প্রচ্ছদ


থিয়েটার মুরারিচাঁদ’র স্মরণে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

18 April 2018, 01:37

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 362 times.

১৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার)। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। রচিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস।
এই ঐতিহাসিক দিনকে স্মরণ করে মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ পরিবার মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কলেজের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে দিনটি পালন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ প্রফেসর নিতাই চন্দ্র চন্দ বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর সালেহ আহমদ, দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আজাদ আতিকুর রহমান।
শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মো. তোতিউর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, সহযোগি অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষকবৃন্দ,বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করার তিন সপ্তাহ পর বৈদ্যনাথতলা নামে পরিচিত ওই বিশাল আমবাগান এলাকাকেই পরে ‘মুজিবনগর’ নাম দিয়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হয়েছিল। বাংলাদেশকে পাক হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত করতে মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।

একাত্তরের ১৭ এপ্রিলের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী এবং ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে মন্ত্রিসভার সদস্য করে স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠন করা হয়।

পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে করা হয় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। এ দিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ও অনুমোদন হয়। আওয়ামী লীগের চিফ হুইফ দিনাজপুরের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. ইউসুফ আলী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।

সেদিনের ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশ-বিদেশের সাংবাদিকের উপস্থিতিতে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ও শপথ অনুষ্ঠান সফলভাবে শেষ হয়েছিল মেহেরপুর ও মুজিবনগরের এক ঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর সহযোগিতায়। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে বিপ্লবী সরকারের মন্ত্রিপরিষদের আনুষ্ঠানিক শপথ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও মুক্তিবাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

থিয়েটার মুরারিচাঁদ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসকে স্মরণ করে।


Shares