প্রচ্ছদ


কারিগরি শিক্ষার উপর শিক্ষামন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

16 April 2018, 10:49

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 389 times.

কারিগরি শিক্ষাকে আরও জনপ্রিয় করার উপর গুরুত্বারোপ করে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এম. পি. বলেছেন কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়।
মাননীয় মন্ত্রী রবিবার ঢাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত ‘ঝউএ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঞঠঊঞ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘স্কিলস এ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (ঝঞঊচ)’ এর সহায়তায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এম.পি. ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মানিত মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) জনাব মো: আবুল কালাম আজাদ।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শিক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার, কিন্তু কারিগরি শিক্ষা হলো অগ্রাধিকারের অগ্রাধিকার”।
তিনি বলেন, আমাদের সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নের চেষ্ঠা করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীর হার অনেক কমিয়ে এনেছে। মেয়েদের শিক্ষায় আমাদের সরকার ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
অতীতে কারিগরি শিক্ষাকে মর্যাদার চোখে দেখা হত না, কিন্তু এখন মেয়েরাও কারিগরি শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, মন্ত্রী যোগ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ডিজিটাইজেশনের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যুগোপযোগী জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন, শিক্ষা প্রশাসনের আধুনিকায়ন, ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল পুনর্গঠন এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন কলকারখানার মালিকরাই কারিগরি শিক্ষার সিলেবাস তথা পাঠ্যসূচী নির্ধারন করবে। কলকারখানার মালিকরা বলবে ওনারা কি চান আমরা সেই অনুযায়ী সিলেবাস তৈরী করব যাতে পাশ করে কেউ বেকার না থাকে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে ভিশন ২০২১ অর্জন করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে জনপ্রিয় করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মাননীয় মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার দেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিনত করার যে লক্ষ্য ঠিক করেছে তা অর্জনের জন্য মানসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের কোন বিকল্প নেই।
আমরা ইতোমধ্যে কারিগরি শিক্ষায় ১৪% এর অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিত করেছি। সরকার এই হার ২০২০ সালের মধ্যে ২০% ও ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০% করার জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দু’টি বিভাগে ভাগ করেছে। সেইসাথে প্রতি উপজেলায় একটি টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, আরও ২৩টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ৮টি মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজ স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
আমি আশা করি সরকারের এই সকল উদ্যোগ দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে ইতিবাচক ভ’মিকা রাখবে। দক্ষ জনশক্তিই পারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী কেরামত আলী এম.পি. বেশী বেশী কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বেসরকারী উদ্দোক্তাগণকে সরকারিভাবে অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য সহায়তা প্রদানের উপরও জোর দেন।
তিনি বলেন, দেশে কারিগরি শিক্ষার জোয়ার শুরু হয়েছে, আর তাই বেসরকারী উদ্যোগে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রতিযোগিতা চলছে।
তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে সরকার ৮ম শ্রেণী থেকে কারিগরি শিক্ষার দুই-একটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করার চিন্তা করছে।
তিনি আরো বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে আমাদের কুটির শিল্পের মত ঘরে ঘরে গড়ে তুলতে হবে। কারন উন্নত সকল দেশ কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে উন্নতি করেছে। আমাদেরকেও উন্নতি করতে হলে কারিগরি শিক্ষায় উন্নত হতে হবে। আর এজন্য আমাদেরকে এখন থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি কারিগরি শিক্ষার উন্নতির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। কারণ প্রশিক্ষিত শিক্ষকের মাধ্যমে যে প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠে, তারাই পারে একটি দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে।
অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জনাব মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, কারিগরি শিক্ষার যুগোপযোগী উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। এই কর্মশালায় প্রাপ্ত মতামত ও পরামর্শ ওয়েব সাইটের মাধ্যমে দেশবাসীর মতামতের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে এবং সে মোতাবেক আগামী মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ আলমগীর, সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেসন্স অফিসার ড. মোখলেছুর রহমান এবং আইডিইবির সভাপতি জনাব এ কে এম এ হামিদসহ সরকারি-বেসরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পকারখানার মালিক, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


Shares