প্রচ্ছদ


সাংবাদিক পক্ষে আইনি লড়াই করবেন আইনমন্ত্রী

06 February 2018, 19:07

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 208 times.

৬ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির হলরুমে আইনি বিষয় নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম’ আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি করা হবে না জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কোনো সাংবাদিক মামলার শিকার হলে তার পক্ষে আইনি লড়াই করবেন তিনি।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের বিপুল সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে । এই আইনের ৩২ নম্বর ধরায় গুপ্তচরবৃত্তিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এর ফলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সমস্যা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংবাদিকসহ বিভিন্ন মহল। তবে আইনমন্ত্রীর ভাষ্য, এই ধারার ফলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় কোনো সমস্যা হবে না।

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারার মাধ্যমে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি করা হবে না। যদি কেউ হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা করে, সে ক্ষেত্রে আমি আপনাদের পক্ষে আদালতে দাঁড়াব। যতদিন বেঁচে আছি এই ধারার অধীনে কেউ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করলে আমি সেই সাংবাদিকের পক্ষে বিনা মূল্যে আদালতে ওকালতি করে দেবো’, বলেন আইনমন্ত্রী।

ন্যায়সংগত কারণ থাকলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হবে না বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

গুপ্তচরের সংজ্ঞা জানতে চাওয়া হলে আইনমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন কোনো সাংবাদিককে টার্গেট করে করা হয়নি। এই আইনের (৫৭ ধারা) অধীনে কেউ মামলা করলে অপরাধীর সাজা ছিল সর্ব নিম্ন সাত বছর। সর্বোচ্চ সাজা ছিল ১৪ বছর। সেই আইনকে বাতিল করে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দ্বারা অপরাধের বিষয়গুলো অনেক স্পষ্ট হয়েছে। ছোট অপরাধের জন্য ছোট সাজা, আর বড় অপরাধের জন্য বড় সাজার বিধান তৈরি করা হয়েছে। ডিজিটাল আইনের মাধ্যমে এগুলো পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে কেউ চুরি করলে অবশ্যই তার বিচার হবে। অতীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি হয়েছিল ডিজিটাল ডিভাইজের মাধ্যমে। ৩২ ধারার আইন না থাকার ফলে চুরির কোনো বিচার হচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে চুরি রোধে আইন করা হয়েছে, সাংবাদিকদের ঘায়েল করার জন্য করা হয়নি। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় এই আইন কোনো বাধা হবে না।

সংগঠনের সভাপতি আশুতোষ সরকার এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সদস্য সচিব কাজী আবদুল হান্নান, সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মাশহুদুল হক, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আহমেদ সরোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মল্লিক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলমগীর হোসেন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান, আবদুল জাব্বার খান, আফজাল হোসেন ও মেহেদী হাসান ডালিম।

সৌজন্যে প্রিয়।


Shares