প্রচ্ছদ


দৈহিক সুস্থতার কোন বিকল্প নেই !

25 March 2018, 04:48

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 897 times.

বহ্নি চক্রবর্তীঃ কথায় বলে- সুস্থ দেহ সুন্দর মন কথাটা সর্বাংশেই সত্য। দৈহিক সুস্থতার কোন বিকল্প নেই। একটা নিরোগ সুস্থ-সুঠাম সতেজ কর্মঠ দেহের সাথে মানসিক ভ্রান্তিহীন চাপ নিরপেক্ষ মনের রাখীবন্ধন ঘটলেই কেবল কাঙ্ক্ষিত সুন্দর পরিচ্ছন্ন জীবনের নিশ্চয়তা মেলে।

শারীরিক ব্যায়াম যেমন কর্মঠ করে তুলে ঠিক তেমন মনের ব্যায়াম মানুষ কে অনন্য মানুষে রূপান্তরিত করে তুলে। ইয়োগা’ (Yoga) মূলত সংস্কৃত শব্দ। বাংলায় ‘যোগ’। যার অর্থ গ্রন্থিভূক্ত করা বা সমন্বয় সাধন করা। কিসের সমন্বয় সাধন? হটযোগ শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ীদেহযন্ত্রগুলোর কর্মক্ষমতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করে স্নায়ুতন্ত্রের পূর্ণ পরিচর্যার মাধ্যমে মনোদৈহিক সম্পর্কসূত্রগুলোকে প্রকৃতিগতভাবেই একাত্ম করা। ঐটা শাস্ত্রীয় ভাষা, আমার ভাষায় বলি তাহলেই বুঝবেন। ইয়োগা হচ্ছে এমন এক প্রাকার ব্যায়াম যা স্নায়ুতন্ত্রে সাথে দেহ ও মনের সমন্বয় সাধন করে। তাই ইয়োগা প্রাক্টিস করা প্রত্যেকের জন্যই জরুরি দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে। প্রশিক্ষক ছাড়া ইয়োগা, জিম আ্যারোবিক, জুম্বা (zumba) মেডিটেশন।
গুরু ছাড়া যেমন দীক্ষাদান হয় না ঠিক তেমনি
অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক ছাড়া নিজে নিজে করতে গেলে হিতে বিপরীত হয়।

যত টুকু জানতে পেরেছি অদিতি’স ওর্য়াল্ড এই দুইটি ক্ষেত্র সমান ভাবে প্রাধান্য দিয়ে সাজিয়েছে – দক্ষ প্রশিক্ষক এর মাধ্যমে দ্য ফিটনেস অফ আর্ট সেন্টার।

আমরা আশা করি প্রত্যকটি বিভাগীয় শহরে অদিতি’স ওর্য়াল্ড ছড়িয়ে পড়ুক উপকৃত হোক সাধারণ মানুষ।

সুস্থ থাকতে হলে জানতে হবে ব্যায়াম সম্পর্কে।

জিম:
From the most trusted man in fitness comes the most trusted brand in the history.

জিম মানেই হলো ব্যায়াম। সঠিক প্রশিক্ষক বেছে নেয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার পেশী বিল্ডিং তথা শরীরচর্চার প্রথম ধাপ সঠিক ভাবে শুরু করতে পারবেন। ব্যায়াম অবশ্যই শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক রাখবে । আর নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করলে আপনার হার্ট বড় ও সুগঠিত হবে। জিমের যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার ও পাশাপাশি কিছু নিয়ম কানুন মেনে জিম করতে হবে। তবেই কেবলমাএ এ থেকে সুফল আসবে। তাই মেনে চলুন জিম করার নিয়ম কানুন-। প্রত্যেকের জন্যই জরুরি।

অ্যারোবিক:
আ্যারোবিক শব্দের অর্থ ‘উইথ অক্সিজেন’ অ্যারোবিক ওয়ার্ক-আউটের ফলে শরীরে, অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ে, হার্ট, ফুসফুস, ব্লাড ভেসেল অথাৎ সমগ্র কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম ভালো রাখে। অ্যারোবিক এক্সারসাইজ মূলত শরীরের বড় মাংসগুলোকে টার্গেট করে। নিয়মিত এক্সারসাইজে হার্টবিটে রক্ত পাম্প করতে পারে। ফলে শরীরের টিসুতে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন পৌঁছে সহজেই। এতে ফিটনেস লেভেল বেড়ে যায়। আর তার জন্য হাঁপানি ছাড়াই অনেকক্ষণ এক্সারসাইজ করতে পারেন।চিরাচরিত এক্সসারসাইজ মানেই বেশ কষ্টদায়ক। ধরে নেওয়া যাক এক্সসারসাইজ করা হল অথচ বোঝাও গেল না যে এক্সসারসাইজ করলাম আর তার সাথে পাওনা হিসাবে পাওয়া গেল ভীষণ আনন্দ আর একটা সুন্দর স্লিম ফিগার! স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে তো? কিন্তু এটা স্বপ্ন নয় একদম বাস্তব কথা। আজ একটা ভিন্ন ধরনের এক্সসারসাইজের কথা বলব যা আপনার কাছে এক্সসারসাইজের সংজ্ঞাটাই বদলে দেবে।

জুম্বা (zumba)
আমরা সবাই কম বেশি নাচ করতে ভালোবাসি। এরকমই একটা এক্সসারসাইজ আছে যার নাম হল জুম্বা (zumba)।
এটি হল এমন এক ধরনের এক্সসারসাইজ যার মূল ভিত্তি হল নাচ। এটির উৎপত্তি হল ল্যাটিন আমেরিকাতে আর এটা বেশ জনপ্রিয়ও বটে। সারা পৃথিবীতে প্রায় ১৮৫ টি দেশে জুম্বা প্রচলিত। এটা একাধিক নাচের সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে যেমন সালসা, চাচাচা, মাম্বো, ফ্লামেঙ্কো,সাম্বা কিছু এরাবিক মুভমেন্ট ইত্যাদি। আপনি ভাবছেন যে কীভাবে এইসব নাচ করবেন? চিন্তার কোন কারণ নেই। জুম্বা এক্সসারসাইজ সমস্ত রকম বয়স ও বিভিন্ন লেভেল যেমন বিগেনার, অ্যাডভানস ইত্যাদির কথা ভেবেই তৈরি করা হয়েছে।

সাধারণত ১ ঘণ্টার জুম্বা ক্লাসে ৮০০ ক্যালরি লুজ করা যায়। অর্থাৎ খুব সহজেই শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলা যাবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই। শুধু শারীরিক নয় মানসিক দিক থেকেও জুম্বা খুব উপকারী। সঠিকভাবে জুম্বা করা গেলে মোটামুটি এক সপ্তাহে প্রায় ১ থেকে ২ কিলো পর্যন্ত ওজন কমানো যাবে।

মেডিটেশন হচ্ছে মনের ব্যায়াম:

নীরবে বসে সুনির্দিষ্ট অনুশীলন বাড়ায় মনোযোগ, সচেতনতা ও সৃজনশীলতা। মনের জট যায় খুলে। সৃষ্টি হয় আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। হতাশা ও নেতিবাচকতা দূর হয়। প্রশান্তি ও সুখানুভূতি বাড়ানোর পাশাপাশি ঘটে অন্তর্জাগৃতি।

প্রাচ্যের সাধনা আর আধুনিক বিজ্ঞানের নির্যাসে সঞ্জীবিত প্রক্রিয়া। সাধকদের সাধনা ও মনোবিজ্ঞানের প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের ফলে সহজে মেডিটেটিভ লেভেলে পৌঁছে আত্মনিমগ্ন হওয়া যায়। গভীর আত্মনিমগ্নতা আত্মশক্তির জাগরণ ঘটায় ভেতর থেকেই। আর অন্তরের জাগরণ বদলে দেয় জীবনের বাকি সবকিছু।

মেডিটেশন হলো সচেতনভাবে দেহ মন এবং মস্তিষ্ককে শিথিল করার আধুনিক বৈজ্ঞানিক এবং সহজ প্রক্রিয়া। মেডিটেশনের মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীরকে শিথিল এবং মন ও মস্তিককে প্রশান্ত করতে পারি। ফলে টেনশন অস্থিরতা মুক্ত হয়ে আমরা সচেতনভাবে দেহ-মনে সুখানুভূতি তৈরি এবং সবসময় তা উপভোগ করতে পারি। দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি কাজ করতে পারি আনন্দ নিয়ে, পেতে পারি সহজ সাফল্য। অর্থাৎ শারীরিক মানসিক বৈষয়িক প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রশান্তিতে থাকার জন্যে, মেডিটেশন হচ্ছে দেহমনে সে অবস্থা সৃষ্টির একটি সহজ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।

যেমন, টেনশন। মেডিটেশনের প্রথম লাভই হলো টেনশনমুক্তি। বলা হয় টেনশন ও শিথিলায়ন একসাথে থাকতে পারে না। যে শরীরে টেনশন থাকে, সে শরীরে শিথিলায়ন থাকে না। আর শিথিল হলে টেনশন পালিয়ে যায়। আর আমরা এখন জানি, মনোদৈহিক ৭৫ ভাগ রোগের কারণই টেনশন। তাই মেডিটেশন করলে আপনি অনায়াসেই শতকরা ৭৫ ভাগ মনোদৈহিক রোগ যেমন মাইগ্রেন, সাইনোসাইটিস, ঘাড়ে-পিঠে-কোমরে বা শরীরের যেকোনো স্থানে দীর্ঘদিনের ব্যথা, হজমের সমস্যা, আইবিএস, এসিডিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, অনিদ্রা প্রভৃতি রোগগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। বা হলে নিরাময় হতে পারবেন। আর অন্যান্য রোগ নিরাময়েও ওষুধ ও সার্জারির পাশাপাশি সুস্থ জীবন-দৃষ্টি এবং মেডিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি মেডিটেশন করার মাধ্যমে শিখবেন অখণ্ড মনোযোগ ও অল্পসময়ে পড়া আয়ত্ত করার টেকনিক। একজন গৃহিণী হিসেবে আপনি মেডিটেশন করে পাবেন সুখী পারিবারিক জীবন যাপনের আনন্দ। একজন পেশাজীবী হয়ে সবসময় মাথা ঠান্ডা রেখে আপনি নিতে পারবেন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। আর একজন সফল মানুষ হওয়ার জন্যে মেডিটেশনে মনছবি চর্চা করে আপনি আপনার জীবনের যেকোনো চাওয়াকে পরিণত করতে পারেন স্বতঃস্ফূর্ত পাওয়ায়।

আর ইবাদত/ উপাসনায় একাগ্রতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আত্মিক আধ্যাত্মিকভাবে আপনি অগ্রসর হতে পারেন ধ্যানের পথ ধরে। এভাবে একটি প্রশান্ত মন, সুস্থ জীবন ও কর্মব্যস্ত সুখী জীবন যাপনের জন্যেই আপনার আমার সবার প্রয়োজন মেডিটেশন করা।

লক্ষ্য টাকা খরচ করি আমরা ডাক্তারের কাছে গিয়ে একটু সচেতন হলে বোধ হয় নিজে রা সুস্থ থাকতে পারি।
পরিবার কে নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে পারি।
হাজার হাজার টাকা খরচ করি দামী গহনা শাড়ীর পিছনে। রুচি থাকলে অল্প টাকায় নিজে কে সাজিয়ে তুলা যায়। একবার বডি ফিটনেস চলে যায় লক্ষ্য টাকা খরচ করে সুস্থ দেহ ফিরে পাওয়া যায় না। সময় গেলে সাধন হয় না।

অদিতি’স ওর্য়াল্ড ৭/৮ বছরের বাচ্চা দের নিয়ে খুব শীঘ্রই ইয়োগা ক্লাস শুরু করতে যাচ্ছে। যা কিনা এই প্রথম কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কাজ করবে। আমরা তাদের সফলতা কামনা করি।

১৫ মার্চ ছিলো অদিতি’র জন্মদিন ছিলো মাত্র ১৬ বছর  বয়সে অদিতি’র প্রয়াণ হয়…তার স্মৃতি’কে ধরে রাখতে  মা মুক্তা দেব এবং অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল অঞ্জন কুমার দেব’র ছোট মেয়ে অদিতি’র স্মরণে মুক্তা দেব রাজধানীর গুলশানের ৩৪ নং রোডের বাসা নং ১৩
গড়ে তুলেন ‘অদিতি’স ওয়ার্ল্ড – দ্য আর্ট অব ফিটনেস সেন্টার’।মুক্তা দেব দীর্ঘ বিশ বছর যাবত এই পেশার সাথে সম্পৃক্ত।তবে এই নামে যাত্রা শুরু হবার আগে থেকেই এই ফিটনেস সেন্টারে জয়া আহসানের নিয়মিত যাতায়াত। বেশ সখ্যতাও ছিলো প্রয়াত অদিতি’র সঙ্গে। যে কারণে গেলো ১৫ মার্চ অদিতির জন্মদিনে অদিতি’স ওয়ার্ল্ডের আনুষ্ঠানিক যাত্রায় অনেকের মতো জয়া আহসানও অংশগ্রহণ করেন। সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য অভিনেতা আল মামুন সহ আরো অনেকে।


Shares