প্রচ্ছদ


‘অহংকারে পা পড়ে না বার্ধক্যের উঠোনে’-জহিরুল মিঠু

25 February 2018, 12:25

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 405 times.

‘অহংকারে পা পড়ে না বার্ধক্যের উঠোনে’- এ কাবগ্রন্থের ভাষা যেন পাঠক মাত্রই নিজেকে খুঁজে পাবে। যৌবনকে মুষ্ঠিবদ্ধ করে ধরে রাখতে, কবি জহিরুল মিঠু যে শক্তি দেখিয়েছেন, মনে হয় প্রত্যেক মানুষ তার ইচ্ছেশক্তির কারণেই ধরে রাখতে পারে যৌবন। বার্ধক্য মানে বয়সের শেষ পর্যায় নয, বৃদ্ধ মনের তরুণরাও আছেন সেই দলে। তারুণ্যভরা এ কাব্যগ্রন্থে কবি নেতিবাচক শব্দকে ইতিবাচক অর্থে প্রয়োগ করেছেন, বলিষ্ঠভাবে। যৌবন চিরস্হায়ী নয়, কিন্তু যৌবনের চেতনাকে ধারণ করার অদম্য ইচ্ছা লালন করেন কবি; যৌবনের নতুনত্বকে বরণ করে নেওয়ায় অসামান্য পারদর্শী তিনি, আর তাইতো প্রতিনিয়ত যৌবনের গান গেয়েছেন তাঁর কাব্যে। বিরহের কবিতাগুলোও যেন এখানে ঘুরে দাঁড়াবার স্লোগান; বিরহ, ব্যর্থতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। এটাই যৌবনের ধর্ম। যৌবন কখনো মাথা নোয়ায় না।পাঠকের মনের কথাগুলোই কবি তাঁর কবিতায় এঁকেছেন । আবার কখনও নিজের ভেতরের নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি। কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থের সাফল্য কামনা করি ! একুশে বইমেলার ৩৩১নং স্টল অগ্রদূত অ্যান্ড কোম্পানি ছাড়াও রকমারীতে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।
সবাই মিঠু নামে জানলেও স্কুলের খাতায় ছিলেন জহিরুল ইসলাম, লেখালেখিতে জহিরুল মিঠু । পর্যটন নগর শ্রীমঙ্গলে কবির জন্ম ও বেড়ে ওঠা। লেখালেখির বয়স প্রায় দুই যুগেরও বেশি। দীর্ঘপথে পাঠক ফোরাম ও বন্ধুসভা নামক দুটো সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং একজন সাহিত্য ও সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে নিজ শহরে পরিচিত । তিনি যেমন তাঁর মননে শিল্প-সাহিত্য লালন করেন, তেমন তাঁর চলনে-বলনেও রয়েছে একজন আপাদমস্তক কবিয়াল অবয়ব। তিনি নিজস্ব ধারায় কবিতা চর্চা করেন। তাঁর কবিতায় শব্দ,ছন্দ,রূপক-উপমা ব্যবহার পাঠককে আছন্ন করে ভাললাগার এক অতল অবগাহনে। নিসর্গপ্রীতি, স্বদেশপ্রেম ও মানবিক আর্তির অতি অন্তরঙ্গ প্রকাশ ঘটে তাঁর কবিতায়। ব্যক্তি জীবনে তিনি যেমন নিসর্গে নিবেদিত প্রাণ তেমনি ভ্রমণ বিলাসীও। আড্ডাপ্রিয় এই অগ্রজের আছে অতি অন্তরঙ্গ কয়েকজন বন্ধু। এই দাহকালে তাঁদের বন্ধুত্ব এক বিরল দৃষ্টান্ত । জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করা কবি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায়। বর্তমানে শ্রীমঙ্গলের ভূনবীর দশরথ হাইস্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা করছেন। নয় ভাইবোনের মধ্য সবার ছোট । বাবা বেঁচে নেই, মা আছেন। স্ত্রী ফারহানা আফরোজ ও একমাত্র পুত্র আয়াত আলভীর।-দুলকান্তি পাল মলয়।
জহিরুল মিঠুর জন্য অন্তহীন ভালোবাসা মিঠুর সঙ্গে কোথাও কোনোদিন দেখা হয়েছিল কিনা, মনে নেই। দরকারও নেই। কবি জহিরুল মিঠুর হাত ছুঁয়ে আমি কিছু বলিনি কোনোদিন– এই কথাও কি সত্য, মিথ্যা যে নয় দিব্যি দিয়ে বলতে পারি। জহিরুল মিঠু–একজন তুখোড় তরুণ চিরঞ্জীব কবির সঙ্গে আমার দেখা হয়নি– না না, এ হতেই পারে না। কবে কখন ঢাকায় নাকি রংপুরে, নাকি শ্রীমঙ্গলে, নাকি সিলেটে– প্রথম আলো বন্ধুসভায় মিঠুকে দেখেছি কি দেখি নাই– সে বড়োএকটা ভাববার কথা নয়। কবি মিঠুকে আমি রোজ রোজ দেখি। হাত ছুঁয়ে দেখি। কবির বুকে কাঁধে মাথা রেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলি–কবিতার চিরসত্য দিয়ে কবিকে আমি দেখি, ছুঁয়ে ধুয়ে দেখি। এই কবি কবিতার নাম দেয় অকৈতব–। চমকে উঠি। কবির প্রতি ভালোবাসায় বুকের মধ্যে আমার গ্রামের দক্ষিণা বাতাস বেজে ওঠে। মিঠু আপনাকে, তোমাকে, তোকে– ভীষণ জোরে জড়িয়ে ধরি। ফ্রান্সের গভীর শীতল হাওয়ায় কবির দেহ থেকে গরম নিশ্বাস প্রবাহিত হয়, আমি ক্রমশ উষ্ণ হয়ে উঠি। অকৈতব শব্দের সরল অর্থ অকপট। আমি তরুণ এই কবির জন্য কপাটবিহীন সিভেন পাহাড়ের পাদদেশে আদিগন্ত আঙুরবাগান হয়ে যাই। মিঠুর কবিতা পড়তে পড়তে লাল আঙুরের মিঠাকড়ার স্বাদে সঞ্জীবনী সুধা খুঁজে ফিরি। জহিরুল মিঠুর কবিতাগুলো গভীর মনোনিবেশে পাঠ করি। কবির সঙ্গে আমিও ভ্রমণ করি যাপন করি গভীর গোপন বাংলাদেশকে। যে কবি শামুকবাস করে, যে কবি শিশুর মতো নামতা আবৃত্তি করে, যে কবি বিশ্বসংসারে নতুন সুরে বাঁশি বাজায়- তাঁর কবিতার পাঠে আমিও মাছির মতো ক্লান্তি ভুলে যাই। রক্তক্লেদ থেকে ফের উড়ে যাই– উড়ে যেতে যেতে পুবের বাতাসে মিলি মিশে বৃষ্টিভেজা বাতাসে স্নান সেরে কবি জহিরুল মিঠুকে অভিবাদন জানাই।-রবিশঙ্কর মৈত্রী Ravisankar Maitree Paris, France


Shares