প্রচ্ছদ


স্বৈরতান্ত্রিক দেশ বাংলাদেশ?

24 March 2018, 17:06

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 373 times.

স্বৈরতান্ত্রিক দেশ বাংলাদেশ ? জার্মানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বেথোসম্যান স্টিফটুং গণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তিতে ১২৯টি দেশের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ’। সেই তালিকায় ৭১টি দেশকে গণতান্ত্রিক ও ৫৮টিকে স্বৈরতান্ত্রিক বিবেচনা করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশকে স্বৈরতান্ত্রিক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বেথোসম্যান স্টিফটুংয়ের গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১২ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গণতন্ত্র ও সুশাসনের অবস্থা স্মরণকালের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থায় ঠেকেছে। একসময় মুক্তচিন্তার পরিবেশ থাকা দেশগুলোর সরকারও ক্রমশ কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠছে।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চালানো জরিপের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, পাঁচটি দেশে গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদণ্ডও অনুসরণ করা হচ্ছে না। সেই দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, লেবানন, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া ও উগান্ডা।

এর আগে ২০১৬ সালে বিশ্বের ৭৪টি দেশকে গণতান্ত্রিক ও ৫৫টি দেশকে গণতন্ত্রহীন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল একই প্রতিষ্ঠান।

সর্বশেষ গবেষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে কার্যকর গণতন্ত্র আছে উরুগুয়ে, এস্তোনিয়া ও তাইওয়ানে। আর গণতন্ত্র তলানিতে রয়েছে সোমালিয়া, ইয়েমেন ও সিরিয়ায়। গণতান্ত্রিক অবস্থার বিবেচনায় ১২৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ও রাশিয়া যৌথভাবে ৮০ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ৯৮ নম্বরে। মিয়ানমার ১০৪ নম্বরে। অন্যদিকে ভারত ২৪ ও শ্রীলঙ্কা আছে ৪১ নম্বরে।

প্রতিবেদনে তুরস্কের ‘গণতন্ত্রহীনতা’র কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের প্রতিবেদনের পর তুরস্কেই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বেশি অবনমন হয়েছে। দেশটিতে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ব্যাপক হারে খর্ব করেছেন।

সর্বশেষ প্রতিবেদনে আর্জেন্টিনা, মরিশাস ও উরুগুয়ের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রশংসা করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৬ সালের প্রতিবেদনে ‘মধ্যম মাত্রার স্বৈরতান্ত্রিক’ আখ্যা পাওয়া বুরকিনা ফাসো ও শ্রীলঙ্কাকে এবারের প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশ বলা হয়েছে।

বেথোসম্যান স্টিফটুং ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। তাদের সর্বশেষ তালিকায় উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের কিছু দেশ, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে রাখা হয়নি। এসব দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে উন্নত বিবেচনা করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, স্বৈরতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আছে ৩৩০ কোটি মানুষ। আর গণতান্ত্রিক শাসনের অধীনে রয়েছে ৪২০ কোটি লোক।


Shares