প্রচ্ছদ


“ফোর-জি সিম রিপ্লেসমেন্টে অনৈতিক অর্থ আদায় বন্ধ ও ইন্টারনেটের মূল্য সমন্বয়ের দাবি”

03 March 2018, 14:27

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 331 times.

আজ ৩ মার্চ ২০১৮ইং শনিবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন উদ্যোগে “ফোর-জি সিম রিপ্লেসমেন্টে অনৈতিক অর্থ আদায় বন্ধ ও ইন্টারনেটের মূল্য সমন্বয়ের দাবিতে” মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় । মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ ।

বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংসদ সদস্য হুমায়ুন কবির হিরু, মোবাইল ব্যাংকিং রিচার্জ এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ বুলু, সংগঠনের মহাসচিব এড. আবু বক্কর সিদ্দিক, যুগ্ম মহাসচিব এড. ইশরাত হাসান, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ খান, সংগঠনের প্রচার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, এনডিপির মহাসচিব কাজী আমানুল্লাহ মাহফুজ, সংগঠনের সদস্য ডাঃ আমিনুল ইসলাম, ওমর ফারুক খান ফাহিম প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি বান্ধব ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ থেকে চতুর্থ প্রজন্মের দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা চালু করার জন্য ৪টি মুঠোফোন অপারেটরকে ফোর-জি লাইসেন্স প্রদান করেছে । কিন্তু থ্রি-জি নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের ধীরগতির ফলে গ্রাহকরা ফোর-জি’তে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে । তারপরও চুতর্থ প্রজন্মের সেবা পেতে পূর্বের ২-জি ও ৩- জি সিমগুলিকে পূর্বের নাম্বার বহাল রেখে রিপ্লেসমেন্ট করতে অপারেটররা ১১০ টাকা কোন কোন ক্ষেত্রে ১২০ টাকাও আদায় করছে। বর্তমান বিশে^ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী পিছিয়ে পড়া দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১২২তম। ইন্টারেনেট ডেটার দামও এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ এত প্রতিবন্ধকতার পরেও আমরা এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছি। আমরা জানতে পেরেছি যে, এক্ষেত্রে রাজস্ব বিভাগ ১০০ টাকা ভ্যাট ধার্য করেছে। পূর্বে যখন এমএনপি (নাম্বার অব পোর্টাবিলিটি) বা নাম্বার অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর পরিবর্তনে ক্ষেত্রে আপনারা ভ্যাট নির্ধারণ করেছেন ৩০ টাকা। অথচ ৪-জি রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে সামান্য প্রযুক্তির পরিবর্তনের একই নাম্বার একই অপারেটর থাকা সত্বেও কি কারণে ১০০ টাকা ভ্যাট আদায় করা হবে তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। ইতিমধ্যেই দেশের জনগণ এনবিআরকে দোষারোপ করছে। এর ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়বে।

বক্তব্যে সকল বক্তাই টু-জি ও থ্রী-জি সেবার মান নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বের ইন্টারনেটের মূল্য কমানো ও নেটওয়ার্ক সক্রিয় করার জোর দাবি জানান। সেই সাথে টেলিকম খাতে দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান টেলিটককে বিশ্বমানের অপারেটর হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন ফোর-জি সিম রিপ্লেসমেন্টে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি’১৮ স্মারকলিপি প্রদান করে। সাম্প্রতিক সময়ে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ভ্যাট হ্রাস করার জন্য অর্থমন্ত্রীর নিকট আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা তাঁর এই আহ্বানকে স্বাগত জানাই। কিন্তু তিনি কি জানেন না, পূর্বে ৭২ হাজার টাকার ব্যান্ডউইথ সরকার ৬০০ টাকা করার পরও অপারেটররা পূর্বের রেটেই ইন্টারনেট কিনতে গ্রাহকদের বাধ্য করছে। এতে করে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। তাই আমরা ভ্যাট প্রত্যাহারের সাথে সাথে ইন্টারনেটের মূল্য সমন্বয় করার জোর দাবি জানাই।



Shares