প্রচ্ছদ


ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ১৬৩রানের বিশাল বাংলাদেশর জয়

20 January 2018, 03:38

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 230 times.

শুক্রবার ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ১৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। যা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তো বটেই, বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসেরই সবচেয়ে বড় জয়। বাংলাদেশের আগের সবচেয়ে বড় জয়টি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ২০১২ সালের ২ ডিসেম্বর খুলনায় ক্যারিবীয়দের ১৬০ রানের ব্যবধানে হারিয়েছিলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বনাম চান্দিকা হাতুরুসিংহে। বিভিন্ন বিতর্কসহ হাতুরুসিংহের কড়া শাসন ও হুট করে প্রধান কোচের দায়িত্ব ছাড়ায় তাকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটমোদীরা। কিন্তু প্রতিপক্ষের মানটুকুও রাখতে পারলো না তার দল।

বোনাস পয়েন্টসহ দুই ম্যাচ জেতায় ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠে গেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। তবে শ্রীলঙ্কা জিম্বাবুয়ের মতো এখনো দুটি ম্যাচ বাকি আছে বাংলাদেশের।

শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হার দেখেন হাতুরুসিংহে। দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটে-বলে কোনো প্রতিরোধ নয়, চেয়ে চেয়ে বাংলাদেশের শাসন দেখতে হয়েছে হাতুরুসিংহের শিষ্যদের। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তামিম, সাকিব ও মুশফিকের হাফ সেঞ্চুরিতে সাত উইকেটে ৩২০ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে বাংলাদেশের বোলিং তোপে ৩২.২ ওভারে মাত্র ১৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

৩২১ রানের বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দিশেহারা শ্রীলঙ্কা। তৃতীয় ওভারেই লঙ্কান ওপেনার কুশল পেরেরাকে ফিরিয়ে দেন স্পিনার নাসির হোসেন। এখান থেকেই শ্রীলঙ্কার ইনিংসের পতনের শুরু। ১০৬ রানের মধ্যে লঙ্কানদের পাঁচ উইকেট তুলে নেন মাশরাফি, মুস্তাফিজরা। ১০০ পেরিয়ে আরো করুণ দশা হয়ে পড়ে লঙ্কানদের।

সাকিব, রুবেলদের বল বুঝতেই পারছিলেন না সফরকারি দলের ব্যাটসম্যানরা। মাঝে থিসারা পেরেরা ঝড় তুলতে চেয়েছিলেন। সাকিবের এক ওভারে বেশ কয়েকটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে কাঁপন ধরাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সাকিব বাধাতেই থেমেছেন তিনি। ২৯ রান করে বিদায় নিতে হয় বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে। দলীয় ১৫০ রানের মাথায় পেরেরা আউট হওয়ার পর আর সাত যোগ করতে পেরেছেন সুরঙ্গ লাকমল ও আকিলা ধনঞ্জয়া। ১৫৭ রানেই শেষ তাদের ইনিংস। ম্যাচসেরা সাকিব তিনটি এবং মাশরাফি ও রুবেল দুটি করে উইকেট নেন। নাসির ও মুস্তাফিজ পেয়েছেন একটি করে উইকেট।

এরআগে টস জিতে ব্যাট হাতে দাপুটে শুরু করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয়। যদিও সাবলীল ব্যাটিং দেখা যায়নি। তামিম ঠিক পথে থাকলেও বিজয় ছিলেন খাপছাড়া। উইকেটে তাকে রীতিমতো অস্থির দেখাচ্ছিলো। দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান আগের ম্যাচের মতো তেড়েফুরে শুরু করতে গিয়ে ব্যাটিং সৌন্দর্যই হারিয়ে বসেন। একের পর এক ক্যাচ তুলতে থাকেন। যদিও লঙ্কান ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় শুরুতেই ফিরতে হয়নি তাকে।

তামিম ইকবালের সাথে ৭১ রানের জুটি গড়ার পথে দুইবার জীবন ফিরে পান বিজয়। তবু সেটা কাজে লাগাতে পারেননি। ৩৭ বলে ৩৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। অবশ্য এই ৩৫ রানের ইনিংসেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১ হাজার রান পূর্ণ হয়ে যায় তার। শাহরিয়ার নাফিসের সাথে যৌথভাবে সবচেয়ে কম ২৯ ইনিংসে এক হাজারি ক্লাবে নাম লেখান বিজয়।

বিজয়ের প্রস্থানেও ছন্দ হারায়নি বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের সাথে যোগ দেন সাকিব আল হাসান। নতুন ছন্দে এগোতে থাকে বাংলাদেশের ইনিংস। এরমাঝে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১১ হাজার রান পূর্ণ করে নেন তামিম। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও সেঞ্চুরির পথে ছিলেন তামিম। কিন্তু আবারো সঙ্গী আক্ষেপ। আগের ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও ঠিক ৮৪ রান করে থেমেছেন দেশসেরা এই ওপেনার।

১০২ বলে সাত চার ও দুই ছয়ে ৮৪ রানের ইনিংসটি সাজান তামিম। বাঁহাতি এই ওপেনারের বিদায়ের পর আবার নতুন কাঁধে বাংলাদেশ। সাকিবের সাথে জুটি গড়েন মুশফিকুর রহিম। এ জুটি থেকে আসে ৫২ রান। সাকিবের সামনেও ছিলো মাইলফলক। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১০ হাজার রান করতে ৬৬ রানের দরকার ছিলো তার। এ অপেক্ষা ফুরিয়েছে তার। ৬৭ রানের ইনিংস খেলে পূর্ণ করেছেন ১০ হাজার রানের মাইলফলক।

এরপর মুশফিকুর রহিমের ৬২, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২৪ ও সাব্বির রহমানের ঝড়ো ২৪* রানের সুবাদে ৩২০ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার থিসারা পেরেরা তিনটি ও নুয়ান প্রদীপ দুটি উইকেট নেন।


Shares