প্রচ্ছদ


তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে প্রয়োজন আবার গণজাগরণ

08 March 2018, 10:41

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 556 times.

সুমন দেঃ “তুমি কে আমি কে/ বাঙালি, বাঙালি।’ ‘তুমি কে, আমি কে/ আদিবাসী, বাঙালি।’ ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চ যখন শাহবাগে শপথ নিচ্ছে, তখনও শিশুরা বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রজন্ম চত্বরে এসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে কণ্ঠ মিলিয়েছে। ব্যাগ কাঁধে স্কুলে যাওয়া সারাদেশের এই শিশুরা একদিন বড় হবে। দেশের প্রয়োজনে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রয়োজনে, সময়ের প্রয়োজনে তারাও তাদের পথটি তৈরি করে নেবে। বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। পাঠ্যপুস্তকের ইতিহাস বিকৃতি আমাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি; আজকের সাম্প্রদায়িকীকরণ তাদেরও ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। গণজাগরণ মঞ্চের একজন কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, একটি গণআন্দোলনের এর চেয়ে ফলপ্রসূ কোনো প্রভাব থাকতে পারে না।

গণজাগরণ মঞ্চ গণমানুষের শক্তি। গণজাগরণ মঞ্চের সবাই কর্মী। তাদের একজন মুখপাত্র আছে। যে সবার কথা বলে। সেও কিন্তু নেতা না। গণজাগরণ মঞ্চ একটা সংগঠন না হয়েও ৪ বছর ধরে মানুষকে নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন করছে। আমরা ৫০ জনও যখন মিছিল করেছি তখনো কিন্তু আমরা রাস্তা থেকে চলে যাইনি। রোদ-বৃষ্টি ঝড় উপেক্ষা করেই কিন্তু রাস্তায় চলেছি। গণজাগরণ মঞ্চ সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই রাজপথে থাকবে।
বিবিসি প্রকাশ করেঃ (১ মে ২০১৬) বাংলাদেশে ইসলামী উগ্রপন্থিদের হামলার শিকার হয়েছেন এমন মানুষের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার, শিক্ষাবিদ, এলজিবিটি কর্মী, শিয়া, সুফি আহমাদিয়া মুসলিম, খ্রিস্টান ও হিন্দু সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হত্যা করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগকেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। টাঙ্গাইলে নিখিল জোয়ারদার নামে একজন দর্জিকে গতকাল কুপিয়ে হত্যার পর এসব কথা লিখেছে অনলাইন বিবিসি। এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসরকে হত্যা করা হয়েছে। তার পরিবার বলছে, তিনি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করতেন। তাকে হত্যার ঘটনায় এটা পরিষ্কার যে, যারা এমন হত্যার ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় আছেন তার ক্রমশ বিস্তার ঘটেছে। এসব হামলার নেপথ্যে কে বা কারা তা রয়েছে অস্পষ্ট। বাংলাদেশে রয়েছে অনেক উগ্রপন্থি গ্রুপ। এসব হামলায় খুব কমই শাস্তি দেয়া হয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আল কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলো। কিন্তু দায় স্বীকার নিয়ে আপত্তি আছে বাংলাদেশের। এর পরিবর্তে দেশটি এসব হত্যার জন্য বিরোধী দল ও স্থানীয় ইসলামি গ্রুপগুলোকে দায়ী করেছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সরকারকেই অভিযোগ মোকাবিলা করতে হবে ।

হত্যাযজ্ঞ শুরু হয় বাংলাদেশে প্রথমে, ড. হুমায়ুন আজাদ স্যারকে কুপানোর পর হতে সেই আঘাতেই কিছুদিন বেঁচে থেকে মৃত্যু বরণ করতে হয়।

১৫ ফেব্রুয়ারি, জঙ্গিদের হাতে খুন হওয়ার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর রাজীবের বাসায় যান। রাজীব হায়দার শাহবাগে জড়ো হওয়ার লক্ষ লক্ষ মানুষের মতন শাহবাগের একজন সমর্থক ও কর্মী ছিলেন। শাহবাগ আন্দোলনের সময় শুধু রাজীব হায়দার নন পরবর্তীতে খুন হোন আরও অনেকে। এর মধ্যে রাজাকার গোলাম আযমের সাক্ষী গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ভাই মিরাজ আহমেদ হত্যা অন্যতম। প্রাথমিকভাবে রাজীব হায়দার খুনের ঘটনায় জামাত-শিবিরের সম্পৃক্ততা মনে করা হলেও পরবর্তীতে দেখা গেল তিনি খুন হয়েছেন তার নিজের লেখালেখির কারণে। খুনিরা আনসার বাংলা নামে একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। গণজাগরণ মঞ্চের অনলাইন আ্যক্টিভিস্ট ও ব্লগার গত ৫ বছরে বলী হোনঃ ১/ আহমেদ রাজিব হায়দার (১৫/২/২০১৩) ২/ শাফিউল ইসলাম (১৫/১১/২০১৪) ৩/ অভিজিত রায় (২৬/২/২০১৫) ৪/ ওয়াশিকুর রহমান বাবু (৩০/৩/২০১৫) ৫/ অনন্ত বিজয় দাস (১২/৫/২০১৫) ৬/ নিলয় নীল (৬/৮/২০১৫) ৭/ নিজামুদ্দিন সামাদ (৬/৪/২০১৬)। আরো আছেন।

শাহবাগ সৃষ্টি হওয়ার পরপর-ই জামাতের সাথে বিএনপির সম্পর্ক থাকায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ব্লগারদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন। ব্লগার রাজীব হায়দার খুন, শাহবাগে রাজীবের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর হেফাজত ইসলাম নাস্তিক ও ব্লগ ইস্যুকে সামনে রেখে রাস্তায় নামে। ইসলামপন্থী দল গুলোসহ অন্যরা পেছনে থাকলেও মূল ভূমিকায় থাকে হেফাজতে ইসলাম। ২০১০ সালে নারী নেতৃত্বের প্রতিবাদে হেফাজত ইসলামের সৃষ্টি। ২০১৩ সালে ব্লগার ইস্যুতে তারা মাঠে নামে। হেফাজত অভিযোগ করে শাহবাগের ব্লগাররা ইসলাম ও নবীর বিরুদ্ধে লেখালেখি করে। এক দিকে শাহবাগ অন্যদিকে হাটহাজারির হেফাজতের আন্দোলন সৃষ্টি হওয়ার ফলে ঢাকার রাজাকারের ফাঁসির ইস্যুটি চট্টগ্রামে নাস্তিক ফাঁসির ইস্যুতে রূপ নেয়। জাতির মধ্যেও স্পষ্টভাবে বিভক্তি হাজির হয়।
দুই বছরে নয় ব্লগার হত্যাঃ দুই বছরে প্রকাশ্যে ও গোপনে নয়জন ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের পর সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক বা টুইটারে হত্যাকারীরা হত্যার দায় স্বীকার করে স্ট্যাটাসও দিয়েছে। এসব স্ট্যাটাসে প্রত্যেকটি হত্যাকান্ডের কারণ হিসেবে ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কটূক্তি অথবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার অভিযোগ দেখানো হয়েছে।

৩০ মার্চ সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বেগুনবাড়ি দিপীকার ঢাল এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে যাওয়ার পথে ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা থেকে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিজ্ঞানমনষ্ক লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ব্লগার অভিজিৎ রায়কে টিএসসি এলাকায় কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অভিজিৎ। তিনি মুক্তমনা ব্লগ চালাতেন।

২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ১২ মে পর্যন্ত সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক, ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশসহ নয়জন ব্লগার নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন।

ব্লগার হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত যে কয়েকজনকে আটক করা গেছে তাদের বেশিরভাগের সঙ্গে কোনো না কোনো জঙ্গি সংগঠনের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ত্রি-স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই জনাকীর্ণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খুন হন ড. অভিজিৎ রায়।

২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কবি নজরুল ইসলাম হলে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্লগার আরিফ রায়হান দ্বীপকে।

২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি অগ্রণী ব্যাংকের কর্মী ও ব্লগার জাফর মুন্সিকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তা ব্লগার রাজীব হায়দার শোভনকে বাসায় ফেরার পথে রাজধানীর পল্লবীর কালশীর পলাশনগরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্লগার মামুন হোসেন, ২ মার্চ ব্লগার জগৎজ্যোতি তালুকদার ও ব্লগার জিয়াউদ্দিন জাকারিয়া বাবুকে হত্যা করা হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ২০১৬সাল, বুধবার ( ৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার পরে রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকায় অজ্ঞাত দুবৃত্তদের চাপাতি ও গুলির আঘাতে নিহত হন নিজামুদ্দিন সামাদ।

৩ মার্চ ২০১৮ সালে প্রাণ নাশের আঘাত করে সিলেটে শাবিপ্রবিতে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল কে। ড. জাফর ইকবাল ওপর হামলা হয় সিলেট শাবিপ্রতি । চিকিৎসাধীন সিলেট ওসমানি মেডিকেল হতে উন্নত চিকিৎসার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নেয়া রাজধানীতে, গুরুতর আহত অধ্যাপক জাফর ইকবালকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখতে যান সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।


Shares