প্রচ্ছদ


নাগরিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

15 February 2019, 22:47

নিজস্ব প্রতিবেদক
This post has been seen 384 times.

বিশ্বের সকল নাগরিকের জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসাবে ডব্লিউএইচও-এর স্বাস্থ্য বিষয়ক এসডিজি অর্জনে আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী আজ মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনের ৫৫তম সংস্করণে ‘হেলথ ইন ক্রাইসিস-ডব্লিউএইচও কেয়ার্স’ বিষয়ক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তৃতা করছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং এ বছরের কম বয়সী শিশু ও ৬৫ বছরের অধিক বয়সের লোকদের জন্য বিনা খরচে স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-৩ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি কার্যকর, ফলদায়ক আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘ইবোলা, কলেরা ও যক্ষ্মার মতো সংক্রামক রোগ পুনরায় বিশ্বব্যাপী দেখা দিয়েছে, ফলে বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পরিবর্তন প্রয়োজন’।
বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ ছয় শতাধিক নীতি-নির্ধারক, চিন্তাবিদ, ব্যবসায়ীসহ সমাজের অগ্রাগামী শ্রেণির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে ৫৫তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন।

শুক্রবার দুপুরে মিউনিখের হোটেল বাইরিশার হফে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন নিরাপত্তা সম্মেলনের চেয়ারম্যান ভুলফগ্যাং ইশিংগার।

স্নায়ুযুদ্ধের পটভূমিতে ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে এই সম্মেলন বিশ্ব নিরাপত্তা ও বিভিন্ন পরিবর্তনের প্রেক্ষিত নিয়ে আলোচনা করে আসছে। গত পাঁচ দশকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতি নিয়ে বিতর্কের জন্য মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রেখে চলেছে।

এর আগে ২০১৭ সালে মিউনিখ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের অংশগ্রহণ ছিল সেবারই প্রথম।

তিনদিনের এই নিরাপত্তা সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিনিধিরা মানব সভ্যতার বর্তমান ও আগামী দিনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেবেন।

সম্মেলনে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যৎ এবং ডিফেন্স পলিসি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি থাকবে বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার বিষয়টিও। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের বিষয়ও আলোচনায় থাকছে এবারের সম্মেলনে।

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিসহ ইউক্রেন, রোমানিয়া, আফগানিস্তান ও রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট, কাতারের আমির, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্যসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।

৪০টিরও বেশি দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নেটোসহ বিভিন্ন জোট ও সংস্থার প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।

এছাড়া রাশিয়া, ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, ফিলিপিন্সসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

নিরাপত্তা সম্মেলনের চেয়ারম্যান ভুলফগ্যাং ইশিংগারের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও বক্তব্য দেন।

এবার নিরাপত্তা সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নিরাপত্তা হুমকি ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে দুটি সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা তার আলোচনা পর্বে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলবেন।

শুক্রবার সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এবং ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন আয়োজিত ‘হেলথ ইন ক্রাইসিস-হু কেয়ার্স’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাঝে ২০১৭ সালের নোবেলবিজয়ী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস-আইসিএএনের নির্বাহী পরিচালক বিয়াট্রিস ফিন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর ফাতোও বেনসুদা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

পাশাপাশি সিমেন্স এজির প্রেসিডেন্ট ও সিইও জোয়ে কাইজার এবং ভেরিডোস জিএমবিএইচের প্রধান নির্বাহী হ্যান্স উল্ফগাং কুনজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ভেরিডোস জিএমবিএইচ বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট বাস্তবায়ন করছে।

এই সফরে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাবকারী সিমেন্সের সঙ্গে জয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট চুক্তি হতে পারে বলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট বোর্জ ব্রেন্ডি এবং জিগসর সিইও জারেড কোহেনের দেওয়া যৌথ নৈশভোজেও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার ‘ক্লাইমেট চেইঞ্জ অ্যাজ এ সিকিউরিটি থ্রেট’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।

নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদান শেষে ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি আবুধাবি সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। সংযুক্ত আরব আমিরাতে চতুর্দশ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে (আইডিইএক্স-২০১৯) অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি।


Shares