প্রচ্ছদ


ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনার দায় কার?

14 March 2018, 12:13

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 308 times.

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত সোমবার দুপুরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড় চলছে। কার কী ধরনের ভুলের কারণে দুর্ঘটনা- এ নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। বিমানকর্র্মী ও তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন ক্যাপ্টেন ও কাঠমান্ডু এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) মধ্যে সমন্বয় না হওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া উড়োজাহাজে ত্রুটি কিংবা মেশিনে ভুল রিডিংও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন একাধিক পাইলটসহ অভিজ্ঞ মহল। বিশেষ করে নেপালের ওই বিমানবন্দর রানওয়ের ‘টু জিরো’ প্রান্তটি অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রায় সব এয়ারলাইন্সই তা পরিহার করে চলে। এমনকি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও টু জিরো এড়িয়ে চলে। ইউএস-বাংলারও রানওয়ের এই প্রান্ত ব্যবহারের কথা নয়। বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর একটি ‘ত্রিভুবনের’ ‘জিরো টু’ প্রান্ত অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ। ইউএস-বাংলারও এই প্রান্ত ব্যবহার করার কথা। তাহলে কেন ইউএস-বাংলার পাইলট আবিদ সুলতান টু জিরো প্রান্তে নামতে গেলেন সে প্রশ্নেরও জবাব মিলছে না। অন্যদিকে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার কারণে (ওই দিনই তিনটি) পাইলট অনেকটা ক্লান্ত হয়ে পড়ায় এবং ফ্লাইট পরিচালনা ও এটিসির মধ্যে একাই সমন্বয় করার চেষ্টাও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন নিহত আবিদ সুলতানের সহকর্মীরা।

সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলার বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় যাত্রী, পাইলট এবং ক্রু মিলিয়ে ৭১ জন ছিলেন। এর মধ্যে ৫০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের ২৬ জন রয়েছেন। সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন ২১ জন। তাদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সিইও আসিফ ইমরান দুর্ঘটনার আগে বিমানের ক্যাপ্টেন ও কাঠমান্ডু এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) মধ্যকার কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন, বিমান বন্দরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাইলটকে ভুল বার্তা দেয়া হয়েছিল বলে তারা আশঙ্কা করছেন। কাঠমান্ডু এটিসির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পুরনো বলেও দাবি করেন তিনি।

সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান বলেছেন, ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা তদন্তের আগে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা তদন্ত কবে নাগাদ শেষ হবে, তা নির্দিষ্ট করা বলা মুশকিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নেপাল টাওয়ারের সঙ্গে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির পাইলটের কথোপকথনের রেকর্ড অ্যানালাইসিস করা হচ্ছে। এ ছাড়া ব্লু্যাকবক্সের তথ্য উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠালে তারা তথ্য উদ্ধার করতে পারবে। তখন অনেক তথ্য বের হয়ে আসবে। কোনো কিছুই গোপন থাকবে না।

বেসরকারি বিমান ওনার্স এন্ড পাইলট এসোসিয়েশনের সভাপতি নাসির মজুমদার ভোরের কাগজকে বলেন, পাইলট, টাওয়ার কন্ট্রোল রুম ও বিমানের মেশিন রিডিং ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। বিশেষ করে পাইলট যখন নামার জন্য টাওয়ার কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করেন, তখন রানওয়ের টু জিরো (দক্ষিণ প্র্রান্ত) দিয়ে নামার সংকেত চান। তাকে অপেক্ষা করতে বলার পর সংকেত দেয়া হয়। এর অল্পক্ষণ পর টাওয়ার থেকে তাকে প্রশ্ন করা হয় তিনি কোন প্রান্ত দিয়ে নামবেন? টু জিরো নিশ্চিত করার পরও কন্ট্রোল রুম থেকে এ প্রশ্ন করার পরই সব ওলট-পালট হয়ে যায়। পাইলট টাওয়ার কন্ট্রোলে জানান তিনি জিরো টু দিয়ে (উত্তর প্রান্ত) নাম চান। টু জিরো ও জিরো টু নিয়ে পাইলট ও টাওয়ার কন্ট্রোল এক প্রকার বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে। বিমানটি রানওয়ে স্পর্শ করার আগ মুহূর্ত এমন কথোপকথনের পর ঘটে বিপত্তি। নাসির মজুমদার বলেন, উড়োজাহাজের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। তদন্তে বেড়িয়ে আসবে টাওয়ার কন্ট্রোল রুম, পাইলটের মধ্যে সমন্বয় না হওয়ায় নাকি মেশিন রিডিং ভুল হওয়ায় বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ে ঘেরা বিমানবন্দরটিতে এমনিতে বিমান ওঠানামা ঝুঁকিপূর্ণ বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ পাইলট এসোসিয়েশনের (বিপিএ) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গত রাতে জানান, ত্রিভুবন বিমানবন্দরের টু জিরো প্রান্ত সংকীর্ণ হওয়ায় বেশ কয়েক বছর ধরে ওই প্রান্ত দিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারওয়েজ, ইত্তেহাদ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সসহ ১৫-২০টি এয়ারলাইন্সের কোনো বিমান ওঠানামা করে না। ওই প্রান্তেই পিআইএ এবং থাই এয়ারওয়েজের দুটি বিমান এর আগে দুর্ঘটনা কবলিত হয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, সেখানে নেপালের ছোট ছোট বিমান অবতরণ করে থাকে। তারা তাদের টেকনিক্যাল সাইডটা বোঝেন। তিনি বলেন, অপারেশন ম্যানুয়াল অনুযায়ী টু জিরো প্রান্ত দিয়ে ইউএস-বাংলার ওই বিমানটি নামার কথা নয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের গাফিলতি রয়েছে। এ ছাড়া সবকটি বিমানে একজন পাইলট ফ্লাইট পরিচালনা করেন এবং একজন কো-পাইলট বিমানবন্দরে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। ইউএস-বাংলার ক্ষেত্রে তা হয়নি। পাইলট আবিদ সুলতান একাই দুটি কাজ করেছেন। দুদিকে নজর রাখতে গিয়ে তিনি অনেকটা বেসামাল হয়ে যেতে পারেন। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, পাইলট আবিদ সুলতান সোমবার দিনে দুই দফায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেন। এর আগে রবিবার রাতে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইউএস-বাংলা থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। সোমবার রাতে ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেকটা জোর করেই তাকে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। মানসিকভাবে অস্বস্তিতে থাকা এবং অনেকটা ক্লান্ত ছিলেন আবিদ সুলতান। ডিউটি টাইম নিয়ে উদাসীনতার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সিভিল এভিয়েশন অথরিটির দায়িত্বহীনতায় এসব হচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, উড়োজাহাজ বাতাসের বিপরীত পাশে অবতরণ করে থাকে। নামতে না পারলে নিজ দেশে ফিরে আসবে। কিন্তু ইউএস-বাংলার ক্ষেত্রে তা হয়নি।

বাংলাদেশ বিমান অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জহিরুল হক বলেছেন, বিমান দুর্ঘটনার অনেক কারণ থাকতে পারে। যান্ত্রিক ত্রুটি বা ক্যাপ্টেনের ভুলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ইউএস-বাংলার এ ক্ষেত্রে পাইলটের ভুল বা গাফিলতি ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। সব কিছু তদন্তে বেড়িয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

আগেও দুর্ঘটনায় পড়ে বিমানটি : একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইউএস-বাংলার বিমানটি আগেও দুর্ঘটনায় পড়েছিল। ২০১৫ সালে সৈয়দপুরে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনাকবলিত এ বিমান। আহত হন ১০ যাত্রী। এভিয়েশন নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে এমন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সে বছর ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ৭৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে যায় ইউএস-বাংলার বোম্বারডিয়ার ড্যাশ-৮ বিমানটি। বিমানবন্দরের সিগন্যালে ত্রুটি থাকায় বিমানটি সে দিনও যেদিক থেকে অবতরণের কথা ছিল তা না করে উল্টো দিক দিয়ে অবতরণ করে। এতে পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারালে বিমানটি রানওয়ের বাইরে ছিটকে পড়ে এবং সামনের চাকা নরম মাটিতে দেবে যায়। চাকাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ত্রিভুবনেও বিমানটি একই রকম ভুল করে, যেদিক থেকে অবতরণের কথা ছিল সেদিক থেকে না নেমে পাইলট উল্টো দিক থেকে প্লেনটি অবতরণ করান।

‘আন্তর্জাতিক বিমান চিহ্নিতকরণ’ সূত্র মতে, বোম্বারডিয়ার ড্যাশ-৮ বিমানটি ১৭ বছর ২ মাসের পুরনো। ডি হ্যাভাল্যান্ড কানাডার এ বিমান ২ ইঞ্জিনবিশিষ্ট প্রপেলার চালিত। ইউএস-বাংলায় যুক্ত হওয়ার আগে এ বিমানটি ৭ বার বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে হাতবদল হয়। ৬ দফা রেজিস্ট্রেশন হয় বিভিন্ন নামে।

বিমানটি প্রস্তুত হওয়ার পর ২০০১ সালের এপ্রিল মাসে এটি প্রথম কিনেছিল বোম্বারডিয়ার ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্স। ঠিক পরের মাসেই এটি ভাড়ায় নিয়ে নেয় এসএএস স্কেন্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্স। এর দেড় বছর পর এটি আবার ফেরত আসে বোম্বারডিয়ার ক্যাপিটালের কাছে। এরপর ২০০৫ সালের অক্টোবরে আবার ভাড়া নেয় রয়েল জর্ডানিয়ান এয়ারলাইন্স। সেখানে চলে ৩ বছর। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে বিমানটি ফেরত আসে বোম্বারডিয়ারের কাছে। সে বছর মে মাসে বিমানটি আবার ভাড়া নেয় অক্সবার্গ এয়ারওয়েজ। ওই বিমান সংস্থার কাছ থেকে ২০১৪ সালের মে মাসে বিমানটি আসে ইউএস-বাংলায়। ১৭ বছর ধরে যান্ত্রিক ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে বিমানটি বেশ বড় সময় ধরে গ্রাউন্ডেড ছিল।

ফ্লাইট রক্ষণাবেক্ষণে ছিল অনিয়ম : নেপালে সোমবার ইউএস-বাংলার ফ্লাইট দুর্ঘটনা নিয়ে সিভিল এভিয়েশনের একজন সিনিয়র প্রকৌশলী জানান, ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ উড়োজাহাজগুলো তৈরি হয় সাধারণত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করার জন্য। এ ধরনের ফ্লাইট আন্তর্জাতিক রুটে চলার ব্যাপারে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অথরিটির আপত্তি রয়েছে বলে জানা যায়।

ফ্লাইটটি প্রচণ্ড শব্দ করে কাঁপার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানের এক প্রকৌশলী বলেন, এর প্রধানতম কারণ হতে পারে ‘ইলেকট্রনিক প্রবলেম’। সঠিকভাবে ইঞ্জিন বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণেই সেটি কাঁপতে পারে এবং একপর্যায়ে পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারান। তারা ফ্লাইটগুলোর মোটেও রক্ষণাবেক্ষণ করেন না। নিয়ম হলো কোনো ফ্লাইট ৭২ ঘণ্টা আকাশে ওড়ার পর হ্যাঙ্গারে নিয়ে ‘এ চেক’ করাতে হয়। কিন্তু তাদের তো কোনো হ্যাঙ্গারই নেই।

ইউএস-বাংলার জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলাম গত রাতে বলেন, তারা আন্তর্জাতিক রুটের অনুমোদন নিয়েই অপারেট করেন। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছেন। ফ্লাইটটি সাধারণত অবতরণ করার কথা রানওয়ের (২নং প্ল্যাটফর্ম) দক্ষিণ পাশ দিয়ে। কিন্তু পাইলট উত্তর দিক থেকে অবতরণ করতে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় প্রচণ্ড শব্দে ফ্লাইটটি কাঁপছিল। তাদের টেকনিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি জানান।

কী আছে ব্লু্যাকবক্সে : বিমান দুর্ঘটনার বিষয়টি এখন তদন্ত করছে ‘ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি’। তারা দেখবে দুর্ঘটনার আগে এবং সেই মুহূর্তে পাইলট কী কী কথোপকথন চালিয়েছেন। তার সব রেকর্ড রয়েছে ব্লু্যাকবক্সে। ব্লু্যাকবক্সটি রাত ৮টা পর্যন্ত কী অবস্থায় আছে তা জানাতে পারেননি ইউএস-বাংলার জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলাম। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ব্লু্যাকবক্সটি হেফাজতে নেয়া হয়েছে কিনা তা আমরা জানতে পারিনি। পাইলট ককপিট থেকে ঢাকার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এবং ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে কী কী আলাপ করেছেন তা ব্লু্যাকবক্সে রেকর্ড রয়েছে। টেকনিক্যাল টিম প্রস্তুত আছে সেখানে যাওয়ার জন্য। কিন্তু বিশেষ কারণে তাদের যাত্রা বিলম্ব হচ্ছে।

সৌজন্যে ভোরের কাগজ।


Shares