প্রচ্ছদ


বিধ্বস্ত বিমান : নির্মাতার পক্ষের অনুসন্ধানে নেপালে

14 March 2018, 12:10

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 330 times.

বোম্বারডিয়ার নির্মিত কিউ-৪০০ বা ড্যাশ-৮ বৃহৎ প্রপ উড়োজাহাজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চলছে । কোম্পানিটি এ পর্যন্ত ৯০টি দেশে ৫০০’র বেশি কিউ-৪০০ উড়োজাহাজ সরবরাহ করেছে ।  বোম্বারডিয়ারের বৃহৎ কিউ-৪০০ প্রপ উড়োজাহাজের ৮৬ যাত্রী পরিবহনের ক্ষমতা রয়েছে । এ উড়োজাহাজ বোম্বারডিয়ারের টরন্টো শহরের অদূরে ডন্সভিউ-এর কারখানায় নির্মাণ করা হয়ে থাকে ।  কারখানাটিতে প্রায় ৩,৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করে।  বোম্বারডিয়ারের এই উড়োজাহাজই ছিল বাংলাদেশের বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে, যার সোমবার নেপালের কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়ে অর্ধশত নিহত হন । দুর্ঘটনার জন্য বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে বৈমানিকের ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে: বিষয়টি তদন্ত করছে নেপাল সরকার।

জনপ্রিয় হলেও যান্ত্রিক বা কারিগরি, বিশেষ করে ল্যান্ডিং গিয়ারের ক্ষেত্রে, ত্রুটির কারণে কিউ-৪০০ উড়োজাহাজের বিভিন্ন দেশে দুর্ঘটনায় পড়ার নজির রয়েছে ।  ২০০০ সালে চলাচল শুরুর পর থেকে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় পড়েছে এ উড়োজাহাজ । তবে ন্যাথালি দাবি করেছেন, বাণিজ্যিকভাবে আঞ্চলিক যাত্রী পরিবহনের কাজে এ উড়োজাহাজ অত্যন্ত কার্যকর এবং নির্ভরযোগ্য ।

দুর্ঘটনা কবলিত ইউএস-বাংলার কিউ-৪০০ টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কানাডার মন্ট্রিয়েল-ভিত্তিক বোম্বারডিয়ার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে । এরই অংশ হিসেবে একজন ঊর্ধ্বতন তদন্ত কর্মকর্তাসহ দু’সদস্যের একটি দলের আজ সকালেই নেপালে রওয়ানা হওয়ার কথা কোম্পানির মুখপাত্র ন্যাথালি সিফেংফেট টরন্টো স্টারকে জানিয়েছেন ।

এয়ার কানাডা ছাড়াও কানাডার পোর্টার, ওয়েস্টজেট কোম্পানির বহরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিউ-৪০০ উড়োজাহাজ চলাচল করছে । এয়ার কানাডার বহরে ৪৪টি, ওয়েস্টজেটে ৪৪টি এবং পোর্টারের বহরে বর্তমানে ২৯টি কিউ-৪০০ উড়োজাহাজ রয়েছে ।

পর পর দু’দিন বোম্বারডিয়ারের দুটি বিমান দু’ দেশে বিধ্বস্ত হয়ে অর্ধ শতাধিক জন মারা গেল ।  কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হওয়ার ঠিক একদিন আগে ১১ মার্চ ইরানের পাহাড়ি এলাকায় বোম্বারডিয়ার নির্মিত চ্যালেঞ্জার বিজনেস জেট ১১ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় ।  তার আগে নিউ ইয়র্কের বাফেলো শহরের নিকটবর্তী স্থানে ২০০৯ সালে কিউ-৪০০ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ৫০ জন নিহত হন ।  কোলগান এয়ারের এ দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটির সতর্ক ব্যবস্থায় যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটেছিল এবং এর ফলে বৈমানিক পরিস্থিতি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং এটাই দুর্ঘটনার কারণ ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল ।

ল্যান্ডিং গিয়ারে সমস্যা দেখা দেয়ার কারণে ২০০৭ সালে জাপানে একটি কিউ-৪০০ বিমান জরুরি অবতরণ করে । এর এক সপ্তাহের মধ্যে জাপানে আরেকটি ছোট কিউ-৪০০ বিমান অবতরণ করার সময় ল্যান্ডিং গিয়ারের স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যায় । তবে এ দু’টি ঘটনায় কোনো প্রাণহানি হয়নি ।

একই বছর ডেনমার্কে একটি কিউ-৪০০ বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার অকার্যকর হয়ে পড়লে এটি জরুরি অবতরণ করে এবং এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হন । এরপর দেশটির স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্স ২০০৭ সাল থেকে কিউ-৪০০ বিমান ব্যবহার বন্ধ করে দেয় । একই বছরে দক্ষিণ কোরিয়ায় আরেকটি কিউ-৪০০ বিমানের রাডার ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিলে সেটি একটি স্থাপনায় আঘাত করে ।



Shares