প্রচ্ছদ


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শিশু-কিশোর মেলার সফল সমাপ্তি

21 March 2018, 11:35

নিজস্ব প্রতিবেদক
Share
This post has been seen 186 times.

১৭ মার্চ শনিবার বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জ্যাকসন হাইটস্থ পিএস ৬৯ স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল নিউ ইয়র্কে জন্ম-নেয়া বা বেড়ে-ওঠা প্রজন্মের দায়িত্বে ও নেতৃত্বে নিউইয়র্ক বইমেলার অংশ হিসেবে আয়োজিত শিশু-কিশোর মেলা ২০১৮। উল্লেখ্য, ২৭ বছর ধরে নিউইয়র্ক বইমেলার অংশ হিসেবে আয়োজিত শিশু-কিশোর মেলা ২০১৭ থেকে ভিন্ন দিনে আলাদাভাবে আয়োজিত হচ্ছে। ২৬ তম সেই শিশু-কিশোর মেলার আহ্বায়ক ছিলেন নিউ ইয়র্কে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ হাসান ফেরদৌস। নতুন প্রজন্মের সেমন্তী ওয়াহেদের নেতৃত্বে ও পরিচালনায় ২০১৮-র বইমেলা উপলক্ষে এই আয়োজনটি সেদিন সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে গেল।

১৭ মার্চ ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিন উপলক্ষে দিনটি বাংলাদেশের জাতীয় শিশু দিবস হিসাবে উদযাপতি হয়। ঐতিহাসিক এই দিনটির তাৎপর্যের সঙ্গে নিউইয়র্ক প্রবাসী নতুন প্রজন্মের কর্মধারাকে সম্পৃক্ত রাখতেই মুক্তধারা ফাউন্ডেশন শিশু-কিশোর মেলার আয়োজনটিকে বাংলাদেশের জাতীয় শিশুদিবস উদযাপনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে!

নতুন প্রজন্মের সেমন্তী ওয়াহেদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রজন্মের শতাধিক শিশু-কিশোরের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নাচ-গান-কবিতা আবৃত্তির প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ছিল বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে বিশেষ পরিবেশনা। সারা দিনের আয়োজনের সবগুলো পর্বেই যারা তাদের উদ্যম ও উৎসাহের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে তারা দলটিকে ‘The Team’ হিসেবেই বিবেচনা করবার অভিপ্রায় প্রকাশ করেছে। সেই Team-এর সদস্যরা অনুষ্ঠান শেষে সম্মিলিত ভাবে মঞ্চে এসে হয়ে উপস্থিত সুধীবৃন্দকে স্বাগত জানায়। তারা হলো: মাইশা, বিরসা, বহতা, তাসনিম, নাদিম, নাভিদ, তন্মনা, তূর্য, শ্রুতিকণা, কৈশী, কাব্য, লামিয়া, চন্দ্রিমা, মযূরী, অধরা, উদিতা, মৌলী, শ্যামা, সুস্বনা, নাদিয়া, শ্রাবণী, দ্যুতি, ইভান, অন্তরা, স্মৃতি, অনকা, রহো, বিপ্র, যুবায়ের, হৃতিক, মৌমী ও শ্যাম।

মুক্তধারা ফাউন্ডেশন বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিজ্ঞাপনী সংস্থা সূত্র কার্যালয়ে নতুন প্রজন্মের এই কর্মীরা নিজেদের প্রস্তুতি সংক্রান্ত সকল কর্যক্রম সম্পন্ন করে। নিজেদের ব্যবস্থাপনাতেই সম্পন্ন করে মঞ্চে তাদের বিশেষ পরিবেশনার পরিকল্পনা ও মহড়া । ১৭ মার্চ শনিবার জ্যাকসন হাইটসের ‘পিএস সিক্সটি নাইন-স্কুল’ মিলনায়তনের দিনব্যাপী উদযাপনের মধ্য দিয়ে তাদের সকল পরিশ্রম সম্পন্নতা পায়। বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ, কুইজ শো, বিজয়ীদের পরিবেশনা, স্লাইড শো, সঙ্গীত ও নৃত্য, আবৃত্তি, অভিভাবকদের সঙ্গে কথোপকথন প্রভৃতি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিশু মেলার আহ্বায়ক সেমন্তী ওয়াহেদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, মুক্তিযোদ্ধা-বিজ্ঞানী ও নিউজার্সীর কাউন্সিলম্যান ড. নুরান নবী। মূলধারার রাজনীতিক ড. নীনা আহমেদ স্বয়ং উপস্থিত হতে না পারলেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য রাখেন এবং নতুন প্রজন্মের তিন প্রতিনিধির প্রশ্নের উত্তর দেন।

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মের অংশ গ্রহণে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের এই আয়োজন কমিউনিটিতে ব্যাপক সাড়া ফেলে। নিউ ইয়র্ক মুক্তধারা বইমেলার উদ্যোক্তা বিশ্বজিত সাহা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘নিউ ইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকার বাঙালির সাংস্কৃতিক সত্তার বিকাশের ইতিহাসে আমাদের চোখের আড়ালেই নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে গেছে। নতুন প্রজন্ম তাদের সাংস্কৃতিক উত্তারধিকার নিজেরাই বহন করে নেয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।’ বইমেলা তথা শিশুকিশোর মেলার আয়োজনে সাংগঠনিকভাবে যুক্ত কথাসাহিত্যিক ফেরদৌস সাজেদীন বলেন, ‘এবারের আয়োজন আমি নির্ভার মনে উপভোগ করতে পারছি। আমরা নিশ্চিন্ত যে আমাদের প্রজন্মের চোখ বোজার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের সংস্কৃতিচর্চা এখানে নিঃশেষিত হয়ে যাবে না। আগের বারের শিশুকিশোর মেলার আহ্বায়ক হাসান ফেরদৌসকে প্রসন্ন মনে স্ত্রী রানু ফেরদৌসকে নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দেখা গেছে। এক পর্যায়ে তিনি বিশ্বজিত সাহাকে বলছিলেন, ‘আমার জন্যে করণীয় কিছুই তো রাখেনি ওরা! সবই তো ওরা করে ফেলছে। সেজন্যে আমি দেরি করে এসেছি।

হলভর্তি দর্শকের করতালিতে মুখরিত ছিল প্রতিটি পর্বের পরিবেশনায়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাঝেই সামান্য বিরতি দিয়ে শিশু-কিশোরদের অংশ নেয়া বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের গলায় পদক পরিয়ে কিংবা সনদপত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীদেরও তখন মঞ্চে ডেকে নেয়া হয়!

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক সেমন্তী ওয়াহেদ জানান, মূলধারার পাশাপাশি বাংলা-ভাষা ও সংস্কৃতি প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই তাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি সপরিবারে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

সৌজন্যে ভোরের কাগজ।

Share


Shares