প্রচ্ছদ


রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে জানানো হয় শেষ সম্মান

08 March 2018, 13:31

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 363 times.

মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী শেষ বিদায় নিলেন জাতীয় পতাকায় মোড়া কফিনে শুয়ে । রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে জানানো হয় শেষ সম্মান ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় তার কফিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আসা হলে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদের নেতৃত্বে এই মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

এরপর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে শুরু হয় শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন । বন্ধু, স্বজন, সহযোদ্ধা আর ভক্তদের শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে ওঠে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর কফিন।

কিডনি ও হৃদরোগের জটিলতা নিয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার মৃত্যু হয় প্রিয়ভাষিণীর। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত এই মুক্তিযোদ্ধার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ মঙ্গল ও বুধবার রাখা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলের হিমঘরে। তার ছোট ছেলে কাজী মহম্মদ শাকের তূর্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরলে বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হয় শেষযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা।

বেলা ১১টায় এই সংগ্রামী নারীর কফিন নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসেন তার মেয়ে রত্নেশ্বরী প্রিয়দর্শিনী, ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনী, ছেলে কারু তিতাস ও কাজী শাকের তূর্য।

রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “নির্যাতিত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার যে ত্যাগ, তা নতুন প্রজন্মের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার ভাস্কর্য শিল্পচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, শিল্প পেয়েছে এক নতুন মাত্রা।”

প্রিয়ভাষিণী জীবনভর যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা ধারণ করে গেছেন, দেশের নতুন প্রজন্মও সেই ধারায় শামিল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন কাদের।

শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে এসেছিলেন জাসদ, বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারাও।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বলেন, “সাহস থাকলে যে সব বাধা অতিক্রম করা যায়, তার উদাহরণ ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। তার উপর বারবার আঘাত এসেছে, কিন্তু তিনি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তিনি জীবনভর লড়াই করে গেছেন।”

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সবার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জানাজার জন্য প্রিয়ভাষিণীর কফিন নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে।

বিকালে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের কবরের জন্য নির্ধারিত স্থানে সমাহিত করা হবে একাত্তরের এই যোদ্ধা মাকে।

আগামী ১০ মার্চ বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর স্মরণে নাগরিক শোকসভার আয়োজন করবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।


Shares