ্গীকার বাংলাদেশ-সিলেটের সভাপতি মঈনুদ্দিন জালাল, নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু, সাবেক সভাপতি মনির হেলাল, সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত, আনোয়ার হোসেন রনি, অর্ধেন্দু দাশ, হুমায়ুন কবির জুয়েল, ইন্দ্রানী সেন, বাউল বশির উদ্দিন, বিমান তালুকদার।

সাংবাদিকদের মধ্যে সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, ইমজা’র সভাপতি আল আজাদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ রেনু, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম নবেল, মুক্তাদির আহমদ মুক্তা, বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী, চয়ন চৌধুরী, ফারুক আহমদ, শাহাব উদ্দিন শিহাব, আহমাদ সেলিম, মান্না চৌধুরী, মঞ্জুর আহমদ প্রমুখ।


Shares