প্রচ্ছদ


শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব: জীবন-কর্ম-দর্শন

03 March 2018, 17:25

মো: অব্দুল মালিক
This post has been seen 384 times.

মো: অব্দুল মালিকঃ  বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী গোবিন্দচন্দ্র দেব এর পুরো নাম গোবিন্দ চন্দ্র দেব পুরকায়স্থ। পিতার নাম ঈশ্বরচন্দ্র দেব পুরকায়স্থ এবং মাতার নাম শরৎ সুন্দরী দেবী। সাত ভাইবোনের মধ্যে গোবিন্দ চন্দ্র দেব ছিলেন চতুর্থ। দেবের পূর্বপুরুষগণ কামরূপের রাজা ভাস্কর বর্মা কর্তৃক ব্রহ্মোত্তর লাভ করে পঞ্চম শতকে সিলেট জেলার পঞ্চখন্ড পরগনার লাউতা গ্রামে আসেন। ভাস্কর বর্মা যাদের সিলেটে এনে ভূমি দান করেন তাঁদের অধিকাংশ ছিলেন গুজরাটি ব্রাহ্মণ। তাঁদের উপাধি ছিল দেব, সিংহ, পাল, পালিত প্রভৃতি। এই ব্রাহ্মণ্য গোষ্ঠী এখানে এসে বিশুদ্ধ ব্রাহ্মণ্য ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান যথাযথভাবে পালনে ব্যর্থ হয়ে দেব উপাধি পরিত্যাগ করে কায়স্থ উপাধি গ্রহণ করেন। আর এভাবেই দেবের পরিবারের উপাধি হয় ‘দেব পুরকায়স্থ’। কিন্তু দেবের ভাইবোনেরা পুরকায়স্থ উপাধি রেখে দিলেও দেব ‘পুরকায়স্থ’ উপাধি ত্যাগ করেন। ফলে তিনি আমাদের নিকট ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব বা ড. জি.সি দেব বা ড. দেব নামেই সমধিক পরিচিত । অনেকে তাঁকে প্রাচ্যের সক্রেটিস হিসেবে অভিহিত করেন। বাংলাদেশের আধুনিক দর্শনের পথিকৃৎ বিশ্ববরেণ্য এই মানবতাবাদী দার্শনিক মাত্র ৬৪ বছর বয়সেই আমাদের স্বাধীনতার উষালগ্নে শহীদ হয়েছিলেন।

ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ১৯০৭ সালের ১ ফেব্র“য়ারি বর্তমান সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার পঞ্চখন্ড পরগনার লাউতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার আয়ের উৎস ছিল ছোট একটি জমিদারি। কিন্তু আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে তিনি তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হন। নানা প্রতিকূল অবস্থার কারণে তিনি তাঁর সহায়-সম্বল সর্বস্ব বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হয়ে অসুস্থ ও অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় অকালে মৃত্যুবরণ করেন। ফলে অল্প বয়সেই অন্যান্য ভাইয়ের সঙ্গে দেবকেও সংসারের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হয়।

ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ছাত্রাবস্থায়ই প্রতিভার সাক্ষর রাখেন। গ্রামের ‘বালক বিদ্যালয়’ বর্তমান লাউতা সরকারী প্রথামিক বিদ্যালয়ে শুরু হয় তাঁর শিক্ষা জীবন। মাধ্যমিক শিক্ষা শুরু হয় গ্রামের‘মধ্য ইংরেজি স্কুল’। বর্তমানে যা লাউতা উচ্চ বিদ্যালয়।পরে ১৯২১ সালে পঞ্চখন্ড হর গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯২৫ সালে ঐ বিদ্যালয় থেকে সংস্কৃত ও অংকে লেটার সহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন; ১৯২৭ সালে কলিকাতার রিপন কলেজ থেকে যুক্তিবিদ্যায় লেটারসহ প্রথম বিভাগে আই.এ, ১৯২৯ সালে একই কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে ২য় শ্রেনিতে অনার্স সহ বি.এ.এবং ১৯৩৯ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ম শ্রেনিতে ১ম স্থান অধিকার করে এম.এ পাস করেন। ১৯৪৪ সালে  Reason, Intuition and Reality শীর্ষক অভিসন্দর্ভ রচনা করে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি-এইচ.ডি. ডিগ্রি লাভ করেন। সেই সাথে কৃতি ছাত্র হিসেবে লাভ করেন ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণ পদক’ ও ‘হেমচন্দ্র মুখার্জী রৌপ্য পদক’ একজন কৃতী ও মেধাবী ছাত্র হিসেবে গোবিন্দ দেবের সঙ্গে সে সময়ের ভারতের খ্যাতনামা দার্শনিকদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গোবিন্দ দেবের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৩১ সালে কলিকাতার রিপন কলেজে। ১৯৩৪ সালে উচ্চতর গবেষণার জন্য তিনি বৃত্তি নিয়ে গমন করেন মহারাষ্ট্রে অবস্থিত অমলনারের বিশ্বখ্যাত দর্শন গবেষনা কেন্দ্রে। ১৯৩৭ সালে পুণরায় রিপন কলেজে যোগ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৩৯ সালে এই কলেজটি বর্তমান বাংলাদেশের দিনাজপুরে স্থানান্তরিত হলে তিনি সেখানে চলে আসেন। যুদ্ধ শেষে ১৯৪৫ সালে কলেজটি পুনরায় কলিকাতা স্থানান্তরিত হলে তিনি দিনাজপুরে থেকেই সকলের সহযোগিতায় উক্ত কলেজটিকে ‘সুরেন্দ্রনাথ কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।বর্তমানে যা দিনাজপুর সরকারী কলেজ। ১৯৫৩ সালে গোবিন্দ চন্দ্র দেব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। প্রকৃতপক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই তাঁর দার্শনিক প্রতিভা বিকাশের সুযোগ ঘটে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গোবিন্দ দেবের কর্মকাল ১৯৫৩ থেকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত। অবশ্য এ সময়ের মধ্যে তিনি দুইবার ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে আমেরিকা যান। এই আঠারো বছরের মধ্যে তিনি ৭টি ইংরেজি, দুটি বাংলা গ্রন্থ এবং ইংরেজি ও বাংলা মিলিয়ে প্রায় শতাধিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা করেন। তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে : (১) Idealism and progress (১৯৫২), (২)Idealism : A New Defense and a New Application (১৯৫৮) (৩)আমার জীবন-দর্শন (১৯৬০) (৪)Aspirations of the common Man (১৯৬৩) (৫)The Philosophy of Vivekananda and the future of Man (১৯৬৩), (৬) তত্ত্ববিদ্যা সার (১৯৬৬) (৭)Buddha : The Humanist (১৯৬৯) রচনা করেন। মৃত্যুর পর প্রকাশিত (১) Parables of the East (১৯৮৪) এবং (২) My American Experience (১৯৯৩)। এখানে উল্লেখ্য যে, তিনি তাঁর পি.এইচ.ডি. অভিসন্দর্ভাটি সামান্য পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করে Idealism and Progress নামে প্রকাশ করেন।

গোবিন্দ দেবের ৬৪ বছরের সংক্ষিপ্ত ও বৈচিত্রময় জীবনকালকে আমরা ৩টি ভাগে ভাগ করতে পারি :
শৈশবে দেব এক টিপিক্যাল পন্ডিতের নিকট বাড়িতেই ভারতীয় ঐতিহ্যের বেদ-বেদান্ত-উপনিষদের পাঠ গ্রহণ করেন এবং ভারতীয় আধ্যাতœবাদের প্রতি তার গভীর আকর্ষণ গড়ে ওঠে। ঠিক এর পরবর্তী সময়ে পিতার আর্থিক দুরবস্থার কারণে রামকৃষ্ণ মিশন ও খ্রিস্টান মিশনারি থেকে পড়াশুনা করেন। এখানে তিনি মানবপ্রেম ও মানবসেবার দীক্ষালাভ করেন। তিনি উপলব্ধি করেন জীবনধারণের জন্য যেমন বস্তুগত উপাদানের প্রয়োজন, ঠিক তেমনি মানসিক প্রশান্তির জন্য প্রয়োজন মানসিক শান্তি যার উৎস আধ্যাতœবাদ। আমরা এই সময়কালকে দেবের মানস গঠনের প্রস্তুতি কাল হিসেবে অভিহিত করতে পারি।

যৌবনের প্রারম্ভে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে দেব একান্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের জ্ঞানসমুদ্রে অবগাহন করে এক নতুন ভাবজগতে প্রবেশ করেন। বিশ্ব জ্ঞান ভান্ডারের সামনে দাঁড়িয়ে দেব এর নির্যাস আত্মস্থ করেন, হয়ে ওঠেন বহুমুখী চিন্তাধারার ধারক বাহক। প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের শিল্প-সাহিত্য সংস্কৃতি দর্শন বিষয়ে হয়ে ওঠেন সব্যসাচী লেখক। শংকর রামানুজ, প্লেটো, এরিস্টটল, গৌতমবুদ্ধ, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, ইসলাম, খ্রিস্ট, বৌদ্ধধর্ম সর্ব বিষয়ে মতবাদ ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার জন্য তিনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে তিনি প্রাচ্য-প্রতীচ্য সভ্যতার কল্যাণকর বিষয়গুলো সযতেœ লালন করা শুরু করেন। এই সময়কালকে আমরা দেবের মানস-গঠনকাল হিসেবে উল্লেখ করতে পারি।

দেবের কর্মজীবনের শুরু কলেজে শিক্ষকতার মধ্যদিয়ে। এই সময়কালকে আমরা দেবের জীবনের বিকশিত জীবনকাল হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারি। শৈশর থেকে কৈশোর যুবা বয়স পর্যন্ত দেব নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছেন, প্রত্যক্ষ করেছেন বিশ্বব্যবস্থা, দেখেছেন মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, হতাশা ব্যর্থতা । এই সব কিছুকে দেব একটি সমন্বিত রূপ দেয়ার প্রয়াস পেয়েছেন তাঁর চিন্তাধারায়। তাত্ত্বিক দর্শন দিয়ে তাঁর দার্শনিক চিন্তাধারা শুরু হলেও তিনি তাতে আবদ্ধ থাকেননি- তিনি ফিরে এসেছেন নির্মম বাস্তবতায়। প্রত্যাশা করলেন এক সুখী, সুন্দর, কল্যাণকর, শান্তিময় জীবনব্যবস্থার। তিনি উপলব্ধি করলেন একদেশদর্শী কোনো মতাদর্শ তাঁর লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে না। একটি সমন্বিত চিন্তাধারাই এর একটি কার্যকরী রূপ দিতে পারে। তাঁর মুখ দিয়ে উচ্চারিত হল ‘স্বার্থক দর্শন মাত্রই জবীন দর্শন,’ বাকসর্বস্ব দর্শনের হবে সমাধি, পূর্ণমুক্তির দর্শনের হবে উজ্জীবন’। তাই দেব তাঁর দর্শনে নিজ ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতা, ভাববাদ, বস্তুবাদ, ধর্ম, বিজ্ঞানসহ প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের কল্যাণকর সব কিছুকে সমন্বয় করে একটি সমন্বয়মূলক জীবনদর্শন গড়ে তোলেন। একে বলে সমন্বয়ী দর্শন। ড. দেব ছিলেন এর প্রবক্তা।

দেব ছিলেন সকল প্রকার সংকীর্ণতা, অন্ধতা, গোঁড়ামি ও কুসংস্কার-বিরোধী। তিনি ছিলেন বিজ্ঞানমনস্ক। বৈজ্ঞানিক চিন্তাচেতনা, ধ্যান-ধারণা ও প্রগতিতে দৃঢ় বিশ্বাসী। তাই তিনি ‘অন্য দেশকে ভালোবাসা পরস্ত্রীর প্রতি আসক্তিরই শামিল’- প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের এই উক্তিকে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রসূত ক্ষুদ্র স্বদেশিক মনোভাবাপন্ন বলে আখ্যায়িত করেন। কারণ তিনি মনে করেন, আজকের বিজ্ঞানের প্রগতির যুগে ‘দেশকালের মান আপেক্ষিক’- বিজ্ঞান আমাদের করেছে গতিশীল, আতœকেন্দ্রিকতামুক্ত ও আন্তর্জাতিক মনোভাবাপন্ন। তবে এর পাশাপাশি তিনি বিজ্ঞানের অপব্যবহারের প্রতি সজাগ থাকারও আহ্বান জানান। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা, ভয়াবহতা ও মানব সভ্যতার করুণ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে শংকিতবোধ করেছেন। বর্তমান পারমাণবিক যুগে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হলে এর তীব্রতা, ধ্বংসলীলা ও পরিণতি কী মারাতœক হতে পারে তার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি তাঁর অংঢ়রৎধঃরড়হ ড়ভ ঃযব ঈড়সসড়হ গধহ গ্রন্থে।

ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ছিলেন আলু-দর্শনের প্রবক্তা । আলু-দর্শনের উৎপত্তি প্রসঙ্গে দেব বলেন, প্রাচীন যুগের মানুষ পারমার্থিক ও আধ্যাতœচিন্তা এবং পরবর্তীকালে নানা কারণে এক পাপময় অবস্থায় পতিত হয়ে দেহাত্মবাদকে গ্রহন করার ফলে সত্যভ্রষ্ঠ হয়ে পড়ে। ফলে জনকল্যাণ হয় বিঘিœত। তাই জনকল্যাণের প্রয়োজনেই আধ্যত্মবাদ ও দেহাত্মবাদের সমন্বয় জরুরি হয়ে দেখা দেয়। আর এই সমন্বয় থেকেই আলু-দর্শন নামক জীবনদর্শনের উৎপত্তি। আলু-দর্শনের নামকরণ প্রসঙ্গে দেব একটি সুন্দর বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন এভাবে- “কলির যুগের [বর্তমান যুগ] শেষ দিকে বৈজ্ঞানিক সভ্যতার অভ্যুদয় কালে জগতের জাতিবর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের উপযোগী আমিষ ও নিরামিষ ভোজীর সমভাবে প্রিয়, গোলাকার ক্ষুদ্রকায় ঈষৎ চর্মাবৃত এক খাদ্যের উৎপত্তি হবে; তার বৈশিষ্ট্য হবে বৈজ্ঞানিক সভ্যতার প্রারম্ভে নারীরা ও পরবর্তীকালে নরেরা তাদের যে সমস্ত সুস্বাদু খাদ্য প্রস্তুত করবে তার সবগুলোর ভিতর নিজের স্বতস্ত্র সত্তা হারিয়ে সে তাদের স্বাদবৃদ্ধি করবে। এই অসম্ভব আত্মবিস্মৃতি, উদার দৃষ্টি ও গুণগ্রাহিতাই হবে আলু-দর্শনের বৈশিষ্ট্য। অন্ধকারাচ্ছন্ন কলিযুগে এই আলু-দর্শনই হবে দ্বন্দ্ব-সংকুল, দুঃখ জর্জরিত মানবতার একমাত্র আলোকবর্তিকা। তাই আলোকের অনুকরণে তার সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা হবে ‘আলু’। কতিপয় ভ্রান্ত মানব এই অদ্ভুত পদার্থের বাহ্য আকারে আকৃষ্ট হয়ে এর নাম দেবে গোল আলু। তারা জানে না গোলাকার পৃথিবীর সব মানুষের কল্যাণের প্রতীক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই বিধাতা আলুকে গোলাকার রূপ দিযেছেন।’’

দেব মনে করেন, আলু-দর্শনের সত্যাদর্শ গ্রহণ করার কারণেই গ্রীক ও রোম- এই দুই বৃহৎ ঐশ্বর্যমন্ডিত সভ্যতার জন্ম এবং এই সত্যাদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণেই তাদের ধ্বংস ও পতন। কিস্তু যুগে যুগে এই আলু-দর্শনের আদর্শ ও মহিমা প্রচারের জন্য জন্মগ্রহন করেছেন মহাপুরুষগণÑজন্মগ্রহণ করেছেন গৌতম বুদ্ধ,যিশুখ্রিস্ট এবং হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর মতো ক্ষণজন্মা মহামানব। তাঁদের ত্যাগ, আদর্শ, সাম্য ও মৈত্রীর বাণী দ্বারা মানুষ অনুপ্রাণিত হলেও শেষ পর্যন্ত সে পথ থেকে মানুষ হয়েছে বিচ্যুত। ফলে দেখা দিয়েছে দ্বন্দ্ব-সংঘাত-সংঘর্ষ ও বিভেদ। এই বিপদসংকুল অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন আলু-দর্শন-অর্থাৎ দেহাত্মবাদের সাথে আধ্যাত্মবাদের সমন্বয়। এর ফলে দূর হবে সব দ্বন্দ্ব-সংঘাত-সংঘর্ষ ও বিভেদ প্রতিষ্ঠিত হবে এক প্রেমময়, শান্তিময় বিশ্ব। দেবের ভাষায়: “তাতে জাতে জাতে, দেশে দেশে, ধর্মে ধর্মে বিভেদ যাবে চলে: পৃথিবীর সব মানুষ প্রেমে হবে এক। অগণিত জনগণের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার পথ হবে সহজ ও সুগম। পৃথিবীতে শান্তি হবে সুপ্রতিষ্ঠিত”। (আলু দর্শনের ভূত ও ভবিষ্যৎ )।

‘বিশ্বসভ্যতায মুসলিম দার্শনিকদের দান’ প্রবন্ধে দেব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয়ের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
১. মুসলিম দার্শনিকদের অবদান সর্বজনীন এবং উদার দৃষ্টিভঙ্গিপ্রসূত। জ্ঞানের প্রতি তাঁদের রয়েছে সূক্ষè ও গভীর অনুরাগ;
২. সর্বজনীন ও উদার দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মুসলিম দার্শনিকগণ লৌকিক ও আধ্যাত্মমূলক জ্ঞানকে প্রায় সমমর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন; এবং
৩. তৎকালীন চার্চের সংকীর্ণ ধর্মপ্রচারের যুগে যদি মুসলিম দার্শনিকগণ প্লেটোবাদ, নব্য-প্লেটোবাদ ও এরিস্টটলের ভাবধারা প্রচার ও সংরক্ষণ না করতেন, তাহলে এ ভাবধারাগুলো বিশ্বসভ্যতা থেকে চিরতরে নির্বাসিত হত।
উপরিউক্ত তিনটি বিষয়ের আলোকে দেব মনে করেন, ‘দর্শনের কোনো জাত-ভেদ নেই দর্শন দেশ-কাল-বর্ণ জাতির ঊর্ধ্বে। উপরিউক্ত তিনটি বিষয়ই বিশ্বসভ্যতায় মুসলিম দার্শনিকদের সবচেয়ে বড় অবদান। বিশ্বদর্শন ইতিহাসে তাই মুসলিম দর্শন এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।’

বিশ্ব দর্শন ইতিহাসে মুসলিম দার্শনিকগন সে যুগের আর্থ-সামাজিক ধর্মীয় এবং দার্শনিক চিন্তার পরিমন্ডলে স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছিলেন। দেব মনে করেন, মুসলিম দার্শনিকগণ শুধ্ইু প্লেটো-এরিস্টটল-প্লেটোইনাসের মতবাদের প্রতিধ্বনি করেছেন বা তাদের মতবাদের ব্যাখ্যা ও অনুবাদ করেছেন Ñ এ রকম ধারণা যথার্থ নয়। মুসলিম দার্শনিকগণ বরং তাঁদের নিজস্ব প্রতিভা ও মৌলিকত্ব নিয়েই বিশ্বসভ্যতায় উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি আল কিন্দি, ইবনে সিনা, ইবনে রুশদ, ইবনে তুফাইল প্রমুখ মনীষীর দর্শন উল্লেখ করে দেখিয়েছেন, তাঁরা ‘গড্ডলিকা প্রবাহের ন্যায়’ চলেননি, ‘চিরায়ত রীতি-নীতি অন্ধভাবে’ গ্রহণ করেননি, কিংবা ‘চলতি ধর্মের সাথে আপোষ করেননি, ‘অযৌক্তিক ঐতিহ্যের দ্বারা’ প্রভাবিত হননি।

মুসলিম দার্শনিকদের স্বকীয় ও স্বাধীন চিন্তা প্রসঙ্গে দেব বলেন, একথা অস্বীকার করার যো নেই যে মানুষের ইতিহাসে যখন স্বাধীন চিন্তার ঢাকঢোল বিশেষ বাজেনি, বরং যখন স্বাধীন চিন্তা একটি অমার্জনীয় অপরাধ বিবেচিত হত, সে যুগেই মুসলিম দার্শনিকেরা স্বাধীন চিন্তার পথে অগ্রসর হতে চেষ্টা করেছেন। প্লেটো-এরিস্টটলের কাছ থেকেই হোক, আর হাদীস থেকেই হোক, আর এই দুই থেকে হোক প্রেরণা নিয়ে তাঁরা যে স্বাধীনতা ও স্বকীয়তার পরিচয় দিয়েছেন, তাঁেদর আগের কিংবা পরের ইতিহাসেও তার খুব নজির নেই। (মুসলিম দার্শনিকদের স্বকীয়তা)।মুসলিম দার্শনিকগণ তাঁদের প্রতিভার পরশে প্রাচীন ঐতিহ্যকে করেছিলেন পুনরুজ্জীবিত, সতেজ ও নবীন। যা তাঁদের স্বকীয়তা ও মৌলিক মানসিকতারই পরিচয় বহন করে।

দেব বিজ্ঞান প্রভাবিত আধুনিক বস্তুবাদী শিক্ষাব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে বলেন বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষকে বহির্দৃষ্টিসম্পন্ন, আত্মকেন্দ্রিক করে তুলছে। এই শিক্ষাব্যবস্থা অপূর্ণ, ব্যক্তিত্বের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের পরিপন্থী। তাই আজ বিশ্বময় এক নৈরাশ্যকর, সংঘাত-দ্বন্দ্বময়, ধ্বংসমুখী জটিল অবস্থা বিদ্যমান। ফলশ্র“তিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হচ্ছে বিঘিœত, মানুষ পালন করে চলছে জীবনদর্শনহীন নিষ্ফল কর্মজীবন। অথচ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলা। তাই আজ ব্যক্তিকে এমনতরো শিক্ষা দেওয়া চাই, যাতে সে তার বৃহত্তম জীবনের সমঝোতা নিয়ে আসার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। নতুবা শিক্ষার আদর্শ যে সার্থক জীবনযাত্রা তা বাস্তব করার আগেই মানুষের জ্যান্ত কবরের ব্যবস্থা হয়ে যাওয়া মোটেই অস্বাভাবিক নয়। (আগামী দিনের শিক্ষা-দর্শন)
দেব বিজ্ঞান বিরোধী-নন। তাই তিনি তাঁর নতুন শিক্ষাদর্শনে বিজ্ঞানের দেয়া বাহ্যিক ঐক্যের সাথে বিভিন্ন ধর্মে প্রচারিত আত্মিক যোগের সমন্বয়সাধন করতে আগ্রহী। কারণ জ্ঞানের সাথে প্রেমের সংমিশ্রণ ব্যতীত মানুষের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ, সার্থক, সুন্দর ও সুষ্ঠ জীবনযাত্রা সম্ভব নয়। তাই দেবের শিক্ষাদর্শনে থাকবে: “বিজ্ঞানের সাথে ধর্মবোধের মিলন যার মূল কথা বিশ্বের ঐক্য, মানুষের ঐক্য।”

দেবের বিশ্বাস ঃ ইতিহাসের স্বাভাবিক গতি অনুসারে উগ্রতার অভ্যাস ও অনুশীলনের ফলে মানুষের মধ্যে যে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে ধর্মের ঐক্যবোধ ও প্রেমের সঙ্গে বিজ্ঞানের জ্ঞান-পিপাসা ও কর্মতৎপরতার সমন্বয়ে তার সংস্কার সম্ভব ও প্রয়োজন। এতেই মিটবে মানুষের দেহের ক্ষুধা ও আত্মিক ক্ষুধা। এ সমঝোতার ভেতরেই মানুষের আগামী দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অব্যর্থ সংকেত। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আগামী দিনের শিক্ষা দর্শনের রূপায়ণ প্রয়োজন। (আগামী দিনের শিক্ষা-দর্শন)

ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব এ-সব প্রবন্ধে তাঁর জীবনদর্শন তথা সহমর্মিতা, সহনশীলতা অসাম্প্রদায়িকতাÑএক কথায় সমন্বয়ী ভাবনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এ রকম একজন আদর্শবাদী ও মানবতাবাদী দার্শনিককে জীবন দিতে হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঊষালগ্নে বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্মম বুলেট ও বেয়নটের আঘাতে। মানবতাবাদী অকৃতদার এই মহান দার্শনিক শুধু তথ্যে সমন্বয়বাদী বা অসাম্প্রদায়িক ছিলেন না ব্যক্তি জীবনেও তিনি তা পালন করেছেন। তিনি একটি মুসলমান ছেলে ও একটি হিন্দু মেয়েকে দত্তক গ্রহণ করে তাদের যথাযথ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেন। তাদেরকে তিনি তার মোট সম্পত্তির অর্ধেক সমান অংশে দান করে যান। তিনি সকল ধর্মের আচার অনুষ্ঠানে নিঃসংকোচে যোগদান করতেন।

ড. দেবের সামাজিক ও সংস্কৃতিক জীবন ঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও সামাজিক ও সাংস্কিৃতিক অঙ্গনে ড. জি. সি. দেবের পদচারণা ছিল অবাধ। যেমন, তিনি ছিলেন তদানীন্তন পাকিস্তানের দর্শন জগতের এক উজ্জ্বল জ্যোতিস্ক। তারই স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে নির্বাচিত করা হয়েছিল ‘পাকিস্তান ফিলসফিক্যাল কংগ্রেস’ এর সাধারন সম্পাদক, একাধিকবার মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল সেই সমিতি আয়োজিত সেমিনার সম্মেলনের শাখা সভাপতি, সিম্পোজিয়ামের বিশিষ্ট আলোচক, এমন কি সম্মেলনের মূল সভাপতি হিসেবে। মাঝে মধে দু’ এক বছরের বিরতি-ছাড়া তিনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত অধিষ্ঠিত ছিলেন পাকিস্তান ফিলসফিক্যাল কংগ্রেস এর পূর্বাঞ্চলীয় শাখার সম্পাদক হিসেবে। মনীষী দেবের অক্লান্ত চেষ্টায় জীবনঘনিষ্ঠ ও মানবতাবাদী দর্শন প্রচারার্থে ১৯৬৪ সালে ঢাকায় স্থাপিত হয়েছিল ‘দর্শন ভবন’। ড. দেবের নেতৃত্বে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্র-শিক্ষক ও বাইরের আমন্ত্রিত অতিথিদের অংগ্রহণের মধ্য দিয়ে দর্শন ভবনে অনুষ্ঠিত হতো সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান। ভবনের গ্রন্থাগারে ছিল দর্শনের বহুমূল্যবান গ্রন্থাবলি। এ গ্রন্থাগারে প্রবেশাধিকার ছিল যেকোনো কৌতহলী ও দর্শনামোদী পাঠক- পাঠিকার। জায়গা-জমি নিয়ে মামলা -মোকদ্দমার পর শেষ পর্যন্ত দর্শন ভবনের অবলুপ্তি ঘটলেও তার অর্থ- সম্পদের উল্লেখযোগ্য অংশ ড. দেব তাঁর জীবদ্দশায় দান করে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে। পরবর্তীতে তা যুক্ত হয়ে যায় ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত ‘গোবিন্দ দেব দর্শন গবেষণা কেন্দ্র’ এর সম্পদের সঙ্গে। এ ছাড়াও ড. দেব তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান পালি ও সংস্কৃত বোর্ডের সম্পাদক, ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক, তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের অধীনে শিক্ষা সংস্কার কমিশনের সদস্য, বাংলা একাডেমির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রভৃতি বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও সমাজ সেবামূলক গুরুত্বপূণৃ পদে দায়িত্ব পালন করেন। গোবিন্দ দেবের আন্তর্জাতিক খ্যাতিও কিছুমাত্র কম ছিল না। তাঁর দার্শনিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাঁকে নানাভাবে সম্মানিত করেছে। যেমন, তিনি যুক্তরাজ্যের ‘দি ইউনিয়ন অব দ্যা স্টাডি অব জেনারেল রিলিজিয়নস’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফিলসফি অব সায়েন্স -এর সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়ে ১৯৬৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গমন করেন যুক্তরাষ্ট্রের উইল্কস বারে কলেজে এবং নিয়মিত অধ্যাপনা ছাড়া ও অনেক বক্তৃতাকরেন দর্শনসহ বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় তথা মানবিক বিষয়ে। তাঁর পাগিুত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং মানবতাবাদী দর্শন প্রচারার্থে সেখানে ১৯৬৭ সালের ২৬শে মে স্থাপিত হয় ‘দি গোবিন্দ দেব ফাউন্ডেশন ফর ওয়ার্ল্ড ব্রাদারহুড’। এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতির আমন্ত্রণক্রমেই ১৯৭০ সালের আক্টোবর মাসে তিনি পুনরায় চলে যান উইল্কস বারে কলেজে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে। বাংলাদেশ সরকার মহান এই মনীষীকে ১৯৮৫ সালে মরণোত্তর একুশে পদক এবং ২০০৮ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে সম্মানিত কলেছেন।

প্রাচ্য দর্শনের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দর্শনের তুলনামূলক আলোচনা, দর্শনের ব্যবহারিক মূল্য, বিভিন্ন ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের তথা সমগ্র পৃথিবীর মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় দর্শন কী ভূূমিকা পালন করতে পারে- এ ধরনের আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পাঠদান ও ভাষণ দেন অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র দেব। উইল্কস বারে কলেজ কর্র্তপক্ষ কর্তৃক আয়োজিত এবং বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্যাপক ভাবে প্রচারিত এসব ভাষণ শোনার জন্য উপস্থিত হতেন কলেজের ছাত্র-শিক্ষক ছাড়াও দর্শনামোদী অনেক দর্শক-শ্রোতা।

শহীদ দার্শনিক ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব ও তাঁর চিন্তাধারা অনেকটা একাডেমিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ। অথচ তাঁর অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী ও সমন্বয়ধর্মী বিশ্বজনীন চিন্তা সমগ্র মানবসভ্যতার জন্য আজ অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর স্মৃতি ও চিন্তাধারা প্রসারের লক্ষে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং অনেকাংশে সফলও হয়েছে। কিন্তু দেবের চিন্তাধারার ব্যাপক প্রসারের উদ্যোগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণ করা হলে বিশ্ববাসি উপকৃত হবেন নিংসন্দেহে।

আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বহুগুণে গুণাণ্বিত এই মহান দার্শনিকের জীবন কর্ম ও দর্শন নিয়ে এত স্বল্প সময়ে ও স্বল্প পরিসরে আলোচনা করা সম্ভব নয়। এখানে আমি কিঞ্চিত তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। তরুণ গণেষক ও অনুসন্ধিৎসু পাঠক তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন- এই প্রত্যাশা রইল।

তথ্যসুত্র- (১) গোবিন্দ চন্দ্র দেব জীবন ও দর্শন- অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম।
(২) শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ জি.সি.দেব-অধ্যপক ড.প্রদীপ রায়।
(৩) গোবিন্দ চন্দ্র দেব জীবন ও দর্শন-অধ্যপক ড.প্রদীপ রায়।
(৪) আমি তোমাদেরই লোক স্মারক প্রকাশনা-আজিজুল পারভেজ।
(৫) বিয়ানী বাজার কথা-আব্দুল মতিন চৌধুরী।
(৬) সিলেট নিবাস বাংলাদেশ- শামসাদ হুসাম।
(৭) কীর্তিমান বাঙ্গালিদোর জীবন কথা-সমরেশ দেবনাথ।
(৮) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ঢাকা ও কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান- রংগলাল সেন গঃ।
(৯) শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মারক গ্রন্থ-ড. মাজহারুল ইসলাম।
(১০) উইকিপিডিয়া।


Shares